সারা বাংলা বরিশাল পটুয়াখালী
আজ মধ্যে রাতে শেষ সারা দেশে মৎস্য শিকারে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা, ইলিশ শিকারে সাগরে যাবে জেলেরা
২৬ বাংলা টিভি 26-Oct-2025 93
আজ মধ্যে রাতে শেষ সারা দেশে মৎস্য শিকারে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা, ইলিশ শিকারে সাগরে যাবে জেলেরা
পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ
আজ মধ্যে রাতে শেষ হলো সারা দেশের মৎস্য শিকারে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা।বঙ্গোপসাগরে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মা ইলিশ রক্ষায় সাগর ও নদীতে ইলিশ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা চলছে ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন। এ সময় সব ধরনের জাল ফেলা, মাছ ধরা, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সরকার। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে নৌকা তৈরি, নৌকা মেরামত, জাল মেরামত সহ বিভিন্ন আনুষাঙ্গিক কাজ ঘুছিয়ে নিচ্ছেন উপকূলের হাজারো জেলেরা।
মৎস্য বন্দর আলিপুর, মহিপুর ও কুয়াকাটা মৌডুবি রঙ্গাবালি চরমোন্তাজ পানপট্টি বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় ইতোমধ্যে জেলেরা জাল মেরামত, ট্রলার মেরামতসহ সব রকমের কাজ প্রায় শেষ এর পথে । শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নদীতে মাছ শিকারে । আজ শনিবার রাত ১২ টার পর সাগরে যাবে জেলেরা।
নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন ২২ দিন পর সাগর ও নদীতে মাছ ধরতে নামবে জেলেরা। এ কারণে আনন্দ ফিরে আসছে জেলে পরিবারগুলোতে। তবে অভিযান সফল হওয়ায় গতবারের চেয়ে এবার মাছের উৎপাদন আরো বাড়বে বলে আশা করছে উপজেলা মৎস্য বিভাগ ও মৎস্যজীবীরা।
কিছু অসাধু জেলেরা এবার অবরোধের সময় জাল ফেলে মাছ শিকার করেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং মিডিয়ায় প্রচার হয়ে আসছে, জনসচেতনতা এবং জেলেদের সঠিক তালিকা মৎস্য বিভাগের কাছে না থাকায় এমন টা হচ্ছে ,
ট্রলার মালিক আঃ জলিল বলেন, এবার মৌসুমে সাগরে জেলেদের জালে তেমন মাছ পাওয়া যায়নি। মালিকদের আসল পুঁজিও ওঠেনি। এর মধ্যে আবার পরাপর দুটি নিষেধাজ্ঞা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ তো আছেই।তবে আমরা আশাবাদী নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে ভালো মাছ মিলবে। জেলেদের সাগরে পাঠানোর শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে আমাদের।
চর মোন্তাজ এর জেলে মনির বলেন, পুরো বছরটা চলে যায় সরকারী আর প্রাকৃতিক নিষেধাজ্ঞায় বসে থাকতে থাকতে। এর ফাঁকে যে সময়টুকু আমরা সাগরে থাকি তাতেও মিলছে না পর্যাপ্ত মাছ। এই নিষেধাজ্ঞা শেষে যদি সাগরে পর্যাপ্ত মাছ পাই তাহলে পরিবারের মুখে হাসি ফুটাতে পারবো।
কুয়াকাটা মৎস্য আড়তদার সমিতির সভাপতি হালিম ব্যাপারী বলেন, আমাদের জেলেরা সরকারের সব নিয়মকানুন মেনেই সাগরে মাছ শিকার করছে। কিন্তু বাংলাদেশে যখন সমুদ্রে নিষেধাজ্ঞা চলে তখন ভারতের জেলেরা আমাদের সীমানায় ঢুকে মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে।আমরা চাই এটা যাতে দ্রুত বন্ধ হয়। ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে আমাদের জেলেরা সাগরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, আমরা শত ভাগ চেষ্টা করেছি অবরোধ সফল করতে, অবরোধ শুরুর প্রথম সপ্তাহে ৬৯০৪৩ জেলে পরিবার কে ভিজিএফ সহায়তা দেয়া হয়, পটুয়াখালী জেলার সকল মোহনা কে মা ইলিশ এর প্রয়োজনের জন্য নিরাপদ রাখার চেষ্টা করেছি,কিছু অসাধু জেলে মাছ ধারার চেষ্টা করেছে মৎস্য বিভাগ সহ, পুলিশ কোর্ট গার্ড, নৌবাহিনী,এস্থানিয় প্রশাসন জনপ্রতিনিধি ও সংবাদ মাধ্যমের সহয়তা তাদের প্রতিহত সহ ১১১ জন কে বিভিন্ন মেয়াদে জেলে পাঠানো এবং ৬.৫৭০০ হাজার টাকা জরিমা, ১৫১টি মোবাইল কোর্ট ৫৫৬টি অভিযান আটক কৃত ইলিশ এর পরিমাণ ১.৬০৮০ মে,টন,আটক কৃত জাল ১৫.৬৭৯০ মিটার পুরে ফেলা হয় যার বাজার মুল্য ৩২৯.২৪১ টাকা, তিনি আরো বলেন আগামী নভেম্বের থেকে জেলেদের তালিকা হালনাগাদ করার জন্য জেলেদের উপস্থিতিতে সঠিক জেলেদের তালিকা করা হবে, মৌসুমি কিছু জেলেদের অসাধুতার কারনে অবরোধের সময় জাল ফেলার চেষ্টা করা হয় এটা যেমন সঠিক মৎস্য বিভাগ ও তাদের প্রতিহত করেছে,আশা করছি ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ এটি রক্ষা এবং এর প্রজনন বৃদ্ধির জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে মৎস্য বিভাগের সাথে সহয়তা ও সচেতনতায় কাজ করতে হবে,
এ বিষয়ে গলাচিপা, রাঙ্গাবালী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জহিরুননবী বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের সমুদ্রে নদীতে নিষেধাজ্ঞা বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ব্যতীত সঠিকভাবে পালন হয়েছে অবরোধ । জাল জব্দ করে পুরে ফেলা সহ অসাধু জেলেদের আটক এবং নৌকা জব্দ করেছি, বর্তমানে জেলেরা সাগরে মাছ শিকারে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রবিবার থেকেই সাগরে যেতে পারবেন জেলেরা। আশা করছি জেলেরা সাগর থেকে হাসিমুখেই ফিরে আসবে,যে পরিমান মাছ ডিম দিতে পেরেছে তাতে ভালো কিছু হবে আশা করি,
news@26banglatv.com