সারা বাংলা খুলনা ঝিনাইদহ
দুদকের মামলায় ঝিনাইদহের সাবেক মেয়র ও তার স্ত্রী: রাজনৈতিক প্রভাব, অস্বচ্ছ সম্পদ আর দায়বদ্ধতার প্রশ্ন
২৬ বাংলা টিভি 26-Sep-2025 32
দুদকের মামলায় ঝিনাইদহের সাবেক মেয়র ও তার স্ত্রী: রাজনৈতিক প্রভাব, অস্বচ্ছ সম্পদ আর দায়বদ্ধতার প্রশ্ন
স্টাফ রিপোর্টার।
বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় জনআস্থার সংকট নতুন নয়। তবুও সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় উঠে এসেছে ঝিনাইদহ পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. সাইদুল করিম মিন্টু এবং তার স্ত্রী আর্মিজা শিরীন আক্তার। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাদের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করেছে। অভিযোগ গুরুতর— সম্পদ বিবরণীতে তথ্য গোপন এবং জ্ঞাত আয়ের বাইরে বিপুল সম্পদ অর্জন।
অভিযোগের সুনির্দিষ্ট চিত্র
দুদকের তথ্যমতে,
সাবেক মেয়র মিন্টু সম্পদ বিবরণীতে প্রায় ৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা গোপন করেছেন এবং জ্ঞাত আয়ের বাইরে অর্জন করেছেন আরও ৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা।
তার স্ত্রী শিরীন আক্তার গোপন করেছেন প্রায় ৪ কোটি ১৯ লাখ টাকা এবং অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন আরও ৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।
এছাড়া, শিরীন আক্তারের বিরুদ্ধে স্বামীকে অবৈধ সম্পদ অর্জনে সহযোগিতার অভিযোগও আনা হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও জনমতের প্রশ্ন
স্থানীয় রাজনীতির মাঠে দীর্ঘদিন প্রভাব বিস্তার করেছেন মিন্টু। ক্ষমতার আসনে বসে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির জায়গায় যে দুর্বলতা তৈরি হয়েছিল, তা আজ দুদকের মামলার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রশ্ন উঠছে— যদি একজন জনপ্রতিনিধিই জনআস্থার জায়গায় আঘাত করেন, তবে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা কোথায় দাঁড়াবে?
নারীর ভূমিকা ও দায়বদ্ধতা
এই মামলায় কেবল সাবেক মেয়রই নন, তার স্ত্রীকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনাকে অনেকেই দেখছেন পরিবারভিত্তিক ক্ষমতার অপব্যবহারের উদাহরণ হিসেবে। যেখানে রাজনীতির সঙ্গে ঘরোয়া সিদ্ধান্ত মিলেমিশে গেছে এবং অবৈধ সম্পদের জাল বোনা হয়েছে পারিবারিকভাবে।
আইন বনাম বাস্তবতা
দুদক নিয়মিতভাবে এমন মামলা করলেও বাস্তবে অনেক সময় তদন্ত দীর্ঘায়িত হয়, বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়। ফলে দোষীরা প্রভাব খাটিয়ে পার পেয়ে যান— এমন অভিযোগও রয়েছে নাগরিক সমাজে। এখন দেখা যাক, এই মামলাগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া কতটা দ্রুত ও কার্যকর হয়।
জনআস্থা পুনরুদ্ধারের চ্যালেঞ্জ
আজকের এই ঘটনা শুধু একজন সাবেক মেয়র বা তার পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা নয়; এটি পুরো স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার প্রতি একটি সতর্ক বার্তা।
জনপ্রতিনিধিদের সম্পদ বিবরণী যাচাই প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা প্রয়োজন।
ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানো দরকার।
বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত ও স্বচ্ছ হতে হবে— নইলে এসব মামলা আবারও জনআস্থাহীনতার প্রতীক হয়ে দাঁড়াবে।
news@26banglatv.com