সারা বাংলা খুলনা নড়াইল
ভিটেমাটি ও বাজার রক্ষার আকুতি: নবগঙ্গার তীরে বড়দিয়াবাসীর মানববন্ধন
২৬ বাংলা টিভি 03-Sep-2026 23
ভিটেমাটি ও বাজার রক্ষার আকুতি: নবগঙ্গার তীরে বড়দিয়াবাসীর মানববন্ধন
নড়াইল প্রতিনিধি : নড়াইলের কালিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক কেন্দ্র বড়দিয়া বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শত শত বসতবাড়ি নবগঙ্গা নদীর ভয়াবহ ভাঙন থেকে রক্ষার দাবিতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী। অতিদ্রুত নদীভাঙন রোধে কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে (৩সেপ্টেম্বর)বৃহসপতিবার দুপুরে বড়দিয়া বাজার খেয়াঘাট চত্বরে নবগঙ্গা নদীর পাড়ে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে শত শত ভুক্তভোগী মানুষ ব্যানার-ফেস্টুন হাতে অংশ নিয়ে ভাঙন রোধে তাদের আকুল আকুতি তুলে ধরেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও তরুণ সামাজিক কর্মীরা কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য দেন।
সমাবেশে বক্তব্য দেন নড়াইলের খাশিয়াল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বি এম বরকত উল্লাহ, কোটাকোল ইউপি চেয়ারম্যান হাসান আল মামুন, স্থানীয় ব্যক্তিত্ব মোল্যা শাহাদাত হোসেন, সবুজ খান, মামুন খান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জাহিদুর রহমান কিসমত, সিরাজুল হক শিমুল, তুহিন হোসেন ও ভুক্তভোগী সুলতানা বেগমসহ অনেকে।

বক্তারা তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, গত ২৯ আগস্ট (শুক্রবার) ভোরে নবগঙ্গা নদীর আকস্মিক ও ভয়াবহ ভাঙনে নিমেষেই তলিয়ে যায় বড়দিয়া খেয়াঘাট চত্বর সংলগ্ন ১০টি বসতঘর, বসতভিটা, বহু ফলদ ও বনজ গাছপালা এবং পানি পানের টিউবওয়েল। মুহূর্তের মধ্যে সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে একাধিক পরিবার। বর্তমানে বড়দিয়া বাজারের প্রায় ৪০০ ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী এবং সংলগ্ন অন্তত ১৫টি পরিবার চরম ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। এছাড়া ঐতিহ্যবাহী বড়দিয়া খাদেমুল ইসলাম মাদরাসা, গুরুত্বপূর্ণ খেয়া ও ফেরিঘাট চত্বরসহ বিস্তীর্ণ এলাকা যেকোনো মুহূর্তে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, আর কোনো আশ্বাস নয়, কালক্ষেপণ না করে এখনই জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িক রক্ষা নিশ্চিত করতে হবে এবং দ্রুততম সময়ে স্থায়ী গাইড বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। তারা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও পানিসম্পদ মন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এই ঘটনার বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নড়াইলের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজীৎ কুমার সাহা বলেন, "নবগঙ্গা অত্যন্ত ভাঙনপ্রবণ একটি নদী। এই নদীর তীব্রতা বিবেচনায় নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রতিরোধমূলক কাজ পরিচালিত হচ্ছে। বড়দিয়াসহ সার্বিক ভাঙনপ্রবণ এলাকা সুরক্ষায় একটি বৃহৎ ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের বিস্তারিত প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) তৈরি করে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এটি অনুমোদন পেয়ে এলে দ্রুত স্থায়ী কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।"
তিনি আরও যোগ করেন, "চলতি বর্ষা মৌসুমে আপদকালীন জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে জিও ব্যাগ ফেলাসহ তাৎক্ষণিক প্রতিরোধের মাধ্যমে মানুষের ঘরবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
news@26banglatv.com