সারা বাংলা খুলনা নড়াইল
সন্তানকে হাফেজ বানানোর স্বপ্ন পূরণ হলো না লাজিনার, যৌতুকের দাবিতে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে দিল শ্বশুরবাড়ির লোকজন!
২৬ বাংলা টিভি 03-Jul-2026 32
সন্তানকে হাফেজ বানানোর স্বপ্ন পূরণ হলো না লাজিনার, যৌতুকের দাবিতে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে দিল শ্বশুরবাড়ির লোকজন!
মোস্তফা কামাল, নড়াইল: আদরের ফুটফুটে সন্তানকে পবিত্র কোরআনে হাফেজ বানানোর বুকভরা স্বপ্ন ছিল ২০ বছর বয়সী তরুণী গৃহবধূ লাজিনার। কিন্তু যৌতুকলোভী স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্মম নির্যাতন নিমেষেই কেড়ে নিল তার সেই স্বপ্ন আর প্রাণ। নড়াইলের কালিয়া উপজেলার চাঁচুড়ি নাঙ্গুলিয়া গ্রামে ঘটেছে এই হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ড।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরের দিকে লাজিনাকে শ্বাসরোধে হত্যা করার পর ঘটনাটি 'আত্মহত্যা' বলে চালিয়ে দিতে লাশ রান্নাঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যায় ঘাতকেরা। শুক্রবার (৩ জুলাই) নড়াইল জেলা হাসপাতাল মর্গে নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক দেখামধ্য দিয়ে কালিয়া উপজেলার পেড়লী গ্রামের মোজাম্মেল মল্লিকের মেয়ে লাজিনার সঙ্গে একই উপজেলার চাঁচুড়ি নাঙ্গুলিয়া গ্রামের আঃ রহমানের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের কোলজুড়ে আসে একটি পুত্রসন্তান। সন্তানকে মাদ্রাসায় পড়িয়ে হাফেজ বানানোর স্বপ্ন দেখতেন লাজিনা। কিন্তু প্রায় ৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে কখনোই সুখের মুখ দেখেননি এই গৃহবধূ।
নিহতের মামা জার্জিস শেখ জানান, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে লাজিনার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালাতো স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে লাজিনার হতদরিদ্র পরিবার ধারদেনা করে জামাই আঃ রহমানকে বিদেশে পাঠানোর জন্য প্রথমে ২ লক্ষ টাকা যৌতুক দেয়। কিন্তু সেখানে মাত্র ২-৩ মাস থেকেই অলস ও অকর্মা আঃ রহমান দেশে ফিরে আসে।
দেশে ফিরে ইজিবাইক কেনার অজুহাতে আবারও টাকার দাবিতে লাজিনার ওপর নির্যাতন শুরু করে সে। বাধ্য হয়ে সামর্থ্য না থাকা সত্ত্বেও মেয়ের জীবনের কথা ভেবে আবারও ১ লক্ষ টাকা জোগাড় করে দেয় লাজিনার পরিবার। কিন্তু তাতেও শান্ত হয়নি যৌতুকলোভী আঃ রহমান ও তার পরিবার। নতুন করে আবারও টাকার দাবিতে লাজিনার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন অব্যাহত রাখে তারা।
টাকার দাবি পূরণ করতে না পারায় গত ২ জুলাই দুপুরে লাজিনাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে একপর্যায়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এরপর হত্যাকাণ্ডটি আড়াল করতে এবং পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে লাজিনার মরদেহ রান্নাঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করে স্বামী আঃ রহমানসহ তার পরিবারের সবাই বাড়ি ছেড়ে গা-ঢাকা দেয়।
খবর পেয়ে কালিয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে। শুক্রবার নড়াইল জেলা হাসপাতালের মর্গে লাজিনার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এই নৃশংস ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের শিকার লাজিনার পরিবার এখন খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসির দাবি জানাচ্ছে।
কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ ইদ্রিস আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
news@26banglatv.com