সারা বাংলা খুলনা ঝিনাইদহ
সড়ক নাকি গোয়ালঘর, ঝিনাইদহে গবাদিপশুর মুক্ত বিচরণে নাভিশ্বাস পথচারীদের
২৬ বাংলা টিভি 03-Aug-2026 16
সড়ক নাকি গোয়ালঘর, ঝিনাইদহে গবাদিপশুর মুক্ত বিচরণে নাভিশ্বাস পথচারীদের
শিপলু জামান , ঝিনাইদহঃ ঝিনাইদহ পৌরসভার মূল সড়ক ও অলিগলি দেখে বোঝার উপায় নেই এটি বিভাগীয় শহরের গুরুত্বপূর্ণ কোনো পৌর এলাকা নাকি কোনো খোলা গোয়ালঘর। প্রতিদিন শহরের ব্যস্ততম সড়কগুলোতে সদলবলে ঘুরে বেড়াচ্ছে গবাদিপশু। রাস্তার মাঝে এসব পশুর রাজত্ব ও যত্রতত্র মলত্যাগের কারণে মারাত্মক যানজটের পাশাপাশি প্রতিদিন ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। ফলে চরম ভোগান্তি ও আতঙ্কের মধ্য দিয়ে চলাচল করছেন পথচারী ও যানবাহন চালকেরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শহরের পায়রা চত্বর, শের-ই-বাংলা সড়ক, কেসি কলেজ মোড়, বাসস্ট্যান্ড এলাকা এবং পোস্ট অফিস সড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে প্রতিনিয়ত দল বেঁধে হেঁটে বেড়াচ্ছে গরু। কখনো রাস্তার মাঝখানে নিশ্চিন্তে শুয়ে থাকছে, আবার কখনো হুটহাট দৌড়াদৌড়ি শুরু করছে। এতে করে দ্রুতগামী মোটরসাইকেল, ইজিবাইক ও রিকশাগুলো প্রায়ই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
পথচারীদের রফিক বলেন , বয়স্ক ও শিশুদের জন্য এই সড়কগুলো এখন রীতিমতো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনেক সময় এসব পশুর শিংয়ের গুঁতোয় জখম হচ্ছেন পথচারীরা।
এক ক্ষুব্ধ পথচারী বলেন, “একটি প্রথম শ্রেণীর পৌরসভায় প্রতিদিন এমন দৃশ্য দেখতে পাওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। কেনাকাটা করতে বা অফিসে যেতে পদে পদে ভয়ে থাকতে হয়।”
শহরের ব্যবসায়ী জাহিদ হোসেন অভিযোগ,করে বলেন দোকানপাটের সামনে এসব গবাদিপশুর মলত্যাগের কারণে একদিকে যেমন পরিবেশ দুর্গন্ধে ভারী হয়ে উঠছে, অন্যদিকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে।
প্রশ্ন উঠেছে, রাজপথে বিচরণ করা এই বিপুল সংখ্যক গবাদিপশু কি আসলেই মালিকবিহীন?
অনুসন্ধানে জানা যায়, এর অধিকাংশই মূলত শহরের আশপাশের কিছু অসচেতন ও অসাধু খামারির। লালন-পালনের খরচ বাঁচাতে এবং খাদ্যের খোঁজে তারা নিজ নিজ গরু শহরের রাস্তায় ছেড়ে দেন। সারাদিন শহরের বর্জ্য ও রাস্তার ধারের শাকসবজি খেয়ে এসব পশু রাতে আবার নিজ নিজ ঠিকানায় ফিরে যায়। পৌর কর্তৃপক্ষের নজরদারি না থাকায় পশুর মালিকেরা প্রতিনিয়ত এই দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ করে যাচ্ছেন।
আইন অনুযায়ী পৌর এলাকায় খোলা স্থানে গবাদিপশু ছেড়ে দেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ হলেও ঝিনাইদহে এর প্রয়োগ চোখে পড়ে না। সচেতন নাগরিক সমাজের মতে, এই সমস্যা সমাধান অত্যন্ত সহজ যদি পৌরসভা কঠোর পদক্ষেপ নেয়, বেওয়ারিশ বা খোলা পশুর জন্য নির্দিষ্ট 'খোয়ার' কার্যকর করা এবং ধরা পড়া পশুর মালিকদের থেকে মোটা অঙ্কের জরিমানা আদায় করা। পশুর মালিকদের সতর্ক করে নির্দিষ্ট সময়সীমা দিয়ে মাইকিং করা। পৌরসভার নিজস্ব পরিচ্ছন্নতাকর্মী বা আনসার সদস্যদের মাধ্যমে নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ সদর থানা ওসি আসাদুজ্জাম বলেন বিষয়টি আমরা দেখব
নগরবাসীর আকুল আবেদন—পৌর কর্তৃপক্ষ যেন লোক দেখানো প্রতিশ্রুতি না দিয়ে অনতিবিলম্বে এ বিষয়ে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে ঝিনাইদহ শহরকে বাসযোগ্য ও নিরাপদ করে তোলে।
news@26banglatv.com