সারা বাংলা খুলনা চুয়াডাঙ্গা
চুয়াডাঙ্গার স্বর্ণ ছিনতাই এজাহার নাটকের শিকার জীবননগরের শ্রমজীবী মানুষ,চোরাকারবারী-অফিসার ইনচার্জ মামুন হোসেন বিশ্বাস বেপরোয়া
২৬ বাংলা টিভি 13-Nov-2025 70
চুয়াডাঙ্গার স্বর্ণ ছিনতাই এজাহার নাটকের শিকার জীবননগরের শ্রমজীবী মানুষ,চোরাকারবারী-অফিসার ইনচার্জ মামুন হোসেন বিশ্বাস বেপরোয়া
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে স্বর্ণ চোরাকারবারী ও জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ মামুন হোসেন বিশ্বাসের ভুয়া স্বর্ণ ছিনতাই এজাহার নাটকের বলি হচ্ছে গোটা জীবননগরের শ্রমজীবী মানুষ। জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ মামুন বিশ্বাস এ থানায় যোগ দেয়ার পর থেকে তার অবৈধ টাকা উপার্জনের নেশায় ধরেছে। এই নেশা এতটাই তাকে অচেতন করে রেখেছে যে, তিনি হিতাহিত জ্ঞান হারা হয়ে গেছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিকাল ৫টায় জীবননগর উপজেলা শহরের মুক্তমঞ্চে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা মানববন্ধনের পর এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথাগুলো বলেন।
ভুক্তভোগী জীবননগর উপজেলার সীমান্তবর্তী নতুনপাড়া গ্রামের রাসেলের স্ত্রী তহমিনা লিখিত বক্তব্যে জানান,গত ২ নভেম্বর'২৫ গোয়ালপাড়া গ্রামে একটি স্বর্ণ ছিনতাইয়ের কল্প কাহিনী বানানো হয়। ওই কল্প কাহিনী ১০ নভেম্বর'২৫ জীবননগর থানায় মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। মামলার বাদী ঢাকা তাঁতিবাজারের মা বুলিয়ন স্টোর এ্যান্ড সিলভার বিক্রি প্রতিষ্ঠানের মালিক আনন্দমোহন বসাক লেনের বাসিন্দা মরহুম আব্দুল মজিদ শেখের ছেলে স্বর্ণ ব্যবসায়ী দাবীদার আকিদুল ইসলাম। তিনি মামলার এজাহারে স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন, আঁশতলাপাড়ার মরহুম জুরন মন্ডলের শাহাজামাল তার কর্মচারী হিসেবে গত ৩ বছর কাজ করছে। জীবননগর উপজেলা শহরে এসবি জুয়েলার্সের চাহিদা মত স্বর্ণ তার মাধ্যমে পাঠানো হলে ওই স্বর্ণ ছিনতাই হয়ে যায়। আবার তিনি এজাহারে উল্লেখ করেছেন, এসবি জুয়েলার্সের মালিক সজীবের কাছে স্বর্ণগুলো পাঠানো হয়েছিল। সজিবের স্বর্ণের দোকান জীবননগর পৌরসভা শহরের মোল্লা মার্কেটে। এজাহারে উল্লেখ করা ঘটনাস্থল থেকে ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার দুরে। পশ্চিমে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত। এখন প্রশ্ন হচ্ছে,বাদীর পাঠানো স্বর্ণ এসবি জুয়েলার্সে পৌঁছে না দিয়ে স্বর্ণ বহনকারী শাহাজামাল ৪-৫ কিলোমিটার দুরে ভারত সীমান্তবর্তী গোয়ালপাড়ায় কি করতে গিয়েছিল ? গত ২ নভেম্বর প্রকাশ্য দিবালোকে গোয়ালপাড়ায় স্বর্ণ ছিনতাই হওয়ার পরপরই বাদী আকিদুল ইসলাম মামলা না করে কি উদ্দেশ্যে ৮ দিন কালক্ষেপণের পর মামলা করেছে তা প্রশ্নবিদ্ধ। আশ্চর্যের বিষয় স্বর্ণ ছিনতাই ঘটনার স্বাক্ষী করা হয় স্বর্ণ বহনকারী শাহাজামালের ছেলে মুরাদ ও আশঁতলাপাড়ার আব্দুল আওয়ালের ছেলে তার নাতী ছেলে সিফাতকে। অবৈধ স্বর্ণ চোরাকারবারী মাফিয়ারা ও জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ মামুন হোসেন বিশ্বাসের যোগসাজসে গোটা জীবননগর উপজেলা স্বর্ণ চোরাকারবারীদের অভায়ারণ্যের পরিণত হয়েছে। অতীতেও অনেক রেকর্ড আছে এরকম, এটিও তার বাইরে নয়, বাদী আকিদুল ইসলামের স্বর্ণ কেনাবেচার কোন লাইসেন্স আছে কিনা এবং এত পরিমাণ পাঁকা স্বর্ণ সীমান্ত এলাকায় এলো কিভাবে ? যাচাই-বাছাই না করেই মামলা নথিভুক্ত করলেন কোন অদৃশ্য কারনে অফিসার ইনচার্জ মামুন হোসেন বিশ্বাস ? এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট যে, কল্প কাহিনীর ছিনতাই ঘটনার বাদী ঢাকার আকিদুল ইসলাম, এসবি জুয়েলার্সের মালিক সজীব, মামলার সাক্ষী শাহজামাল এবং তার ছেলে মুরাদ, শাহাজামালের নাতী ছেলে সিফাত,জীবননগর পৌরসভা ৮ নং ওয়ার্ডের আঁশতলাপাড়ায় বসবাস করে দীর্ঘদিন ধরে চোরাকারবারীর সাথে জড়িত। নইলে একই পরিবারের ৩ জন গোয়ালপাড়ার স্বর্ণ ছিনতাই নামক স্থানে হাজির হলো কি করে ? বাদী আকিদুল এবং এসবি জুয়েলার্সের মালিক সজীব ও সাক্ষী ৩ জন ওসি মামুন জীবননগর মিলেই এই অবৈধ স্বর্ণ আত্মসাৎ করেছে তাদের অবৈধ উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য ? প্রতিনিয়তই সীমান্তবর্তী সাধারণ মানুষদের বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যে জীবন যাপন করতে হচ্ছে । যাদের নামে এজাহার করেছে তারা সকলেই নির্দোষ। তাদের মোবাইল লোকেশন যাচাই করলেই উঠে আসবে চাঞ্চল্যকর মামলায় ফাঁসানোর তথ্য ! স্বর্ণের দাবীদার আকিদুল, এসবি জুয়েলার্সের মালিক সজিব, সাক্ষীগণ শাহাজামাল ও তার ছেলে মুরাদ এবং তার নাতী ছেলে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ মামুন হোসেন বিশ্বাসের হোয়াটসঅ্যাপ বা মেসেঞ্জার অথবা মোবাইল ফোন কল তালিকা তুলে যাচাই হোক। তা না হলে ভুক্তভোগীরা তাদের বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গা আদালতে প্রতিকার চেয়ে করবে। সুষ্ঠু তদন্ত করে চোরাকারবারীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবী জানাচ্ছি আমরা। এজাহারে যাদের নাম উল্লেখ করা আছে এরা সকলেই নির্দোষ। আমরা তাদের নিঃশর্ত মুক্তি চাই, নইলে লাগাতার কর্মসূচি চলতে থাকবে। চোরাকারবারীদের অনুভূতির শক্তি বেশী, না খেটে খাওয়া দিনমজুর মানুষের অনুভূতির শক্তি বেশী। আপনারা সাংবাদিক আপনারা সমাজের আয়না ! জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ মামুন হোসেন বিশ্বাস, মামলার বাদী আকিদুল ইসলাম, সাক্ষীগণ, জুয়েলার্সের মালিক সজীবের বক্তব্য আপনারা স্পষ্ট ভাবে নিবেন। এটাই আমাদের কাম্য।
উল্লেখ্য,ঢাকা থেকে এক এডিশনাল আইজিপি এ মামলাটি নথিভুক্ত করার জন্য পুলিশ সুপারকে ফোন করে বলে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ মামুন হোসেন বিশ্বাস জানান।
news@26banglatv.com