সারা বাংলা খুলনা নড়াইল
নড়াইলে নদীর তীব্র ভাঙনে বিলীন জনপদ, নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন নড়াইল-২ আসনের এমপি আতাউর রহমান বাচ্চু
২৬ বাংলা টিভি 11-Sep-2026 25
নড়াইলে নদীর তীব্র ভাঙনে বিলীন জনপদ, নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন নড়াইল-২ আসনের এমপি আতাউর রহমান বাচ্চু
মোস্তফা কামাল, নড়াইল: নড়াইল জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত মধুমতি, নবগঙ্গা ও চিত্রা নদীর তীব্র ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নদীপাড়ের হাজার হাজার মানুষ। বর্ষা মৌসুম এলেই জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে একের পর এক বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি, হাট-বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয়। নদীভাঙনের এমন সার্বিক ভয়াবহ পরিস্থিতিতে লোহাগড়াসহ জেলার বিভিন্ন ভাঙনকবলিত এলাকা সরজমিনে পরিদর্শন করেছেন নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আতাউর রহমান বাচ্চু। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন, ভুক্তভোগীদের খোঁজখবর নেন এবং দ্রুত টেকসই সমাধানের আশ্বাস দেন।
এদিকে নড়াইল সদর উপজেলার হবখালী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রাচীরে মারাত্মক ফাটল ধরা ও পাজারখালি মহাশ্মশানের বড় অংশ নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় স্থানীয় জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা না হলে পুরো জেলাজুড়ে মারাত্মক মানবিক ও সামাজিক সংকটের আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা।
চিত্রা ও নবগঙ্গা নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা জানান, তীব্র ভাঙনে প্রতিদিনই বদলে যাচ্ছে হবখালী ইউনিয়নের সুব্দিডাঙ্গা ও ভান্ডালীপাড়াসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোর মানচিত্র। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভবনের খুব কাছাকাছি নদী চলে আসায় এবং সীমানাপ্রাচীরে ফাটল ধরায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ ও শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, "হাজার হাজার মানুষের চিকিৎসাসেবার একমাত্র ভরসাস্থল এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি এখন নদীভাঙনের ঝুঁকিতে। সরকার দ্রুত জিওব্যাগ ফেলে বা টেকসই ব্যবস্থা না নিলে পুরো সেবা কার্যক্রমই বন্ধ হয়ে যাবে।"
অন্যদিকে, নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে পাজারখালি মহাশ্মশানের মূল কাঠামোর বড় অংশ। স্থানীয়দের দাবি, ইতোমধ্যে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাত জায়গা নদীতে তলিয়ে গেছে। পানির নিচে চলে গেছে স্বজনদের বসার স্থান ও মরদেহের চিতার জায়গা। পার্শ্ববর্তী তিন গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ এই মহাশ্মশানে মরদেহ দাহ করে থাকেন। শ্মশানের জায়গা নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় এখন কেউ মারা গেলে সৎকার করা নিয়ে চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে।
শুধু জনগুরুত্বপূর্ণ এসব প্রতিষ্ঠানই নয়, তীব্র ভাঙনঝুঁকিতে রয়েছে আশপাশের বহু বসতবাড়ি। ইতোমধ্যে দুই দফা ভাঙনের পর নতুন করে বসতভিটায় দেখা দিয়েছে ফাটল। ভিটেমাটি হারানোর ভয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীতীরবর্তী নিঃস্ব পরিবারগুলো।
এদিকে লোহাগড়া উপজেলার আমডাঙ্গাসহ কয়েকটি এলাকাতেও নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করায় সেখানকার সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আতাউর রহমান বাচ্চু। পরিদর্শনকালে তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান।
ভাঙনের বিষয়ে নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ কুমার সাহা জানান, বর্ষা মৌসুমে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মহাশ্মশান ও বসতবাড়িসহ অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ বা প্রতিরক্ষামূলক কাজের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পুরো নড়াইল জেলায় নদীভাঙন রোধে স্থায়ী প্রতিরক্ষা কাজের জন্য একটি ডিপিপি (Development Project Proposal) প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ফিজিবিলিটি স্টাডি রিপোর্ট পাওয়ার পরপরই জেলাজুড়ে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তবে টেকসই প্রতিরক্ষা কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে বর্ষার শেষভাগে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নদীপাড়ের মানুষ। সাময়িক জরুরি কাজের পাশাপাশি দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
news@26banglatv.com