সারা বাংলা খুলনা যশোর
বেনাপোল স্থলবন্দরকে ইউনিফাইড বন্দর গড়ে তোলার পথে বড় বাধা জমি অধিগ্রহণ সংকট
২৬ বাংলা টিভি 30-Nov-2025 43
বেনাপোল স্থলবন্দরকে ইউনিফাইড বন্দর গড়ে তোলার পথে বড় বাধা জমি অধিগ্রহণ সংকট
বেনাপোল প্রতিনিধি:
দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর বেনাপোলকে আন্তর্জাতিকমানের ‘ইউনিফাইড বন্দর’ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে প্রায় ৩ হাজার ৫শ কোটি টাকার ‘এক্সেস’ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। বেনাপোল স্থলবন্দরে ১০২ একর জমি অধিগ্রহণ করার কথা থাকলে মাত্র ৫২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয় যা প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। ব্যবসায়ীদের দাবি তারা ইতোপূর্বে কয়েকবার জমি অধিগ্রহনের জন্য বাংলাদেশ স্থলবন্দর বরাবর লিখিত দাবি জানিয়েছেন। বেনাপোল প্রতিনিধি’র পাঠানো তথ্য চিত্রে ডেক্স রিপোর্ট।
প্যাকেজ : দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল, এই বন্দর দিয়ে সরকার প্রতি বছরের ৮ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে থাকে। বেনাপোলকে আন্তর্জাতিকমানের ‘ইউনিফাইড বন্দর’ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে প্রায় ৩ হাজার ৫শ কোটি টাকার ‘এক্সেস’ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ইউনিফাইড বন্দরে থাকছে আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ, দ্রুত সেবা প্রদান ও বাণিজ্য প্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই বড় সংকট দেখা দিয়েছে জমি অধিগ্রহণে। প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় ১০২ একর জমির মধ্যে এখন পর্যন্ত অধিগ্রহণ করা গেছে মাত্র ৫২ একর যা প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেকেরও কম।
এই জমিতে আধুনিক ওয়্যারহাউস, কনটেইনার টার্মিনাল, হেভি স্টক ইয়ার্ড, বৃহৎ ট্রাক টার্মিনাল, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, ফায়ার স্টেশনসহ সমন্বিত বন্দর অবকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। জমি সংকটের কারণে এসব কাঠামো নির্মাণ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মনে করেন, বর্তমান অবকাঠামো বহু আগেই অপ্রতুল হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন আমদানি পণ্যের পরিমাণ বাড়লেও শেড ও ইয়ার্ডের সীমিত ধারণক্ষমতার কারণে পণ্যজট এখন নিয়মিত ঘটনা। সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের অভিযোগ—জায়গার অভাবে ভারতীয় সীমান্তে শত শত ট্রাক দিনের পর দিন আটকে থাকতে হয়; এতে শুধু পণ্যজটই বাড়ে না, ব্যবসায়ীদের ডেমারেজ খরচও কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তাদের মত, পর্যাপ্ত জায়গা ছাড়া আধুনিক বন্দর নির্মাণের মূল লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের এক নেতা বলেন, “১০২ একর জমি নিয়ে পুরো প্রকল্পের কাঠামো দাঁড়ানোর কথা। অর্ধেক জমি অধিগ্রহণ করে প্রায় ৩ হাজার ৫শ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন অসম্ভব। জমি সংকট দূর না হলে প্রকল্পটি কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে।”
সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী এবং বন্দর ব্যবহারকারী একাধিক ব্যক্তি জানান, জায়গা সংকটের কারণে সীমান্তে ট্রাকের সারি প্রতিদিনই দীর্ঘ হচ্ছে, খালাসে সময় বেশি লাগছে এবং শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও পরিবহন মালিকদের ভোগান্তিও বাড়ছে।
ভক্সপপ: ৪ জন, সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী ও বন্দর ব্যবহারকারী।
সিংক: মো. শামীম হোসেন, পরিচালক, বেনাপোল স্থলবন্দর।
এক্সেস প্রকল্পের আওতায় বুড়িমাড়ি, ভোমরা ও বেনাপোল এই তিনটা স্থলবন্দরে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যায়ে একটি প্রকল্প শুরু হচ্ছে। বেনাপোল বন্দরে অধিকাংশ উন্নায়ন সম্পুর্ন হবে।
news@26banglatv.com