সারা বাংলা খুলনা নড়াইল
বলাৎকারের শিকার একাধিক শিশু, গাজীপুর থেকে নড়াইলের বিতর্কিত মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার
২৬ বাংলা টিভি 06-Sep-2026 8
বলাৎকারের শিকার একাধিক শিশু, গাজীপুর থেকে নড়াইলের বিতর্কিত মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার
নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইল সদর উপজেলার তাফসির উদ্দিন হাফেজিয়া মাদ্রাসায় কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের ওপর লম্পট শিক্ষকের যৌন নির্যাতনের এক ভয়াবহ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। এক শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের ঘটনার জেরে তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে একই শিক্ষকের শিকারে পরিণত হয়েছে ওই মাদ্রাসার আরও অন্তত পাঁচ শিশু। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের তোপের মুখে আত্মগোপনে থাকা অভিযুক্ত শিক্ষক মাহবুবুর রহমানকে (২৫) ১০ ঘণ্টার এক সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত মাহবুবুর রহমান নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের আলমগীর সরদারের ছেলে। তিনি তাফসির উদ্দিন হাফেজিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকতার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে শিশু শিক্ষার্থীদের ওপর এমন যৌন নিপীড়ন চালিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মামলার বিবরণ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ আগস্ট রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তাফসির উদ্দিন হাফেজিয়া মাদ্রাসার এক আবাসিক শিশু শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক বলাৎকার করেন শিক্ষক মাহবুবুর রহমান। পরদিন ২৮ আগস্ট ভুক্তভোগী শিশুটি ভয়ে-আতঙ্কে বিষয়টি তার মাকে জানায়। অভিভাবক বিষয়টি নিয়ে মাদ্রাসায় গিয়ে প্রতিবাদ জানালে স্থানীয়ভাবে জানাজানি হয়ে যায়। অপরাধ ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অভিযুক্ত শিক্ষক মাহবুবুর রহমান ওই দিনই কৌশলে মাদ্রাসা ছেড়ে পালিয়ে যান।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে নড়াইল সদর থানা পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। পুলিশ ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে তদন্ত শুরু করলে এক চাঞ্চল্যকর ও ভয়াবহ চিত্র উন্মোচিত হয়। প্রাথমিক তদন্তেই পুলিশ জানতে পারে শুধু একটি শিশুই নয়, ওই মাদ্রাসার আরও অন্তত পাঁচ শিশু শিক্ষার্থী মাহবুবুর রহমানের বলাৎকারের শিকার হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে কোমলমতি শিশুদের ওপর এ ধরনের নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন।
এ ঘটনায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হলে ভুক্তভোগী এক শিশুর মা বাদী হয়ে নড়াইল সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিয়ে নড়াইল সদর থানার ওসি (তদন্ত) অজয় কুমার কুন্ডুর নেতৃত্বে একটি চৌকস পুলিশ টিম আসামির অবস্থান চিহ্নিত করতে মাঠে নামে। প্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে অভিযুক্ত শিক্ষক গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকার গাছা থানা এলাকায় আত্মগোপন করে আছেন।
পরে নড়াইল সদর থানা পুলিশের দলটি গাজীপুরের গাছা থানা এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালায়। মামলা রুজু হওয়ার মাত্র ১০ ঘণ্টার মাথায় পলাতক আসামি মাহবুবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
এ বিষয়ে নড়াইল সদর থানার ওসি (তদন্ত) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, "অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাই। শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে আমাদের টিম দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। নড়াইল থেকে টিম পাঠিয় ১০ ঘণ্টার মধ্যে গাজীপুর থেকে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামিকে আদালতে সোপর্দ করার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ ও সুষ্ঠু তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
মাদ্রাসার মতো পবিত্র স্থানে শিক্ষকের এমন হীন কর্মকাণ্ডে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। এলাকাবাসী অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
news@26banglatv.com