সারা বাংলা খুলনা চুয়াডাঙ্গা
ভুয়া স্বর্ণ ছিনতাই মামলা সাজিয়ে শ্রমজীবী মানুষকে আটক করে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ, জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ এর বিরুদ্ধে সাংবাদিক সম্মেলন
২৬ বাংলা টিভি 14-Nov-2025 79
ভুয়া স্বর্ণ ছিনতাই মামলা সাজিয়ে শ্রমজীবী মানুষকে আটক করে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ মামুন হোসেন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী পরিবারের নারী সদস্যদের সাংবাদিক সম্মেলন
রিফাত রহমান,চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: ভুয়া স্বর্ণ ছিনতাই মামলা সাজিয়ে শ্রমজীবী মানুষকে আটক করে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগে চোরাকারবারী ও চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ মামুন হোসেন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী পরিবারের নারী সদস্যরা সাংবাদিক সম্মেলন করেছে। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিকাল ৫টায় জীবননগর উপজেলা শহরের মুক্তমঞ্চে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা মানববন্ধনের পর এক সাংবাদিক সম্মেলন করেন।
ভুক্তভোগী জীবননগর উপজেলার সীমান্তবর্তী নতুনপাড়া গ্রামের রাসেলের স্ত্রী তহমিনা লিখিত বক্তব্যে বলেন,গত ২ নভেম্বর'২৫ গোয়ালপাড়া গ্রামে একটি স্বর্ণ ছিনতাইয়ের কল্প কাহিনী বানানো হয়। ওই কল্প কাহিনী ১০ নভেম্বর'২৫ জীবননগর থানায় মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়,জীবননগর থানার মামলা নম্বর ৪। মামলার বাদী ঢাকা তাঁতিবাজারের মা বুলিয়ন স্টোর এ্যান্ড সিলভার বিক্রি প্রতিষ্ঠানের মালিক আনন্দমোহন বসাক লেনের বাসিন্দা মরহুম আব্দুল মজিদ শেখের ছেলে স্বর্ণ ব্যবসায়ী দাবীদার আকিদুল ইসলাম।
তিনি মামলার এজাহারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, জীবননগর উপজেলা শহরের আঁশতলাপাড়ার মরহুম জুরন মন্ডলের ছেলে শাহাজামাল তার কর্মচারী হিসেবে গত ৩ বছর কাজ করছে। জীবননগর উপজেলা শহরে এসবি জুয়েলার্সের চাহিদা মত স্বর্ণ তার মাধ্যমে পাঠানো হলে ওই স্বর্ণ ছিনতাই হয়ে যায়। আবার তিনি এজাহারে উল্লেখ করেছেন, এসবি জুয়েলার্সের মালিক সজীবের কাছে স্বর্ণগুলো পাঠানো হয়েছিল। সজিবের স্বর্ণের দোকান জীবননগর পৌরসভা শহরের মোল্লা মার্কেটে। এজাহারে উল্লেখ করা ছিনতাইয়ের ঘটনাস্থল ওই মার্কেট থেকে ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার দুরে। পশ্চিমে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত। এখন প্রশ্ন হচ্ছে,বাদীর পাঠানো স্বর্ণ এসবি জুয়েলার্সে পৌঁছে না দিয়ে স্বর্ণ বহনকারী শাহাজামাল ৪-৫ কিলোমিটার দুরে ভারত সীমান্তবর্তী গোয়ালপাড়ায় কি করতে গিয়েছিল ? গত ২ নভেম্বর প্রকাশ্য দিবালোকে গোয়ালপাড়ায় স্বর্ণ ছিনতাই হওয়ার পরপরই বাদী আকিদুল ইসলাম মামলা না করে কি উদ্দেশ্যে ৮ দিন কালক্ষেপণের পর মামলা করেছে তা প্রশ্নবিদ্ধ। আশ্চর্যের বিষয় স্বর্ণ ছিনতাই ঘটনার স্বাক্ষী করা হয় স্বর্ণ বহনকারী শাহাজামালের ছেলে মুরাদ ও জীবননগর পৌর এলাকার আশঁতলাপাড়ার আব্দুল আওয়ালের ছেলে তার নাতী ছেলে সিফাতকে। অবৈধ স্বর্ণ চোরাকারবারী মাফিয়ারা ও জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ মামুন হোসেন বিশ্বাসের যোগসাজসে গোটা জীবননগর উপজেলা স্বর্ণ চোরাকারবারীদের অভায়ারণ্যের পরিণত করেছে। অতীতেও অনেক রেকর্ড আছে এরকম, এটিও তার বাইরে নয়, বাদী আকিদুল ইসলামের স্বর্ণ কেনাবেচার কোন লাইসেন্স আছে কিনা এবং এত পরিমাণ পাঁকা স্বর্ণ ভারত সীমান্ত এলাকায় এলো কিভাবে ? যাচাই-বাছাই না করেই মামলা নথিভুক্ত করলেন কোন অদৃশ্য কারনে অফিসার ইনচার্জ মামুন হোসেন বিশ্বাস তা সন্দেহজনক। এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট যে, কল্প কাহিনীর ছিনতাই ঘটনার বাদী ঢাকার আকিদুল ইসলাম, এসবি জুয়েলার্সের মালিক সজীব, মামলার সাক্ষী শাহজামাল এবং তার ছেলে মুরাদ, শাহাজামালের নাতী ছেলে সিফাত,জীবননগর পৌরসভা ৮ নং ওয়ার্ডের আঁশতলাপাড়ায় বসবাস করে দীর্ঘদিন ধরে চোরাকারবারীর সাথে জড়িত রয়েছে। নইলে একই পরিবারের ৩ জন গোয়ালপাড়ার স্বর্ণ ছিনতাইয়ের স্থানে হাজির হলো কি করে ? বাদী আকিদুল এবং এসবি জুয়েলার্সের মালিক সজীব ও সাক্ষী ৩ জন জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ মামুন হোসেন বিশ্বাস মিলে এই অবৈধ স্বর্ণ আত্মসাৎ করেছে কি না তা তদন্ত সাপেক্ষে দেখার বিষয়। প্রতিনিয়তই সীমান্তবর্তী সাধারণ মানুষদের বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যে জীবন যাপন করতে হচ্ছে । এই ছিনতাই নাটক মামলায় যারা এজাহারভুক্ত তারা সকলেই নির্দোষ। তাদের মোবাইল লোকেশন যাচাই করলেই উঠে আসবে চাঞ্চল্যকর মামলায় ফাঁসানোর তথ্য ! স্বর্ণের দাবীদার আকিদুল, এসবি জুয়েলার্সের মালিক সজিব, সাক্ষীগণ শাহাজামাল ও তার ছেলে মুরাদ এবং তার নাতী ছেলে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ মামুন হোসেন বিশ্বাসের হোয়াটসঅ্যাপ বা মেসেঞ্জার অথবা মোবাইল ফোন কল তালিকা তুলে যাচাই করলে বেরিয়ে আসবে প্রকৃত ছিনতাই রহস্য। তা না হলে ভুক্তভোগীরা তাদের বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গা আদালতে প্রতিকার চেয়ে মামলা করবে। সুষ্ঠু তদন্ত করে চোরাকারবারীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবী জানানো হচ্ছে। এজাহারে যাদের নাম উল্লেখ করা আছে এরা সকলেই চোরাকারবারী ও পুলিশের বলির পাঁঠা হয়েছে। সে কারনে তাদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে, নইলে লাগাতার কর্মসূচি চলতে থাকবে। চোরাকারবারীদের অনুভূতির শক্তি বেশী, না খেটে খাওয়া দিনমজুর মানুষের অনুভূতির শক্তি বেশী তা দেখা যাবে।জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ মামুন হোসেন বিশ্বাস, মামলার বাদী আকিদুল ইসলাম, সাক্ষীগণ, জুয়েলার্সের মালিক সজীবের বক্তব্য স্পষ্ট ভাবে নিলে প্রকৃত ঘটনা উন্মোচিত হবে।
ভুয়া মামলা নথিভুক্ত করা প্রসঙ্গে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ মামুন হোসেন বিশ্বাস বলেন, মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে ঠিকই কিন্তু এটার তদন্ত করা হবে। ভুয়া মামলার তদন্তের আগেই কিভাবে চাপিয়ে দেয় অভিযোগে শ্রমজীবী নিরিহ মানুষদের আটক করা হলো - এ প্রশ্নের কোন জবাব তিনি দিতে পারেননি।
উল্লেখ্য, ঢাকা থেকে এক এডিশনাল আইজিপি এ মামলাটি নথিভুক্ত করার জন্য পুলিশ সুপারকে ফোন করে বলে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ মামুন হোসেন বিশ্বাস জানান।
news@26banglatv.com