সারা বাংলা খুলনা ঝিনাইদহ
আনারকলি চাষে নতুন দিগন্ত: ঝিনাইদহে সোশ্যাল মিডিয়া দেখে সফল তরুণ উদ্যোক্তা মিঠুন
২৬ বাংলা টিভি 21-Aug-2026 9
আনারকলি চাষে নতুন দিগন্ত: ঝিনাইদহে সোশ্যাল মিডিয়া দেখে সফল তরুণ উদ্যোক্তা মিঠুন
শিপলু জামান ঝিনাইদহ: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি ভিডিও দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিদেশি ফল 'আনারকলি' চাষে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছেন ঝিনাইদহের এক তরুণ উদ্যোক্তা। মহারাজপুর ইউনিয়নের আন্দলবাড়িয়া গ্রামের মিঠুন বিশ্বাস নামে ওই উদ্যোক্তা অনাবাদি জমিতে নতুন জাতের এই ফল ফলিয়ে পুরো জেলায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। তার এই সাফল্য স্থানীয় অন্য কৃষকদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা জুগিয়েছে।
উদ্যোক্তা মিঠুন বিশ্বাস জানান, ফেসবুকে ভিডিও দেখে তিনি প্রথম আনারকলি ফলের সন্ধান পান। কৌতূহল থেকে আরও অনুসন্ধানের পর তিনি জানতে পারেন দেশের কক্সবাজার অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে এই ফলের পরীক্ষামূলক চাষ হচ্ছে। পরবর্তীতে নিজ উদ্যোগে কক্সবাজার থেকে কয়েকটি চারা সংগ্রহ করে নিজের জমিতে রোপণ করেন। প্রাথমিক চাষে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাওয়ার পর, তিনি নিজেই সেসব গাছ থেকে কলম চারা প্রস্তুত করেন। এরপর আড়াই বিঘা জমি লিজ নিয়ে বাণিজ্যিক পরিসরে গড়ে তোলেন আনারকলি বাগান।
বর্তমানে তার লিজ নেওয়া আড়াই বিঘা বাগানে মোট ৪০০টি আনারকলি গাছ রয়েছে। রোপণের অল্প সময়ের মধ্যেই প্রতিটি গাছে গড়ে ১,৫০০ থেকে ২,০০০টি পর্যন্ত ফল এসেছে। সুস্বাদু ও বিরল জাতের ফল হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও চোখে পড়ার মতো। বর্তমানে প্রতি কেজি আনারকলি ফল ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলনের পরিধি ও বাজারদর বিবেচনা করে চলতি মৌসুমে বাগান থেকে বেশ মোটা অঙ্কের টাকা আয় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মিঠুন।
ফলের স্বাদ ও চাষ পদ্ধতির বিবরণ দিয়ে মিঠুন বিশ্বাস বলেন, "আনারকলি ফল দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, খেতেও অত্যন্ত সুস্বাদু। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই ফল চাষে কঠোর পরিশ্রমের প্রয়োজন হয় না। এতে রাসায়নিক সারের ব্যবহারও একদম কম লাগে। মূলত জৈব সার প্রয়োগ করেই এর বাম্পার ফলন পাওয়া সম্ভব। ফলে উৎপাদন খরচ অনেক কম থাকে এবং লভ্যাংশের পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে যায়।"
নিজের সংগ্রামের কথা তুলে ধরে এই তরুণ উদ্যোক্তা বলেন, "আমি এক মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। চাষ করা আড়াই বিঘা জমি আমার নিজের নয়, জমি লিজ নিয়ে নতুন এই উদ্যোগ শুরু করেছি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও সরকারের পক্ষ থেকে যদি প্রয়োজনীয় আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা পাই, তবে এই বাগান আরও বড় করা সম্ভব। একই সঙ্গে আমার মতো অন্য তরুণেরাও নতুন নতুন কৃষি উদ্যোগে উৎসাহিত হবে।"
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ অঞ্চলে সাধারণত যেসব চিরাচরিত ফল পাওয়া যায়, তার তুলনায় আনারকলি সম্পূর্ণ নতুন এবং নজরকাড়া। দুষ্প্রাপ্য ও সুস্বাদু হওয়ায় স্থানীয় ক্রেতাদের মধ্যে ফলটি ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। ঝিনাইদহের তরুণ প্রজন্মের কাছে মিঠুন বিশ্বাসের এই সাফল্য এখন কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার ক্ষেত্রে একটি দৃষ্টান্তমূলক অনুকরণীয় মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন বলেন বেকার যুবকরা চাষাবাদ করে সাফল্য লাভ করতে পারবেন
news@26banglatv.com