সারা বাংলা ময়মনসিংহ নেত্রকোণা
চাচার ধর্ষণের শিকার শিশু জীবন বাঁচাতে কেটে ফেলতে হল জরায়ু
২৬ বাংলা টিভি 11-Mar-2026 57
চাচার ধর্ষণের শিকার শিশু জীবন বাঁচাতে কেটে ফেলতে হল জরায়ু
নেত্রকোনা প্রতিনিধি :
দুই মাস আগে ৭বছরের এক কন্যা শিশুকে প্রতিবেশী কিশোর চাচা ধর্ষণ করে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে শিশুটিকে। ইনফেকশন হওয়ায় শিশুটির জীবন বাঁচাতে কেটে ফেলতে হলো জরায়ু। চিরতরে ভেঙে গেল মেয়েটির মা হওয়ার স্বপ্ন। এমনি এক ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে নেত্রকোনার বারহাট্টায়।
অভিযুক্ত নুর জামাল (১৬) উপজেলার বাউসী ইউনিয়নের শাসনউড়া গ্রামে নিজাম উদ্দিনের ছেলে।
শিশুটির পরিবার ও এলাকাবাসী জানায়, গত দুই মাস আগে (জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে) নিজ বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগ নেয় নুর জামাল। কৌশলে শিশুটিকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে যায়। শিশুটির ওপর চালায় পাশবিক নির্যাতন। কাউকে কিছু বললে শিশুটিকে মেরে ফেলারও ভয় দেখায় নূর জামাল। শিশুটি কাউকে কিছু না বলা ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়ে। স্থানীয় ডাক্তার দেখিয়ে ওষুধ খেলে পেট ব্যাথা কমে যায়। কিন্তু কিছুদিন পর পেট ব্যথার মাত্রা তীব্র আকার ধারণ করে। পরে চিকিৎসক আলট্রাসনোগ্রাম করার পরামর্শ দেন। রিপোর্ট পেয়ে ডাক্তার শিশুটির পরিবারকে ভয়াবহ পাশবিক নির্যাতনের কথা জানান। এরই মধ্যে শিশুটির জরায়ুতে ইনফেকশন হয়ে যায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের নিয়ে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকরা অপারেশনের মাধ্যমে শিশুটির জরায়ু অপসারণ করেন। ক্যান্সার থেকেও রক্ষা পায় শিশুটি। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে প্রভাবশালী মহল চাপ দিচ্ছে।
শিশুটির বাবা বলেন, আমার মেয়েকে নুর জামাল ধর্ষণ করে। ঘটনাটি আমাদেরকে জানালে তাকে হত্যা করার হুমকিও দেয় সে। ভয়ে না বলায় আমার মেয়ের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল। তার জীবন বাঁচাতে পেরেছি। কিন্তু কখনো সে মা হতে পারবে না। আমি আমার মেয়ের এই সর্বনাশের বিচার চাই।
ভুক্তভোগীর বাবা আরও জানান, এলাকা থেকে অনেকেই আমাকে ফোন করে চাপ দিচ্ছে, যেন আমি মামলা না করি। তারা টাকা-পয়সা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করে ফেলতে বলছে। এই পরিস্থিতিতে এলাকার মানুষের কাছ থেকে মীমাংসার জন্য তদবির হুমকি পাচ্ছি। আইনগত সহযোগিতার আশ্বাস পেয়েছি স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতির কাছ থেকে। বাড়িতে এসে মামলা করবো।
বেসরকারি সংস্থা স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতি কর্মসূচি ব্যবস্থাপক কোহিনূর বেগম জানান, ভুক্তভোগী ও তার পরিবার নিরাপত্তাজনিত কারণে আত্মগোপনে রয়েছে। আমাদের একজন কর্মীর মাধ্যমে তাদের সাথে যোগাযোগ করে আইনী সহায়তার আশ্বাস দিয়েছি। তাদের সার্বিক নিরাপত্তা প্রদান করা হবে।
বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হাসান জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
news@26banglatv.com