সারা বাংলা চট্টগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আখাউড়ায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী মর্জিনা বেগম ধর্ষণের পর হত্যা: পিবিআইয়ের তদন্তে গ্রেপ্তার ৩
২৬ বাংলা টিভি 26-Nov-2025 56
আখাউড়ায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী মর্জিনা বেগম ধর্ষণের পর হত্যা: পিবিআইয়ের তদন্তে গ্রেপ্তার ৩
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী মর্জিনা বেগমকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এই জঘন্য ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ইউনিট। ২৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে আখাউড়া থানায় দায়ের করা মামলা নং ২৩ (ধারা ৩০২/৩৪)–এর ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে সংস্থাটি।
মামলার বাদী রহিমা আক্তার জানান, তাঁর মা মর্জিনা বেগম (৪৫) আখাউড়া সড়কবাজার এলাকায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন এবং সন্ধ্যায় পিঠা বিক্রি করতেন। অন্ধ স্বামীকে নিয়ে তিনি দেবগ্রাম নয়াবাজার এলাকায় বসবাস করতেন।
২৫ নভেম্বর ভোররাত ৩টার দিকে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন পেয়ে বাসা থেকে বের হন মর্জিনা। পরদিন সকালেও বাসায় না ফেরায় সন্ধ্যায় সবজি আড়ত থেকে খবর পান, পৌরসভার পুরোনো ভবনের পাশে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ পড়ে আছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি মায়ের মরদেহ শনাক্ত করেন। তাঁর গলায় আঘাতের চিহ্ন এবং শরীরে ময়লার দাগ ছিল।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোস্তফা কামালের নির্দেশনা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ইনচার্জ পুলিশ সুপার শচীন চাকমার তত্ত্বাবধানে তদন্ত পরিচালনা করেন এসআই (নিঃ) মো. আল-আমিন। সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও মাঠ পর্যায়ের তথ্য যাচাই করে ঘটনার পূর্ণ রূপ উন্মোচন করা হয়।
তদন্তে জানা যায়, কাঁচাবাজারের দারোয়ান শহিদুল ইসলাম (৪৩) নিজের মোবাইল ফোন থেকে ‘মালের গাড়ি এসেছে’ বলে ডেকে মর্জিনাকে বাজার এলাকায় নিয়ে যান। ফোনের ১৪ মিনিট পর রাত ৩টা ১৮ মিনিটে তাঁকে কাঁচাবাজারে প্রবেশ করতে দেখা যায় সিসিটিভিতে।
প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যায়, শহিদুল প্রথমে মর্জিনাকে ধর্ষণ করে। পরে তার সহযোগী হোসেন ওরফে শফিক (৪০) এবং রুমান মিয়া (২৪) ধর্ষণের চেষ্টা করলে মর্জিনা বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনজন মিলে তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। হত্যাকাণ্ডের সময় হোসেন গলা চেপে ধরে, শহিদুল দুই হাত চেপে রাখে এবং রুমান দুই পায়ে দাঁড়িয়ে থাকে। মৃত্যুর পর মরদেহ ফেলে তারা পালিয়ে যায়।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ২৬ নভেম্বর দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে কাঁচাবাজার এলাকা থেকে শহিদুলকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে আখাউড়ার মসজিদপাড়া এলাকার ভাড়া বাসা থেকে হোসেন ও রুমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনজনই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে এবং ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে সম্মতি জানায়।
পিবিআই জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
news@26banglatv.com