সারা বাংলা রংপুর কুড়িগ্রাম
স্বেচ্ছাশ্রমে স্থানীয়দের ২০০ ফিট লম্বা বাঁশের সাঁকো নির্মাণ
২৬ বাংলা টিভি 25-Oct-2025 66
স্বেচ্ছাশ্রমে স্থানীয়দের ২০০ ফিট লম্বা বাঁশের সাঁকো নির্মাণ
কুড়িগ্রাম উত্তর প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে স্বেচ্ছাশ্রমে দুইশ ফিট লম্বা বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দাদের জনদুর্ভোগ লাঘবে গত ১৫ দিন যাবত এই সাঁকো নির্মাণ করছেন।
দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে সেতু নির্মাণতো দুরের কথা সরকারি ভাবে সাঁকোটি ভালো করে নির্মাণের ব্যবস্থা না করায় চরম দুর্ভোগের শিকার হয় দুই পাড়ের হাজারো মানুষ। প্রতি বছর দুই পাড়ের বাসিন্দারা সাঁকোটি পূর্ণ নির্মাণ করে কোনো রকমে চলাচল করছেন।
বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পারাপারে চরম দুর্ভোগের শিকার হন দুই পাড়ের বাসিন্দারা। সে সময় কেউ ব্যবহার করেন ছোট ডিঙি নৌকা, আবার কেউ পার হন কলাগাছের ভেলায়। এতে করে প্রায়ই দুঘর্টনা ঘটে জানান ভুক্তভোগীরা।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত শিমুলবাড়ী এলাকায় করিমের ঘাটে বারোমাসিয়া নদীর উপর নির্মিত ২০০ ফুট লম্বা বাঁশের সাঁকোটি বিভিন্ন অংশে ভেঙে যাওয়ায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়লেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন দুই পাড়ের মানুষ। ভারী বস্তা বা পণ্যসামগ্রী পারাপার করতে হিমশিম খাচ্ছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে নারীসহ স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা সতর্কভাবে পারাপার হলেও অনেক সময় দুর্ঘটনার শিকার হন।
বছরের পর বছর স্থানীয়রা সেতুর দাবি করে আসলেও ২৫ বছরও পারাপারে নির্মাণ করা হয়নি। গত এক মাস আগেই জরাজীর্ণ ভাঙা সাঁকোটির চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। গত এক মাস পর চরম ভোগান্তি নিয়ে কেউ কেউ ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো দিয়ে পারাপার করছেন। আবার কেউ কেউ নদী সাঁতরিয়ে পারাপার হন। কেউ আবার ডিঙি নৌকায় পারাপার করছেন।
দীর্ঘ এক মাসে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সারা না পেয়ে স্থানীয় নবিউল ইসলাম, ওবায়দুল হক সেফাত, মিন্টু, নাকাই চন্দ্র, বেলালসহ দুই পাড়ের বাসিন্দাদের নিজস্ব উদ্যোগে গত ১৫ দিন ধরে বাঁশের সাঁকোর পূর্ণ নির্মাণের কাজ শুরু করায় দুই পাড়ের বাসিন্দাদের মাঝে স্বস্তির নিঃশ্বাস বইছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নবিউল ইসলাম ও ওবায়দুল হকের নেতৃত্বে গত ১৫ দিন থেকে স্থানীয় সেফাত আলী, মিন্টু মিয়া, নাকাই চন্দ্র রায়, বেলাল হোসেন ও, বয়দুল ইসলাম বাঁশের সাঁকো তৈরির কাজ করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা নবিউল ইসলাম, ওবায়দুল হক ও রাজু আহমেদ জানান, গত এক আগে নদীর স্রোত ও উজান থেকে পানির সাথে কচুরি পানা আসায় সাঁকোটি বিভিন্ন অংশে ভেঙে যাওয়ায় আমাদের দুই পাড়ের বাসিন্দাদের মাঝে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। দুই পাড়ের বাসিন্দারা আমরা যুগের পর যুগ চরম দুর্ভোগ সহ্য করে আসছি। যেন দেখার কেউ নেই। আমরা প্রতিদিন ভয়ে ভয়ে সাঁকো দিয়ে পার হই। ভাঙাচুরা জায়গুলো পার হতে গিয়ে মনে হয় এই বুঝি ভেঙে যায়। অনেকে ঝুঁকি না নিয়ে নদী সাঁতরিয়ে পারাপার করছেন। তারা আরও জানান
আমাদের এমন দুদর্শা দেখে কেউয়ে পাশে নেই।বাধ্য হয়ে নিজ উদ্যোগে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাঁশ সংগ্রহ সাঁকোটির নির্মাণের কাজ শুরু করেছি। এই নির্মাণের কাজ আরও ২০ দিনের মতো সময় লাগতে পারে।
মৎস ব্যবসায়ী আতাউর রহমান রতন বলেন, সাঁকোটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২০০ ফুট। এই সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার মানুষ পারাপার করে। প্রতিবছর আমরা নিজেদের উদ্যোগে সাঁকোটি পারাপারের উপযোগী করি। এই নদীতে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। ব্রিজ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: হাছেন আলী জানান, যেহেতু স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাকো নির্মাণ করছে। এটা খুবই ভালো উদ্যোগ। আমি ব্যক্তিগত ভাবে সেখানে সহযোগিতা করবো। পাশাপাশি স্থানীয়রা যাতে সরকারি ভাবে কিছু বরাদ্দ পায় বিষয়টি গুরুত্বসহকারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
news@26banglatv.com