সারা বাংলা খুলনা নড়াইল
নড়াইলে বিদ্যালয় নিয়োগে জালিয়াতির অভিযোগে সাবেক সভাপতিসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা
২৬ বাংলা টিভি 15-Jul-2026 19
নড়াইলে বিদ্যালয় নিয়োগে জালিয়াতির অভিযোগে সাবেক সভাপতিসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা
নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইল সদর উপজেলার আর.বি.এফ.এম. ভবানীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ জালিয়াতি, পত্রিকার কপি ও নথিপত্র জাল এবং শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতিসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।
নড়াইল বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এম. এম. জিয়াউল হক।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি সিকদার তোফায়েল আহমেদ, সহকারী প্রধান শিক্ষক নওরিন কবির, সহকারী শিক্ষক মো. আজিজুর রহমান, অফিস সহকারী শরীফ আব্দুল বাকী এবং ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা শরীফ তোকরুল হোসেন ও শরীফ রেফায়েত হোসেন।
মামলার আরজি ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আর.বি.এফ.এম. ভবানীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ বাণিজ্য, ঘুষ ও নথিপত্র জালিয়াতির ঘটনা ঘটে আসছে। ২০১৩ সালে প্রকাশিত একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে ২০১৪ সালে তিনজন শিক্ষক নিয়োগ পান। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা ও সাজা হওয়ার পর তিনি চাকরি ছেড়ে দেন।
বাদীর দাবি, এরপর নতুন করে কোনো নিয়োগ পরীক্ষা বা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ছাড়াই, ২০২৩ সালে ওই পুরোনো ২০১৩ সালের বিজ্ঞপ্তি ও নথি জাল করে নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়। এই জালিয়াতি প্রক্রিয়ায় বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রয়াত প্রধান শিক্ষক গোপাল চন্দ্র বিশ্বাসের স্বাক্ষর ও সিল জাল করা হয়েছে। এমনকি কোনো পরীক্ষা অনুষ্ঠিত না হলেও ভূয়া ফলাফল (রেজাল্ট শিট), হাজিরা খাতা ও অন্যান্য দাপ্তরিক কাগজপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন দেখানো হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় বাদীসহ কয়েকজন শিক্ষককে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। কিছুদিন আগে বিদ্যালয়ের একটি সভায় বাদী ও প্রধান শিক্ষক এই নিয়োগ জালিয়াতির বিষয়টি উত্থাপন করলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে বাদীর জামার কলার ধরে টানাহেঁচড়াসহ শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে সভাকক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বিদ্যালয়ে গেলে তাকে প্রাণনাশ ও গুরুতর জখমের হুমকি দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করায় বর্তমানে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় বিদ্যালয়ে যেতে পারছেন না বলেও বাদী দাবি করেন।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার ১ নম্বর আসামি ও সাবেক সভাপতি সিকদার তোফায়েল আহমেদ বলেন, "আমার কার্যকালে এমন কোনো নিয়োগ হয়নি। মামলায় আমার বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিযোগ আনা হয়েছে, তার কোনোটিই সঠিক নয়; এগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।"
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
news@26banglatv.com