সারা বাংলা খুলনা ঝিনাইদহ
ঘুষ না পেয়ে মানবপাচার মামলায় জালিয়াতি বাদী ও সাক্ষীদের স্বাক্ষর জাল করে মামলার ফাইনাল রিপোর্টের অভিযোগ।
২৬ বাংলা টিভি 23-Jul-2026 15
ঘুষ না পেয়ে মানবপাচার মামলায় জালিয়াতি বাদী ও সাক্ষীদের স্বাক্ষর জাল করে মামলার ফাইনাল রিপোর্টের অভিযোগ। দুষ্ট লোক পুলিশ বিভাগে থাকবে না--ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : কম্বোডিয়ার ক্যাসিনোতে মানব পাচারের শিকার দুই প্রবাসীর মামলায় খোদ তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চরম জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু থানায় দায়েরকৃত মামলাটিতে আসামিদের বাঁচাতে বাদী ও সাক্ষীদের স্বাক্ষর জাল করে আদালতে মিথ্যা চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোঃ নাহিদুর রহমান।
এই নজিরবিহীন জালিয়াতির বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী ও দুই মামলার বাদী হরিণাকুন্ডু উপজেলার ফলসি গ্রামের মোশাররফ হোসেনের ছেলে মোঃ হাবিবুল্লাহ বাশার এবং একই গ্রামের চাঁদ আলীর ছেলে রাশেদুল ইসলাম ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি, দুর্নীতি দমন কমিশন ও ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবসহ উচ্চপর্যায়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হরিণাকুণ্ডুর হাবিবুল্লাহ বাশার ও রাশেদুল ইসলামকে ১৩ লাখ টাকা নিয়ে কম্বোডিয়া পাঠিয়ে একটি ‘চাইনিজ ব্ল্যাক ক্যাসিনো’ কোম্পানিতে বিক্রি করে দেয় পাচারকারী চক্রের সদস্য কুলবাড়িয়া গ্রামের শরিফুল জোয়ারদার ও তার স্ত্রী জলি বেগম ও ছেলে সাজিদ জোয়ারদার। সেখানে জিম্মি রেখে নির্যাতনের পর তাদের পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ হাতিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তারা দেশে ফিরে বিজ্ঞ মানব পাচার দমন ট্রাইব্যুনালে পিটিশন মামলা নং- ৩৪/২০২৬ ও ৩৫/২০২৬ দায়ের করলে আদালতের নির্দেশে হরিণাকুণ্ডু থানায় গত ৬ মে তারিখে নিয়মিত দুইটি মামলা রুজু হয়, যার মামলা নং- ০৭/২৬ ও ১১/২৬।
মামলার তদন্তভার পেয়েই দুর্নীতিবাজ ও অনৈতিক কাজে সিদ্ধহস্ত এসআই নাহিদুর রহমান সঠিক প্রতিবেদন দেওয়ার বিনিময়ে বাদীর কাছে সরাসরি দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। এ সংক্রান্ত একটি অডিও বাদীর কাছে আছে। ঘুষ দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে তিনি আসামিদের সাথে আপস রফার জন্য বাদীদের চাপ দেন। বাদীরা এই অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গত ৩০ জুন আদালতে একটি সম্পূর্ণ বানোয়াট ও মিথ্যা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন ওই কর্মকর্তা। চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের ফলে ঘটনার দিনই আসামীরা জামিন পেয়ে যান।
ভুক্তভোগী দুই প্রবাসি একই বিমানে পাশাপাশি সিটে দেশে ফিরলেও চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা ইচ্ছাকৃত ভাবে হাবিবুল বাসারের সিট নং বিএস-৩২৬ ও রাশেদুল ইসলামের সিট নয় বিএস-৩৪৬ নং উল্লেখ করেন।
এছাড়া গত ৩০ জুন মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করার সময় মামলার তদন্ত ফলাফল জানিয়ে বাদীকে যে পত্র দেওয়া হয় সেখানে বাদী রাশেদুলের এবং সাক্ষি হাফিজ, মিন্টু ও মিল্টনের সাক্ষর জাল করা হয়। সাক্ষি মিল্টনের পিতা ওয়াজ্জেদ আলী হলেও চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ইচ্ছাকৃত ভাবে পিতার নাম ইবাদত মন্ডল লেখা হয়।
ভুক্তভোগী হাবিবুল্লাহ বাশার ও রাশেদুল ইসলাম জানান, তারা ঝিনাইদহ পুলিশ সুপারের কাছে এই দুর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং কোনো নিরপেক্ষ সংস্থার মাধ্যমে মামলাটি পুনরায় তদন্তের দাবি জানান।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হরিণাকুন্ডু থানার এসআই মোঃ নাহিদুর রহমান বলেন, মানব পাচার মামলা প্রমান করতে হলে টাকা পয়সা লেনদেনের ডকুমেন্ট থাকতে হয়। কিন্তু হাবিবুল্লাহ ও রাশেদুল ইসলাম তা দিতে পারেনি। তিনি দুই লাখ টাকার ঘুষের প্রস্তাব অস্বীকার করেন। তবে আসামী ধরতে পাঁচ হাজার টাকা দাবীর কল রেকর্ডের কথা জানালে তিনি চুপ থাকেন এবং রাজনৈতিক নেতাদের দিয়ে সংবাদ প্রকাশে বাধা সৃষ্টি করেন।
বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সুপার মিয়া মোহম্মদ আশিস বিন্ হাছান জানান, লিখিত অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, পুলিশ বিভাগে দুষ্ট লোক থাকবে না। ব্যক্তির দায় কখনো পুলিশ বিভাগ গ্রহন করবে না বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন।
এদিকে বুধবার অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ অফিস। তদন্তের স্বার্থে প্রতারণার শিকার দুই প্রবাসীকে পুলিশ সুপারের অফিসে ডাকা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতারণার শিকার হাবিবুল্লাহ বাশার।
news@26banglatv.com