সারা বাংলা খুলনা ঝিনাইদহ
৫ বছরে অগ্রগতি মাত্র ২%? যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়ক যেন ভোগান্তির করিডর
২৬ বাংলা টিভি 03-Oct-2025 74
৫ বছরে অগ্রগতি মাত্র ২%? যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়ক যেন ভোগান্তির করিডর
স্টাফ রিপোর্টার,ঝিনাইদহঃ
খুলনা, কুষ্টিয়া ও উত্তরবঙ্গের যোগাযোগের অন্যতম লাইফলাইন যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়ক এখন সাধারণ মানুষ ও চালকদের কাছে এক চরম ভোগান্তির করিডর! ২০২০ সালে নেওয়া ৬ লেন-এ উন্নীত করার মেগা প্রকল্প ওয়েস্টার্ন ইকোনমিক করিডর (উইকেয়ার, ফেজ-১) পাঁচ বছর পেরোলেও যশোর অংশে কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ২ শতাংশ! ২০২৩ সালের মধ্যে ১৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কথা থাকলেও এই ধীরগতিতে বেহাল সড়কের দুর্ভোগে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন যাত্রী ও চালকরা।
বেহাল দশা: এক ঘণ্টার পথ এখন আড়াই ঘণ্টার!
মহাসড়কের চরম খারাপ অবস্থা নিত্যদিনের যাতায়াতকে দুর্বিষহ করে তুলেছে:
* চালকদের ক্ষোভ: ট্রাকচালক আব্দুস সোবহান জানিয়েছেন, গত পাঁচ বছর ধরে সড়কে চলাচল করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এক ঘণ্টার পথ পার হতে এখন আড়াই ঘণ্টা লাগছে। নিয়মিত সংস্কার না হওয়ায় গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে এবং ভোগান্তির শেষ নেই।
* যাত্রী ও ঝুঁকি: বাসচালক ওয়াহিদুজ্জামান রয়েলের মতে, সড়কটি এখন 'মহাসড়কের চেয়ে ইটের রাস্তা' মনে হয়। বৃষ্টি হলেই খানাখন্দ বেড়ে যায়, গন্তব্যে পৌঁছাতে দেরি হয়, আর প্রায় দুর্ঘটনা ঘটে।
কেন এই ধীরগতি? 'জমি অধিগ্রহণই মূল চ্যালেঞ্জ'
পাঁচ বছরে মাত্র ২% কাজ হওয়ার পেছনে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ও জেলা প্রশাসনের বক্তব্য ভিন্ন হলেও মূল সমস্যা জমি অধিগ্রহণ:
* সংস্কার বন্ধ: যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া জানিয়েছেন, ৬ লেন প্রকল্প হাতে নেওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী মহাসড়কটি প্রকল্প পরিচালকের কাছে হস্তান্তর করতে হয়েছে। তাই আলাদা করে নিয়মিত সংস্কারের জন্য আর বরাদ্দ মিলছে না। তবে জরুরি ভিত্তিতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জায়গায় ইট দিয়ে তিন স্তরের সলিং করা হয়েছে।
*প্রকল্প পরিচালকের দাবি: ওয়েস্টার্ন ইকোনমিক করিডর (উইকেয়ার, ফেজ-১) প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী নকিবুল বারী বলেন, ২০২০ সালে অনুমোদন হলেও ডিজাইন ও ঠিকাদার নিয়োগে প্রায় সাড়ে তিন বছর সময় লেগেছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে মূল চ্যালেঞ্জ হলো ভূমি অধিগ্রহণ। জেলা প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করলে দ্রুত পরিশোধ করে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ৯০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করার আশা করা হচ্ছে।
* জেলা প্রশাসনের আশ্বাস: অন্যদিকে, যশোর জেলা প্রশাসন দাবি করেছে জমি অধিগ্রহণ প্রায় শেষ পর্যায়ে। জেলা প্রশাসক মো. আজাহারুল ইসলাম জানান, ৫০ একরের বেশি হওয়ায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন দরকার ছিল, যা সম্প্রতি পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের অবকাঠামো ও অন্যান্য ক্ষতির প্রাক্কলন নির্ধারণের কাজ চলছে, যা নির্ভুলভাবে দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে।
৬২৬ কোটি টাকার প্রকল্পে কী কী হবে?
৬২৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকার এই প্রকল্পের আওতায় যশোর সদরের মুরাদগড় থেকে যশোর শহরের চাঁচড়া মোড় পর্যন্ত মহাসড়কে নির্মিত হবে:
* দুটি ফ্লাইওভার
* একটি সেতু
* ১৫টি কালভার্ট
* একটি ভেহিকুলার ওভারপাস
* একটি পেডিস্ট্রিয়ান ওভারপাস
যাত্রী ও চালকদের তীব্র দুর্ভোগের মুখে যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের ৬ লেন প্রকল্পের কাজ গতি পাবে কি না, সেদিকেই এখন সবার নজর। দ্রুত ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তবেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
news@26banglatv.com