আন্তর্জাতিক
টিউলিপ সিদ্দিকের বিচার নিয়ে ব্রিটিশ আইনজীবীদের তীব্র সমালোচনা
২৬ বাংলা টিভি 03-Dec-2025 43
টিউলিপ সিদ্দিক। ছবিঃ সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
যুক্তরাজ্যের কয়েকজন শীর্ষ আইনজীবী বাংলাদেশে টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে বিচারকে “মিথ্যা এবং অন্যায্য” বলে নিন্দা জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে সাবেক জাস্টিস সেক্রেটারি এবং সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেলও আছেন।
টিউলিপ সিদ্দিক চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্যের সিটি মন্ত্রীর পদ ছাড়েন। তার অনুপস্থিতিতে হওয়া বিচারে এরই মধ্যে বাংলাদেশের একটি আদালত তাকে ২ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছে।
এই রায় নিয়ে টিউলিপ সিদ্দিক জানান, তাকে কখনো নির্দিষ্ট অভিযোগ জানানো হয়নি এবং কোনো সরকারি নথিও দেয়া হয়নি, যেখানে অভিযোগের তথ্য উল্লেখ আছে।
হ্যাম্পস্টেড ও হাইগেটের লেবার এমপি টিউলিপ সিদ্দিক বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি। শেখ হাসিনাকে কয়েক সপ্তাহ আগে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার পর আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা বাড়ছে।
টিউলিপ সিদ্দিকের সমর্থকদের মতে, শেখ হাসিনার সঙ্গে তার সম্পর্কের কারণেই তাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার মুখোমুখি করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের আইনজীবীদের উদ্বেগ
লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনার আবিদা ইসলামকে লেখা এক চিঠিতে স্যার রবার্ট বাকল্যান্ড কেসি, ডমিনিক গ্রিভসহ যুক্তরাজ্যের কয়েকজন বড় আইনজীবী বলেন, সিদ্দিকের বিরুদ্ধে পুরো আইনি প্রক্রিয়া ন্যূনতম নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার ছাড়াই চলছে।
তাদের দাবি, সিদ্দিককে অভিযোগ জানানো হয়নি, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া হয়নি, এমনকি কোনো আইনজীবীর সহায়তাও পাওয়া সম্ভব হয়নি। তারা বিচারপ্রক্রিয়াকে অস্বচ্ছ, ত্রুটিপূর্ণ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডবহির্ভূত বলে আখ্যা দেন।
লেবার পার্টির অবস্থান
নজরদারি বাড়ার পর লেবার পার্টির একজন মুখপাত্র বলেন, টিউলিপ সিদ্দিক মৌলিক আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। দেশি ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আইনজীবীরাও বলেছেন যে তিনি কোনো ন্যায়সংগত আইনি প্রক্রিয়ার মুখ দেখেননি। তার আইনজীবীরা বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার অভিযোগের বিস্তারিত জানতে চাইলেও কখনো কোনো তথ্য পাননি।
দলের একজন মুখপাত্র বলেন, অভিযোগের মুখোমুখি হলে যেকোনো মানুষের আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার থাকে, কিন্তু টিউলিপ সিদ্দিককে সে সুযোগ দেয়া হয়নি। তাই লেবার পার্টি এই রায়কে স্বীকৃতি দিতে পারবে না।
আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে টিউলিপ সিদ্দিককে ঘিরে যেসব মন্তব্য করা হয়েছে, তা নিরপেক্ষ বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তারা মনে করেন, তাকে অনুপস্থিতিতে বিচার করার মতো যৌক্তিক কারণ নেই এবং পুরো প্রক্রিয়াই আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের মানদণ্ড পূরণ করছে না।
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদনার আশঙ্কা
বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে এই মামলাটি সামনে আসায় আন্তর্জাতিক নজর আরও বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, টিউলিপ সিদ্দিকের বিচার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও তাদের পরিবারকে চাপের মুখে ফেলার বড় চক্রের অংশ। অভিযোগ গোপন রাখা এবং প্রক্রিয়াগত নিয়ম না মানা এসব সন্দেহকে আরও জোরদার করেছে।
লেবার পার্টির সদস্যপদ বহাল
দলের অভ্যন্তরীণ নিয়ম অনুযায়ী টিউলিপ সিদ্দিকের সদস্যপদ পর্যালোচনা করলেও লেবার পার্টি তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি। কারণ তাদের মতে, বাংলাদেশের বিচারপ্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচারের স্পষ্ট ঘাটতি আছে। তিনি এখনো পূর্ণ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং হাউস অফ কমনসে লেবার হুইপ বহাল রয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন
এই বিষয়ে যুক্তরাজ্যের কয়েকজন প্রভাবশালী আইন বিশেষজ্ঞ বলেন, এই বিচার আইনের মৌলিক শর্তই পূরণ করে না। তাদের মতে, সিদ্দিককে অভিযোগের প্রকৃতি জানানো হয়নি এবং তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও দেয়া হয়নি। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচারটি বাংলাদেশে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত মামলার ধারাবাহিকতার অংশ বলেই মনে হচ্ছে।
news@26banglatv.com