সারা বাংলা সিলেট সুনামগঞ্জ
তিন নদীর মোহনায় সেতুর দাবিতে তিন উপজেলার মানুষের মানববন্ধন
২৬ বাংলা টিভি 23-Oct-2025 75
তিন নদীর মোহনায় সেতুর দাবিতে তিন উপজেলার মানুষের মানববন্ধন
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের দিরাই, জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার মিলনস্থল চণ্ডীডহর। এখানেই ডাউকা, মহাসিং ও কামারখাল নদী এসে মিলেছে এক মোহনায়। তিন উপজেলার সীমানা রেখায় অবস্থান হওয়ায় ভৌগোলিকভাবে জায়গাটির গুরুত্ব অনেক। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই এই তিন নদীর সংযোগস্থলে একটি সেতুর অভাবে ভোগান্তিতে রয়েছেন আশপাশের প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ।
দীর্ঘদিনের এ দাবিকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার বিকেল আড়াইটায় চণ্ডীডহর এলাকায় মানববন্ধন করেন তিন উপজেলার হাজারো মানুষ। দুপুর থেকেই কাউয়াজুরি, নগদীপুর, সিকন্দরপুর, হোসেনপুর, পাইকাপন, তেলিকোনা, কামারখালসহ অর্ধশতাধিক গ্রাম থেকে মিছিল নিয়ে মানুষ জড়ো হন মোহনা এলাকায়। তিন পাড়ে দাঁড়িয়ে একসঙ্গে স্লোগান দেন- “চণ্ডীডহর ব্রিজ চাই”।
স্থানীয়রা জানান, তিন নদীর মিলনস্থলে সেতু না থাকায় তিন উপজেলার প্রায় একশ গ্রামের মানুষ নিত্যদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন। শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে।
জগদল ইউনিয়নের নগদীপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. জুয়েল আহমদ বলেন, “কিছুদিন আগে আমার ভাবীর সন্তান প্রসবের সময় হাসপাতালে নিতে দেরি হয়, কারণ সেতু না থাকায় রাতের বেলা নৌকা পেতে সময় লাগে। চণ্ডীডহরে পৌঁছার আগেই নবজাতক মারা যায়। যদি ব্রিজ থাকত, হয়তো বাঁচানো যেত।”
পাইকাপন গ্রামের মুফতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, “কয়েক বছর আগে গ্রামে আগুন লাগে। কিন্তু সড়ক না থাকায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসতে পারেনি। আগুন জ্বলে শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছুই করা যায়নি।”
বৃহস্পতিবার বিকালে সরেজমিনে দেখা যায়, চণ্ডীডহর মোহনায় তিন নদী তিন উপজেলার সীমানা গড়ে তুলেছে। তেলিকোনা এলাকায় গাড়ি রেখে নৌকায় পার হতে হয় দিরাই বা শান্তিগঞ্জে। দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নে রয়েছে কলেজ, স্কুল, মাদ্রাসাসহ নানা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ বাজার হোসেনপুর, নগদীপুর, জগদলবাজার। অন্যদিকে শান্তিগঞ্জের পাইকাপন, ফটইখাড়া, জামখলা এলাকার মানুষের যোগাযোগও নির্ভর করে এই মোহনার ওপর।
কিন্তু সেতু না থাকায় তিন উপজেলাবাসীকে নৌকায় করে যাতায়াত করতে হয়। এতে জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে।
আলহাজ আব্দুল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সাদিয়া আক্তার বলেন, “একটি সেতু না থাকায় মনে হয় আমরা সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন। লেখাপড়া, চিকিৎসা সবকিছুতেই অসুবিধা হচ্ছে।”
স্থানীয় ভুক্তভোগী মাও. সোয়াইব আহমদ ও শাহ আজিজ বলেন, “একটি সেতুর অভাবে আমরা পিছিয়ে আছি। দ্রুত সেতু নির্মাণ না হলে উন্নয়ন থমকে থাকবে।”
সুনামগঞ্জ জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, “আগের সরকারের সময় সাড়ে পাঁচশ কোটি টাকা ব্যয়ে দিরাইয়ের জগদল ইউনিয়নের সড়ক ও চণ্ডীডহর সেতু নির্মাণে একটি প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। তবে সেটি অনুমোদন পায়নি। বর্তমানে প্রকল্পটি মন্ত্রণালয়ে আছে। কেউ যদি বিষয়টি অনুসন্ধান করে উদ্যোগ নেন, তাহলে অনুমোদনের সম্ভাবনা আছে।
news@26banglatv.com