সারা বাংলা খুলনা ঝিনাইদহ
কোটচাঁদপুরে চোরচক্রের তাণ্ডব: এক রাতে ৫ দোকানে লুট, পুলিশ ও নৈশপ্রহরীদের ভূমিকা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ।
২৬ বাংলা টিভি 30-Apr-2026 34
কোটচাঁদপুরে চোরচক্রের তাণ্ডব: এক রাতে ৫ দোকানে লুট, পুলিশ ও নৈশপ্রহরীদের ভূমিকা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ।
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র মেইন বাজা' রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। পুলিশি টহল ও নাইট গার্ডদের দায়িত্বহীনতার সুযোগ নিয়ে এক রাতে সংঘবদ্ধ চোরচক্র পাঁচটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তালা ভেঙে নগদ অর্থ লুট করেছে। বুধবার দিবাগত গভীর রাতে বৃষ্টিমুখর আবহাওয়ায় এই দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটে। শহরের কেন্দ্রস্থলে পৌর পুলিশ ফাঁড়ির ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে এমন তাণ্ডবে ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে,চোরচক্রটি পরিকল্পিতভাবে একের পর এক দোকানের তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। দোকানগুলোর ক্যাশবাক্স ভেঙে নগদ টাকা লুটে নেয় তারা। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান ও প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিম্নরূপ:রাজ্জাক সু-স্টোর নগদ ২৭,০০০ টাকা শাহিন গার্মেন্টস নগদ ১৭,০০০ - ২০,০০০ টাকা শামীম কসমেটিকস নগদ ৭,০০০ টাকা জুয়েল বস্ত্রালয় নগদ ৭,০০০ টাকা লিটন কসমেটিকস টাকার।পৌরসভার প্রধান বাণিজ্যিক এলাকায় এমন ঘটনায় প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, রাতে বাজারে পর্যাপ্ত পুলিশি টহল না থাকা এবং নৈশপ্রহরীদের চরম অবহেলার কারণেই চোরচক্র এত বড় সাহস পেয়েছে।
বস্ত্র ও দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আনারুল ইসলাম সেন্টু বলেন:
"রাত ৮টার পর দোকান বন্ধ করে ব্যবসায়ীরা বাড়ি ফেরার পর বৃষ্টির সুযোগ নিয়েছে চোরেরা। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ইতিমধ্যে প্রশাসনকে হস্তান্তর করেছি। আমরা চাই দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক।"
তবে সাধারণ ব্যবসায়ীদের বক্তব্য আরও কঠোর। তাদের দাবি, চুরির পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা প্রশাসনের রুটিন কাজ হতে পারে, কিন্তু ঘটনার সময় কার্যকর প্রতিরোধ কেন নেই? পুলিশের সঠিক নজরদারি ও নৈশপ্রহরীদের কড়া পাহারা থাকলে বারবার এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটত না।
প্রশাসনের প্রতি দাবি ও আগামীর প্রত্যাশা
কোটচাঁদপুর মেইন বাজার এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয়রা ও ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের কাছে নিম্নোক্ত দাবি জানিয়েছেন:
মেইন বাজারের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে রাতভর পুলিশের গতিবিধি জোরদার করতে হবে। ডিউটিরত নাইট গার্ড এবং দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের গাফিলতি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চিহ্নিত অপরাধীদের অতি দ্রুত গ্রেফতার ও লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধার করতে হবে।একটি সচল ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রে প্রশাসনের নাকের ডগায় এক রাতে পাঁচটি দোকানে চুরি কেবল অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, বরং স্থানীয় নিরাপত্তার কঙ্কালসার চিত্রটিই ফুটিয়ে তোলে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ব্যবসায়ীদের আস্থা ফেরাতে প্রশাসনের কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, সাধারণ মানুষের ক্ষোভ যেকোনো সময় গণবিক্ষোভে রূপ নিতে পারে।
news@26banglatv.com