সারা বাংলা খুলনা ঝিনাইদহ
আত্নগোপনে থাকা আসামিদের দলিল লেখক লাইসেন্সের দায়িত্ব নিলেন সাব রেজিষ্ট্রার
২৬ বাংলা টিভি 19-Jan-2026 26
আত্নগোপনে থাকা আসামিদের দলিল লেখক লাইসেন্সের দায়িত্ব নিলেন সাব রেজিষ্ট্রার
কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি :
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে আত্নগোপনে থাকা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও দুদকের পলাতক আসামি নাসির উদ্দিন চৌধুরিসহ, একাধিক মামলা নিয়ে পালিয়ে থাকা আওয়ামীলীগ নেতাদের দলিল লেখক লাইসেন্স নবায়নের দায়িত্ব নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে খোদ উপজেলা সাব রেজিষ্ট্রার রিপন মুন্সি’র বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে ।
জানাগেছে, আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে ব্যাপক দাপুটে নাসির চৌধুরির বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা থাকলেও ৬ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০২১ সালে দুদকের মামলায় আসামি হন তিনি। ২০২৪ সালে ৫ আগষ্ট শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করলে ওই দিনই গৃহত্যাগ করেন কালীগঞ্জ দলিল লেখক সিন্ডিকেটের প্রধান নাসির উদ্দিন চৌধুরি। সে সময় সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য তার ভাই আহাদ আলী, ভাইরা কামাল হোসেন , সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুজ্জামান রাসেল , রবিউল ইসলাম একাধিক মামলা নিয়ে আত্নগোপনে চলে যান। পরে তাদের অনেকের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। অভিযোগ উঠেছে মোটা অংকের টাকার মাধ্যমে একাধিক মামলা নিয়ে পালিয়ে থাকা এসব আসামিদের পুনরায় রেজিষ্ট্রি অফিসে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব নিয়েছেন সাব রেজিষ্ট্রার রিপন মুন্সি। সে হিসাবে চলতি বছরে পালিয়ে থাকা এ সব আসামিদের দলিল লেখক লাইসেন্সের সুপারিশ করে জেলা অফিসে পাঠিয়েছেন সাব রেজিষ্ট্রার।
এছাড়া কালীগঞ্জ সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের নকল নবিশ সাহেব আলী, টিসি মহুরি নাজমা খাতুন ও মহুরি সবুজ হোসেনকে দিয়ে দলিক লেখকদের কাছ থেকে সরকারি ফিস বাদে অতিরিক্ত ৩ হাজার টাকা করে উত্তোলন করেছেন। সাব রেজিষ্ট্রার রিপন মুন্সি তার সিন্ডিকেট দিয়ে নানা অজুহাতে প্রতিনিয়ত টাকা উত্তোলন করছেন দলিল লেখক ও সাধারন ভূক্তভোগীদের কাছ থেকে ।
এ ব্যাপারে একাধিক দলিল লেখক না প্রকাশ না করা শর্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন , প্রতি বছর ১ টি লাইসেন্সে ৩০০ টি দলিল লিখতে হবে। অথচ নাসিরসহ এসব আসামিরা আজ ২ বছর পলাতক থাকার পরও তাদের লাইসেন্স নবায়নের জন্য সাব রেজিষ্ট্রার নিজে সুপারিশ করেছেন। এ সময় দলিল লেখকরা মোটা অর্থের লেনদেনের অভিযোগ তোলেন।
এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ উপজেলা সাব রেজিষ্ট্রার রিপন মুন্সি প্রতিবেদকের কাছে প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে তা স্বীকার করে বলেন, এখন লাইসেন্স নবায়ন হবে কিনা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে জেলা রেজিষ্ট্রার। লাইসেন্স নবায়নের আইনি দিক তুলে ধরা হলে তিনি নানা যুক্তি দাড় করানোর চেষ্টা করে গুজবে কান দেওয়ার পরমর্শ দেন প্রতিবেদককে।
ঘটনার ব্যাপারে জেলা রেজিষ্ট্রার সাব্বির আহমেদ বলেন, ঘটনাটি আমার জানা নেই । তাই আমি এ ব্যাপারে এখন কিছু বলতে পারছি না ।
news@26banglatv.com