সারা বাংলা খুলনা ঝিনাইদহ
পুলিশের সোর্স পরিচয়ে অপকর্মের রাজত্ব বাড়ছে। ঝিনাইদহে আতঙ্কে সাধারণ মানুষ, আধুনিক ও জনবান্ধব পুলিশিংয়ের দাবি স্থানীয়দের
২৬ বাংলা টিভি 06-Sep-2026 18
পুলিশের সোর্স পরিচয়ে অপকর্মের রাজত্ব বাড়ছে। ঝিনাইদহে আতঙ্কে সাধারণ মানুষ, আধুনিক ও জনবান্ধব পুলিশিংয়ের দাবি স্থানীয়দের
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: আইনশৃঙ্খলারক্ষা ও অপরাধীদের চিহ্নিত করতে পুলিশ প্রশাসনে গোপন তথ্যের সরবরাহকারী বা 'সোর্স' ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা চিরন্তন কিন্তু ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় এই সোর্স পরিচয়ের আড়ালেই চলছে মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা, চাঁদাবাজি এবং ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটানোর নির্মম খেলা। সোর্সের দাপট ও প্রশাসনিক ক্ষমতা জাহির করার মানসিকতায় এখন চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ।অনুসন্ধানে দেখা যায়, এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, কালোবাজারি কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরাই নিজেদের পুলিশ প্রশাসনের সোর্স হিসেবে দাবি করে ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছে।
এদের কাছে মাদকের উৎস জানতে চাইলে সরাসরি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন দপ্তরের নাম ভাঙিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করে তারা। শুধু তা-ই নয়, ব্যক্তিগত শত্রুতা মেটাতে নির্দোষ মানুষের বাড়ি, দোকান বা গাড়িতে গোপনে অস্ত্র ও মাদক রেখে পুলিশ দিয়ে হয়রানি করার মতো গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত হচ্ছে এই নামধারী সোর্সরা। অবৈধ প্রতিষ্ঠান ও মাদক কারবারিদের থেকে প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে নিয়মিত মাসোয়ারা তোলার বিষয়টিকেও স্থানীয়রা 'ওপেন সিক্রেট' বলে উল্লেখ করছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, অপরাধ দমনে সোর্স ব্যবস্থার দরকার থাকলেও কাকে সোর্স হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। অশিক্ষিত ও অপরাধী চক্রকে সোর্স বানিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা সম্ভব নয়। তারা এই সেকেলে ধ্যানধারণা থেকে বের হয়ে এসে ঝিনাইদহ পুলিশ প্রশাসনকে আরও কৌশলী, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ার আহ্বান জানান।জনগণ ও পুলিশের মধ্যে সরাসরি আস্থা ও যোগাযোগের ব্যবধান কমাতে সুশীল সমাজ।সামাজিক সংলাপের আয়োজন প্রতি তিন মাস পর পর বিভিন্ন পাড়া বা এলাকায় 'সোশ্যাল এক্সপেরিমেন্ট' হিসেবে গণশুনানি বা উন্মুক্ত আলোচনা সভার ব্যবস্থা করা। স্থানীয় বাসিন্দারা যাতে প্রকাশ্যে বা লিখিত আকারে এলাকার সার্বিক সমস্যা পুলিশকে জানাতে পারেন এবং পুলিশ প্রশাসন তার ওপর ভিত্তি করে স্পষ্ট পদক্ষেপ নেয়।সাধারণ জনগণকে সরাসরি পুলিশি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করে অপরাধ দমনের কৌশল গ্রহণ করা।
দিনের শেষে দেশের কোটি কোটি মানুষ রাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারেন শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ভাই বোনদের অবিরত পাহারা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের বদৌলতে। জনগণের নিরাপত্তা ও সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা সর্বাগ্রে। ঝিনাইদহ শহরের বেলাল হোসেন বলেন অপরাধীদের 'সোর্স' পরিচয় ব্যবহার বন্ধ করে জনগণকে সাথে নিয়ে একটি নিরাপদ সমাজ গঠনে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মেলবন্ধনই এখন সময়ের দাবি। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আসাদুজ্জামান বলেন ভুয়া সোর্স পরিচয় দিলে তাকে পুলিশে অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে
news@26banglatv.com