সারা বাংলা খুলনা নড়াইল
নড়াইলে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও চাঁদা দাবির পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ
২৬ বাংলা টিভি 09-Jun-2026 35
নড়াইলে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও চাঁদা দাবির পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ
নড়াইল প্রতিনিধি:
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক প্রবাসীর বাড়িতে হামলা, চাঁদা দাবি ও নারীদের মারধর করে মোবাইল ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ঈশানগাতী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। তবে প্রতিপক্ষ এই অভিযোগকে 'মিথ্যা নাটক' ও হয়রানিমূলক বলে দাবি করেছে। খবর পেয়ে লোহাগড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঈশানগাতী মৌজার ১২৯৭ দাগের সাড়ে ৪ শতাংশ জমির মধ্যে ২ শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে গ্রামের মৃত সৈয়দ কামরুজ্জামানের স্ত্রী সালেহা বেগম ও ছেলে প্রবাসী নাজমুল ইসলামের সাথে প্রতিবেশী ফাতেমা বেগম তুলি, তার স্বামী মিজানুর মোল্যা এবং ভাই তরিকুল ইসলামের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছিল। ভুক্তভোগীদের দাবি, এই জমি নিয়ে আদালতে মামলা হলে মালিকানার রায় পান নাজমুল ইসলাম। তবে প্রতিপক্ষ এই রায় অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টা করায় উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গত সোমবার (৮ জুন) দুপুরে প্রবাসী নাজমুল ইসলামের বাড়িতে কোনো পুরুষ মানুষ না থাকার সুযোগে অভিযুক্ত মিজানুর মোল্যা ও তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ১০০ থেকে ১২০ জন লোক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জ্বিত হয়ে বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় ঘরের ভেতর থাকা নারীরা দরজা-তালা বন্ধ করে আত্মরক্ষা করেন। ঘটনার সময় প্রবাসী নাজমুলের চাচাতো বোন হাসিবা আক্তার এগিয়ে গেলে তাকে মারধর করে একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়। খবর পেয়ে লোহাগড়া থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ভুক্তভোগী সালেহা বেগম ও শামীমা আক্তার মুন্নি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত তরিকুল ইসলাম হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেন, "এই জমির প্রকৃত মালিক আমরা। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রবাসী নাজমুল ইসলাম স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মতিয়ার রহমান ও আজিজুর রহমান আজুর সহযোগিতায় আমাদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে ১১ বছর জেল খাটিয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তারা আমাদের জমি জবরদখল করে রেখেছে। এখন সেই জবরদখল বজায় রাখতে এবং আমাদের হয়রানি করতে মিথ্যা হামলার নাটক সাজিয়ে প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করছে।
এ বিষয়ে লোহাগড়া থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় জানান, সোমবার বিকেলে খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ভুক্তভোগী পক্ষের কেউ এখনো থানায় লিখিত অভিযোগ করেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
news@26banglatv.com