সারা বাংলা খুলনা ঝিনাইদহ
মহেশপুরে জনবল সংকটে বন্ধ প্রায় মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিক, কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ।
২৬ বাংলা টিভি 15-Jul-2026 24
মহেশপুরে জনবল সংকটে বন্ধ প্রায় মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিক, কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ।
মহেশপুর (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা: প্রান্তিক খামারিদের দোরগোড়ায় প্রাণিসম্পদ চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সরকারের ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিক (এমভিসি) ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা যায়নি। কোটি টাকার অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামসমৃদ্ধ গাড়িটি সচল থাকলেও প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়া, বাজেট স্বল্পতা, জনবল সংকট ও প্রশাসনিক জটিলতায় নিয়মিত কার্যক্রম চালানো যাচ্ছে না, ফলে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাজারো খামারি এ সেবার প্রত্যাশিত সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সরকারের লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (এলডিডিপি)-এর আওতায় পাওয়া এই ক্লিনিকের মাধ্যমে পশুর রোগ নির্ণয়, প্রাথমিক চিকিৎসা, কৃত্রিম প্রজনন ও খামারিদের পরামর্শ প্রদানের পরিকল্পনা থাকলেও মাঠপর্যায়ে তা নিয়মিতভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়নি, কেননা উপজেলার অধিকাংশ খামারি প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে বসবাস করেন এবং অসুস্থ গবাদিপশু উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে নিয়ে আসা তাদের জন্য ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য। মহেশপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কে. এম. আসাদুজ্জামান জানান, তিনি সম্প্রতি যোগদানের পর নাটিমা ইউনিয়নে একদিন এই ক্লিনিকের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে, তবে প্রশাসনিক ও কারিগরি সীমাবদ্ধতার কারণে অন্যান্য ইউনিয়নে এখনো নিয়মিত সেবা সম্প্রসারণ করা যায়নি। তিনি বলেন, “অনেকেই মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিককে স্বতন্ত্র প্রকল্প মনে করেন, কিন্তু এটি মূলত এলডিডিপি প্রকল্পের আওতায় প্রাপ্ত একটি বিশেষ সুবিধা। ২০২৬ সালের জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর গাড়ি পরিচালনা, জ্বালানি ব্যয় ও জনবল ব্যবস্থাপনায় কিছু বাস্তব সমস্যা তৈরি হয়েছে, যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে।” তিনি আরও জানান, ক্লিনিকের To&E সম্পন্নকরণের মাধ্যমে জ্বালানি ব্যয় ও জনবলসংক্রান্ত সংকট নিরসনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সেবাটি আরও কার্যকরভাবে চালানো সম্ভব হবে। জনবল সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অনুমোদিত অর্গানোগ্রামে মোট ১১টি পদ থাকলেও বর্তমানে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, ভেটেরিনারি সার্জন, উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (কৃত্রিম প্রজনন) ও ড্রেসার পদে জনবল কর্মরত আছেন, বাকি পদ শূন্য থাকায় বিস্তৃত পরিসরে সেবা পরিচালনায় সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে; প্রয়োজনীয় জনবল, জ্বালানি ও লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে এ উদ্যোগ মহেশপুরের প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।” প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই ক্লিনিকের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ, খামার ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ, পুষ্টি পরামর্শ ও আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কেও দিকনির্দেশনা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে, যা চালু হলে উপজেলার প্রাণিসম্পদ খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। খামারিরা বলছেন, গবাদিপশু অসুস্থ হলে বর্তমানে দূর-দূরান্ত থেকে উপজেলা কার্যালয়ে নিয়ে যেতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হয়, ক্লিনিক নিয়মিত চালু হলে তারা নিজ বাড়িতেই সেবা পাবেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পের মেয়াদ শেষে এ সেবা যেন বন্ধ বা স্থবির না হয়, সে জন্য স্থায়ী বাজেট বরাদ্দ ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ জরুরি; প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে ক্লিনিকটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা গেলে মহেশপুরের হাজারো প্রান্তিক খামারি সরাসরি উপকৃত হবেন। বর্তমানে গাড়িটি সচল থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেছে, চলমান প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের খামারিরা নিয়মিতভাবে এ সেবার আওতায় আসবেন।
news@26banglatv.com