সারা বাংলা খুলনা ঝিনাইদহ
তিন অন্ধ সন্তান ও পঙ্গু স্ত্রীকে নিয়ে অশীতিপর শামসুল ইসলামের নির্মম জীবনযুদ্ধ, পাশে ইউএনও
২৬ বাংলা টিভি 05-Jun-2026 24
তিন অন্ধ সন্তান ও পঙ্গু স্ত্রীকে নিয়ে অশীতিপর শামসুল ইসলামের নির্মম জীবনযুদ্ধ, পাশে ইউএনও
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
নিয়তির একেকটি নিষ্ঠুর আঘাত যেন লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে পুরো পরিবারটিকে। এক বুক কষ্ট আর ঘোর অন্ধকারকে সঙ্গী করে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এক নির্মম পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছেন অশীতিপর বৃদ্ধ শামসুল ইসলাম। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের নরেন্দ্রপুর গ্রামের এই অসহায় বৃদ্ধের প্রতিদিনের বেঁচে থাকার লড়াই যেকোনো পাথরহৃদয়কেও কাঁদিয়ে তুলবে। ঘরে তিনটি দৃষ্টিহীন সন্তান আর শয্যাশায়ী পঙ্গু স্ত্রী—সব মিলিয়ে অভাব-অনটনের সংসারে ধুঁকে ধুঁকে কাটছে এক অসহায় বাবার জীবন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শামসুল ইসলামের চার সন্তানের মধ্যে তিনটি সন্তানই জন্মগতভাবে অন্ধ। সংসারের এই চরম বিপর্যয়ের মাঝেই এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় একটি পায়ের কার্যক্ষমতা হারিয়ে সম্পূর্ণ পঙ্গু হয়ে পড়েন তার স্ত্রী সালেহা বেগম। কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাস যেন এখানেই থামেনি; মেজো মেয়েটি চোখে দেখতে না পাওয়ার অপরাধে সম্প্রতি তাকে শ্বশুরবাড়ি থেকেও তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্ধ সন্তানদের ভবিষ্যৎ আর অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসা—সব মিলিয়ে বর্তমানে এই পরিবারের দুমুঠো অন্নসংস্থান ও বেঁচে থাকাটাই চরম অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
সম্প্রতি এক সংবাদকর্মীর মাধ্যমে এই পরিবারের চরম দুর্দশার খবর পেয়ে নরেন্দ্রপুর গ্রামে শামসুল ইসলামের জরাজীর্ণ বাড়িতে ছুটে যান কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ। এ সময় তার সাথে ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চক্ষু বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মুহা. নাঈম সিদ্দিকী। তিনি প্রাথমিকভাবে দৃষ্টিহীন সন্তানদের চোখ পরীক্ষা করেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু মেডিকেল টেস্টের পরামর্শ দেন।
পরিবারটির এই মানবিক বিপর্যয় দেখে তাৎক্ষণিকভাবে পরম মমতায় পাশে দাঁড়ান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ। তিনি বৃদ্ধ শামসুল ইসলামের হাতে নগদ অর্থ সহায়তা ও শুকনা খাবার তুলে দেন। একই সাথে অর্থাভাবে চিকিৎসা থমকে যাওয়া পঙ্গু স্ত্রীর যাতায়াতের সুবিধার্থে দ্রুত একটি হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা করার জোরালো প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
উপজেলা প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। তবে এই চরম বিপর্যস্ত পরিবারটির স্থায়ী পুনর্বাসন এবং দৃষ্টিহীন সন্তানদের উন্নত ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার জন্য কেবল সরকারি সহায়তাই যথেষ্ট নয়। তাই সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্যের হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
news@26banglatv.com