তথ্য-প্রযুক্তি
গ্র্যাজুয়েট (ডিগ্রি) ইঞ্জিনিয়ার ও ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের বিরোধের সমাধানের উপায়
২৬ বাংলা টিভি 26-Oct-2025 67
গ্র্যাজুয়েট (ডিগ্রি) ইঞ্জিনিয়ার ও ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের বিরোধের সমাধানের উপায়
- প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া
- তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী(অব.)
- এলজিইডি
- সাবেক শিক্ষার্থী,সিভিল(রুয়েট)
- সেশন-৭৭১২০
সম্প্রতি গ্র্যাজুয়েট ইঞ্জিনিয়ার ও ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের মধ্যে মতবিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে।
এই ইস্যুটির একটি ন্যায়সঙ্গত, যুক্তিসঙ্গত ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাধান প্রয়োজন — এমন একটি সমাধান যেখানে সবার মূল্যায়ন হবে, কিন্তু কাউকে অবমূল্যায়ন বা উপেক্ষা করা হবে না।
বিবেচ্য বিষয়সমূহ:
১. গ্র্যাজুয়েট ইঞ্জিনিয়াররা ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের তুলনায় নিঃসন্দেহে অধিক মেধাবী। তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, কোর্সের সময়কাল ও বিষয়বস্তু অনেক বেশি সমৃদ্ধ এবং বিস্তৃত।
২. ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের ভর্তি যোগ্যতা ও পাঠ্যসূচি তুলনামূলকভাবে দুর্বল; তাই তারা গ্র্যাজুয়েট ইঞ্জিনিয়ারদের সমান মর্যাদা দাবি করতে পারেন না।
৩. প্রায় ১০ শতাংশ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার আছেন যাদের যোগ্যতা ও মেধা গ্র্যাজুয়েট ইঞ্জিনিয়ারদের সমতুল্য। কিন্তু আর্থিক, পারিবারিক ও নানা অনিবার্য কারণে তারা ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পাননি।
৪. এই সম্ভাবনাময় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য সরকার গাজীপুরে একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন করেছে, যা প্রশংসনীয়। তবে মাত্র একটি কলেজ যথেষ্ট নয়। আরও কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন, যাতে প্রতিভাবান কিন্তু সুযোগহীন শিক্ষার্থীরা তাদের পূর্ণ সম্ভাবনা বিকশিত করতে পারেন।
৫. যারা ডিগ্রি অর্জন করেছেন, তারা যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি পাচ্ছেন। কিন্তু সমস্যা দেখা দিচ্ছে যখন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা কম যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও উচ্চতর পদ দাবি করছেন। ইতোমধ্যে তারা সহকারী প্রকৌশলীর ৩৩% পদ দখল করেছেন; ফলে মাত্র ৬৭% পদ গ্র্যাজুয়েট ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য অবশিষ্ট রয়েছে।
৬. আমার প্রস্তাব হলো — ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের ক্ষেত্রভিত্তিক (field-oriented) পদে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে, কারণ তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা আছে। কিন্তু প্রশাসনিক (administrative) পদে তাদের নিয়োগ দেওয়া উচিত নয়, কারণ এসব পদে আর্থিক, প্রশাসনিক, রাজনৈতিক, আমলাতান্ত্রিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় দক্ষভাবে পরিচালনার জন্য ভারসাম্যপূর্ণ ক্ষমতা ও ব্যাপক জ্ঞান প্রয়োজন।
৭. সকল বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তা অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রিধারী। তারা শ্রেণি-১, শ্রেণি-২, এমনকি শ্রেণি-৩ ও ৪ পদের জন্যও আবেদন করতে পারেন। এখানে কোনো কৃত্রিম বাধা নেই — সবার জন্য ক্ষেত্র উন্মুক্ত। যোগ্যতা ও মেধা অনুযায়ী তারা যে কোনো পদে নিয়োগ পাচ্ছেন।
৮. তাহলে একজন গ্র্যাজুয়েট ইঞ্জিনিয়ার যদি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারের পদের জন্য আবেদন করতে চান, তাতে দোষ কোথায়? এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়। কারো স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি করা সংবিধান ও শ্রমনীতির পরিপন্থী।
দেশ যদি তুলনামূলকভাবে কম বেতনে অধিক যোগ্য ও দক্ষ প্রকৌশলী পেতে পারে, তবে একই বেতনে কম যোগ্য ব্যক্তিকে কেন নিয়োগ দেবে?
৯. প্রশ্ন হতে পারে — তাহলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের ভবিষ্যৎ কী হবে?
তাদের শিক্ষিত করুন, প্রশিক্ষিত করুন, সক্ষমতা বৃদ্ধি করুন, যাতে তারা দেশের সেবায় সর্বোচ্চ অবদান রাখতে পারেন। যারা ইচ্ছুক, তাদের ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ দিন; বাকিদের নিজস্ব পথে এগিয়ে যেতে দিন।
১০. বিভিন্ন দপ্তরে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন যারা আজীবন পরিশ্রম করেও পদোন্নতি পাননি, অথচ তাদের যোগ্যতা আছে।
তাদের ক্ষেত্রেও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করা উচিত — যেমনটা ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের ক্ষেত্রে দাবি করা হচ্ছে।
এই পুরো বিষয়টি সার্বিক প্রশাসনিক ও সেবা কাঠামো সংস্কারের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত, আলাদা আলাদা কেস হিসেবে নয়।
জাতীয় উন্নয়ন, প্রতিভার সর্বোচ্চ ব্যবহার ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সর্বোত্তম পথ।
news@26banglatv.com