সারা বাংলা খুলনা ঝিনাইদহ
রাজা নেই, রাজ্য নেই—ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ঝিনাইদহ নলডাঙ্গা রাজবাড়ির সাত মন্দির
২৬ বাংলা টিভি 25-Jul-2026 10
রাজা নেই, রাজ্য নেই—ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ঝিনাইদহ নলডাঙ্গা রাজবাড়ির সাত মন্দির
শিপলু জামান ঝিনাইদহ : এক সময় এখানে ছিল রাজা, ছিল রাজপ্রাসাদ, সৈন্যবাহিনী আর চারপাশ ঘেরা পরিখা। রাজাকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে ছিল নদীর সঙ্গে সংযুক্ত গোপন সুড়ঙ্গও। সময়ের স্রোতে রাজপ্রাসাদ আর রাজবংশ হারিয়ে গেলেও ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে ঝিনাইদহের নলডাঙ্গা রাজবাড়ির সাতটি প্রাচীন মন্দির
ঝিনাইদহ সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং কালীগঞ্জ উপজেলা শহর থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার উত্তরে নলডাঙ্গা গ্রামের বেগবতী নদীর তীরে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক স্থাপনা।
পাকিস্তান আমলেই বিলীন হয়ে যায় রাজপ্রাসাদ। তবে কালীমাতা, লক্ষ্মী, গণেশ, দুর্গা, তারা, বিষ্ণু ও রাজেশ্বরী—এই সাতটি মন্দির এখনো বহন করে চলেছে হারিয়ে যাওয়া নলডাঙ্গা রাজবংশের গৌরবগাঁথা।
"২০০৭ সাল থেকে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ, জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় দানশীল ব্যক্তিদের সহায়তায় প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি মন্দির সংস্কার করা হয়েছে। একটি মন্দিরের কাজ আংশিক হয়েছে, আর দুটি এখনো সংস্কারের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য পর্যটক এখানে আসেন।"
ইতিহাস বলছে, প্রায় পাঁচশ বছর আগে বিষ্ণুদাস হাজরার হাত ধরেই নলডাঙ্গা রাজবংশের সূচনা। ১৫৯০ সালে মোঘল সুবেদার মানসিংহ তার আতিথেয়তায় সন্তুষ্ট হয়ে পাঁচটি গ্রাম দান করেন। সেই জমিদারি থেকেই গড়ে ওঠে নলডাঙ্গা রাজ্য।
পরবর্তীতে বিভিন্ন রাজা সময়ের পরিক্রমায় নির্মাণ করেন এই মন্দিরগুলো। তবে রাজা বাহাদুর প্রথম ভূষণ দেবরায়ের আমলেই এগুলো পূর্ণতা পায়।
১৮৭৯ সালে জমিদারির দায়িত্ব গ্রহণ করেন রাজা বাহাদুর প্রথম ভূষণ দেবরায়। ১৯১৩ সালে তিনি রাজা বাহাদুর উপাধি লাভ করেন।
শিক্ষার প্রসারে তিনি চালু করেন ইন্দু ভূষণ ও মধুমতি বৃত্তি এবং ১৮৮২ সালে প্রতিষ্ঠা করেন বর্তমান সরকারি নলডাঙ্গা ভূষণ বিদ্যালয়।
১৯৫৫ সালে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হলে হারিয়ে যায় নলডাঙ্গা রাজবংশের শেষ অধ্যায়।
"
গ্রামবাসী সুভাষ দাস বলেন এটি আমাদের এলাকার গর্ব। এখানে আরও সংস্কার ও পর্যটন সুবিধা বাড়ানো হলে দেশ-বিদেশ থেকে আরও বেশি মানুষ আসবেন এবং ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবেন।"
আজও প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত এমনকি বিদেশ থেকেও পর্যটকরা ছুটে আসেন ইতিহাসের এই নিদর্শন দেখতে।
তবে প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও কয়েকটি মন্দির এখনো সংস্কারের অপেক্ষায়।
এলাকাবাসী প্রশান্ত কুমার বলেছেন ইতিহাসবিদ ও স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সংরক্ষণ ও পর্যটন সুবিধা বাড়ানো হলে নলডাঙ্গা রাজবাড়ির এই সাত মন্দির দেশের অন্যতম ঐতিহাসিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে আরও সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে।
প্রান্ত কুমার (পুরোহিত)নলডাঙ্গা রাজবাড়ী মন্দির বলেছেন আমি নিয়মিত এই মন্দিরের দেখভাল করে থাকি
রাজা নেই, রাজপ্রাসাদও নেই। তবু শত বছরের ইতিহাস আর স্থাপত্য ঐতিহ্য বুকে ধারণ করে বেগবতী নদীর তীরে দাঁড়িয়ে আছে নলডাঙ্গা রাজবাড়ির সাতটি মন্দির। যথাযথ সংরক্ষণ হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও টিকে থাকবে বাংলার ইতিহাসের এই অনন্য স্মারক। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন বলেন নদীর ধারে অবস্থিত মন্দিরগুলি যাতে আরো সুন্দর করা যায় এটা নিয়ে কাজ করব খুব শীঘ্রই
news@26banglatv.com