সারা বাংলা খুলনা কুষ্টিয়া
ফ্যাসিস্টমুক্ত শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে ইবি ছাত্রদলের স্মারকলিপি, বিক্ষোভ
২৬ বাংলা টিভি 10-Oct-2025 93
ফ্যাসিস্টমুক্ত শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে ইবি ছাত্রদলের স্মারকলিপি, বিক্ষোভ
ইবি প্রতিনিধি:
জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শুরু হওয়া প্রথম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ‘ফ্যাসিস্টমুক্ত শিক্ষক নিয়োগ’ নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল।
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর দেওয়া এক লিখিত আবেদনপত্রে ছাত্রদল আহ্বায়ক মো. সাহেদ আহম্মেদ ও সদস্য সচিব মাসুদ রুমী মিথুন এই দাবি জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৯ অক্টোবর ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী-ছাত্রলীগের দোসর হিসেবে পরিচিত রাকিবুল ইসলাম রাকিব নামে এক প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন, যিনি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এটি জুলাই চেতনার পরিপন্থী ও জুলাই আন্দোলনের শহীদদের রক্তের প্রতি বেঈমানির শামিল বলেও উল্লেখ করা হয়।
ছাত্রদল নেতারা আরও বলেন, বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) 'ল অ্যান্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট' বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরাও অংশ নেবে বলে জানা গেছে।
বিবৃতিতে তারা বলেন, “আমরা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল কোনোভাবেই জুলাই চেতনাকে বাধাগ্রস্ত করতে চাই না। আমরা আশা করি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদেরকে একটি ফ্যাসিস্টমুক্ত শিক্ষক নিয়োগ উপহার দেবেন।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, "আমরা ফ্যাসিস্টমুক্ত শিক্ষক নিয়োগ দিতে বদ্ধপরিকর।"
এছাড়া বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবনে সিনা বিজ্ঞান ভবনের ডিন অফিসে প্রশাসনিক বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকে বসেন। এতে সকাল ১০ টায় পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও যথা সময়ে তারা পরীক্ষা শুরু করতে পারে নি প্রশাসন। পরে ১০ টা ৪০ মিনিটে বৈঠক থেকে বেরিয়ে আসেন ছাত্রনেতারা। এসময় শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা উক্ত ভবনের নিচে বিক্ষোভ মিছিল করে।
স্লোগানে বলেন, "ফ্যাসিস্টদের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না; ফ্যাসিস্টযুক্ত নিয়োগ বোর্ড, মানিনা মানবো না; ছাত্রলীগ থাকবে যেখানে, জুলাই হবে সেখানে; নিয়োগ নিয়ে বাণিজ্য, মানিনা মানবো না; অবৈধ নিয়োগ, মানিনা মানবো না।"
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এয়াকুব আলী ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক, প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ইবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ, সদস্য সচিব মাসুদ রুমি মিথুন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ, শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মু. মাহমুদুল হাসান, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নুর আলম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক এস. এম. সুইটসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এদিকে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ‘ফ্যাসিস্টদের অংশগ্রহণের’ প্রতিবাদে দুপুর আড়াইটায় ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে তালা দেয় ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মী। এতে কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহগামী বাসগুলো আটকে পড়ে। ভোগান্তিতে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা।
শিক্ষকদের অভিযোগ, তালা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা তাদের সঙ্গে অসদাচরণ ও হেনস্তা করা হয়। পরে ছাত্রদল কর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে সরে পড়েন। এ ঘটনায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে নিরাপত্তাকর্মীরা তালা ভেঙে ফটক খুলে দেন।
তালা দেওয়ার ঘটনায় জড়িতরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ বর্ষের শিক্ষার্থী রেজাউল করিম রাকিব, একই বর্ষের আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের গোলাম রব্বানি নয়ন ও মাজহার, হিউম্যার রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অপু, লোক প্রশাসন বিভাগের হাফিজ এবং ২০২৩-২৪ বর্ষের আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের আলীনূর ও ল অ্যান্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের তাহসিন আহমেদ জিম।
শাখা ছাত্রদলের কর্মী রেজাউল করিম রাকিব বলেন, আজকের নিয়োগ বোর্ডে ফ্যাসিস্ট এবং ছাত্রলীগের কয়েকজন প্রার্থী অংশ নিয়েছে। এ ছাড়া সাজিদের হত্যার ঘটনায় কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। এ ঘটনার প্রতিবাদেই আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে তালা দিয়েছি। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এই তালা দিয়েছি।
তালা দিয়ে সরে যাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ গেটে তালা দেওয়ার পর আমরা অন্য একটি গেইটে তালা দিতে গিয়েছিলাম। তবে আমাদের কয়েকজন তখনও সেখানে ছিল।
শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ বলেন, কারা তালা দিয়েছে আমি জানি না। এ ঘটনার সঙ্গে ছাত্রদলের কোনো সম্পর্ক নেই। এ রকম কোনো কর্মসূচি আমাদের ছিল না।
প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা কাউকে পাইনি। তবে যারা গেটে তালা দিয়েছে, তাদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, শিক্ষার্থী হিসেবে যাদের মেধার ভিত্তিতে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে, তারাই আবেদন করেছে এবং পরীক্ষা দিয়েছে। পরীক্ষার দেওয়ার সুযোগ সবাই পাবে। দল বিবেচ্য নয়। আমরা স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে বদ্ধপরিকর।
news@26banglatv.com