সারা বাংলা খুলনা নড়াইল
নড়াইলে কালী মন্দিরের সামনের সরকারি জমি দখলের চেষ্টা, এলাকায় উত্তেজনা
২৬ বাংলা টিভি 07-Jul-2026 13
নড়াইলে কালী মন্দিরের সামনের সরকারি জমি দখলের চেষ্টা, এলাকায় উত্তেজনা
নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইল সদর উপজেলার শাহাবাদ ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর কালী মন্দির সংলগ্ন সরকারি জমি দখল করে ঘর নির্মাণ ও খুঁটি পোঁতার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। মন্দির কর্তৃপক্ষের অভিযোগ স্থানীয় এক যুবদল নেতা ও ব্যবসায়ীর নেতৃত্বে এই দখলচেষ্টা চালানো হয়েছে। তবে অভিযুক্তরা দাবি করেছেন, তারা কোনো জোরপূর্বক দখল চান না এবং সরকারি নিয়ম মেনেই সবকিছু করবেন।
বিষ্ণুপুর কালীমন্দিরের সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উত্তম ভৌমিক জানান, মন্দিরের প্রায় ৮৬ শতক জমির দুই পাশ দিয়ে রাস্তা রয়েছে। রাস্তার পাশের এই সরকারি জায়গাটি দীর্ঘদিন ধরে মন্দির কর্তৃপক্ষই দেখাশোনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছিল। সেখানে প্রতিবছর ফসল চাষের পাশাপাশি স্থানীয় শিশুরা খেলাধুলা করে থাকে। মানবিক কারণে এর আগে সেখানে দুটি ঘর নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে আলোচনার মাধ্যমে ঘরগুলো সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। গত ৩ জুলাই সন্ধ্যায় স্থানীয়দের নিয়ে একটি শান্তি সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং ১০ দিনের মধ্যে বিষয়টি সমাধানের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু ওই রাতেই নতুন করে খুঁটি পুঁতে জমি দখলের চেষ্টা চালায় স্থানীয় যুবদল নেতা উজ্জ্বল ও ব্যবসায়ী মঞ্জু বিশ্বাসসহ কয়েকজন।
তিনি প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এই অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করে আগের পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানান। এদিকে ইউনিয়ন ভূমি অফিস জানিয়েছে, রাস্তার সরকারি জায়গায় নতুন করে কোনো দোকান বা স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই।
স্থানীয় ফল ব্যবসায়ী জেনার শেখ জানান, তিন দিন আগে ব্যবসা শেষে বাড়ি ফেরার পথে তিনি ওই স্থানে দোকান নির্মাণ এবং বিএনপির অফিস করার বিষয়ে কিছু মানুষকে আলোচনা করতে দেখেন।
তিনি বলেন, "আমি তাদের বলেছিলাম কালী মন্দির সংলগ্ন জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা হলে এলাকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হতে পারে। এ নিয়ে কিছুটা বাকবিতণ্ডা হলেও পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি শান্ত হয়।"
বিষয়টি নিয়ে শাহাবাদ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান স্পষ্ট করে বলেন, "ওই স্থানে বিএনপির কোনো অনুমোদিত অফিস নেই। দলের অনুমতি ছাড়া কেউ যদি বিএনপির নাম ব্যবহার করে, তবে তার দায় দল নেবে না। কিছু ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে।" তিনি দ্রুত প্রশাসনকে এই স্থানটি দখলমুক্ত করার আহ্বান জানান।
অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী মঞ্জু বিশ্বাস বলেন, "আমি জোর করে কোনো জায়গা দখল করতে চাইনি। সেখানে আলোচনা হচ্ছিল বলে আমি উপস্থিত ছিলাম। প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত দেবে, আমি তা মেনে নেব।"
অন্যদিকে যুবদল নেতা উজ্জ্বল তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন: আমি বিএনপির কোনো অফিস করার জন্য খুঁটি পুঁতিনি, নিজের ব্যবসার প্রয়োজনে পুঁতেছিলাম। পরে যখন জানতে পারি জায়গাটি সড়কের সরকারি অংশ এবং মন্দিরের সামনে অবস্থিত, তখন আমি নিজেই খুঁটিগুলো সরিয়ে নিয়েছি। ভবিষ্যতে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বরাদ্দ পেলে তবেই সেখানে কাজ করব। আমি এলাকায় কোনো অশান্তি চাই না।
নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) টি এম রাহসিন কবির জানিয়েছেন, এই বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, "সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
news@26banglatv.com