সারা বাংলা খুলনা খুলনা
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ গবেষণায় আগ্রহী অস্ট্রেলিয়ান ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কমিশন
২৬ বাংলা টিভি 21-May-2026 43
খুলনা প্রতিনিধি:
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ গবেষণা, একাডেমিক কোলাবরেশন ও উচ্চশিক্ষা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে অস্ট্রেলিয়ান ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কমিশন। বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে কমিশনের প্রতিনিধি দল এ আগ্রহের কথা জানায়।
প্রতিনিধি দলে ছিলেন অস্ট্রেলিয়ান ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কমিশনের কমিশনার মেঘা গুপ্ত এবং বৃহত্তর দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের সিনিয়র ডিরেক্টর (ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট) মোস্তাফিজুর রহমান।
সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষের মধ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ, যৌথ গবেষণা, কারিকুলাম উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও সাইবার সিকিউরিটিসহ বিভিন্ন বিষয়ে অংশীদারিত্বমূলক কর্মসূচি চালুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় খুলনা অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথভাবে গবেষণা ও কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রতিনিধি দলকে জানায়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে শিক্ষা ও গবেষণার আন্তর্জাতিকীকরণে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি এবং একাডেমিক সহযোগিতা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে ‘ইরাসমাস মুন্ডাস’ ও ‘সাকুরা সায়েন্স এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম’ উল্লেখযোগ্য।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান স্কিল-বেজড কার্যক্রম এবং পাইকগাছাস্থ অফশোর ক্যাম্পাসকে ঘিরে নেওয়া দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিষয়ও প্রতিনিধি দলকে অবহিত করা হয়। বিশেষ করে সুন্দরবনের নিকটবর্তী ওই ক্যাম্পাসকে কেন্দ্র করে উপকূলীয় প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়।
আলোচনায় সম্প্রতি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাপানিজ ল্যাঙ্গুয়েজ ন্যাট-টেস্ট সাইট চালুর বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা ও বৈশ্বিক কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, “সুন্দরবনের নিকটবর্তী হওয়ায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার অপার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ইনস্টিটিউট ফর ইন্টিগ্রেটেড স্টাডিজ অন দ্য সুন্দরবনস অ্যান্ড কোস্টাল ইকোসিস্টেমস (আইআইএসএসসিই)-এর মাধ্যমে উপকূলকেন্দ্রিক বিশ্বমানের গবেষণা পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।”
তিনি যৌথ গবেষণা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক সক্ষমতা আরও সম্প্রসারণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাৎ শেষে উপাচার্য প্রতিনিধি দলের সদস্যদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোগ্রাম খচিত ক্রেস্টসহ স্মারক উপহার প্রদান করেন। প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকেও উপাচার্যকে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সামাজিক বিজ্ঞান স্কুলের ডিন প্রফেসর শেখ শারাফাত হোসেন, রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টারের পরিচালক প্রফেসর ড. কাজী মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম, অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. আশিক উর রহমান, কেন্দ্রীয় গবেষণাগারের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. এনামুল কবীর এবং আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক প্রফেসর ড. মো. সালাউদ্দীন।
news@26banglatv.com