সারা বাংলা ঢাকা ফরিদপুর
ফরিদপুরে একজনকে কুপিয়ে হত্যা
২৬ বাংলা টিভি 03-Mar-2026 56
ফরিদপুরে রাজু শেখ (৩৮) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা
ফরিদপুর প্রতিনিধি:
ফরিদপুরে রাজু শেখ (৩৮) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার রাত ১০টার দিকে শহরের স্টেশন বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত রাজু শেখ ফরিদপুর শহরের দুই নম্বর কুটিবাড়ি মহল্লার স্টেশন বাজার মুসলিম কলোনি এলাকার বাসিন্দা বাবলু কসাইয়ের ছেলে। তার স্ত্রী, এক মেয়ে ও এক ছেলে আছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে ওই এলাকার মাদক ব্যবসায়ী শিল্পী বেগমের জামাতা হৃদয় শেখ ও তার আরও চার থেকে পাঁচ জন সহযোগী চাপাতি, রামদাসহ ধারালো অস্ত্র নিয়ে রাজু শেখের ওপর হামলা চালান। এ সময় হামলাকারীরা রাজুর দুই পা ও ডান হাতের বিভিন্ন জায়গায় কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে যান। ঘটনার প্রায় ১০ মিনিট পর এলাকাবাসী গুরুতর আহত অবস্থায় রাজুকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
রাজু শেখের মা ছবি বেগম বলেন, কিছুদিন আগে শহরের স্টেশন বাজার সংলগ্ন লাশকাটা বস্তি এলাকায় সেনাবাহিনী অভিযান চালায়। অভিযানকালে তারা মাদক ব্যবসায়ী শিল্পীকে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ আটক করে। এ ঘটনায় রাজু জড়িত সন্দেহ করে শিল্পীর জামাতা হৃদয় তার সহযোগীদের নিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
রাজু শেখের ছেলে নীরব জানান, হৃদয় ও তার সহযোগীরা তার বাবাকে ধরে আগে চোখেমুখে হলুদের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয়। এ সময় তার বাবা নিচে পড়ে গেলে তাকে কুপিয়ে জখম করে এবং পায়ের রগ কেটে দেয়।
রাজুর বাবা বাবলু কসাই বলেন, ‘আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে, তাদের বিচার চাই, ফাঁসি চাই। বিচার না হলে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড বাড়তেই থাকবে।’
পুলিশ জানায়, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পুলিশ সুপার বলেন, ‘মাদকসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে হৃদয় শেখ নামে যার কথা শোনা যাচ্ছে, সে একজন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী এবং একাধিকবার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। এ ঘটনার পর পুলিশের একাধিক দল বিভিন্ন স্থানে কাজ করছে এবং এ পর্যন্ত সন্দেভাজন তিন জনকে আটক করা হয়েছে।’
পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনার এজাহার এখনও আমরা পাইনি। এজাহার পাওয়ার পর দোষী ব্যক্তিদের গ্রেফতারের জন্য সাঁড়াশি অভিযান চালানো হবে। ফরিদপুর রেলস্টেশন কলোনি ও বস্তি এলাকায় মাদকের কারবার হয় বলে আমরা জানতে পেরেছি। এই দুই জায়গায় যারা মাদকের সঙ্গে জড়িত, তাদের তালিকা করে গ্রেফতারে অভিযান শুরু হবে। সেইসঙ্গে হত্যার ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।’
news@26banglatv.com