সারা বাংলা খুলনা নড়াইল
লোহাগড়ায় বাতিল ও ভুয়া সমবায় কমিটি বহালের চেষ্টা, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা
২৬ বাংলা টিভি 25-Jun-2026 28
লোহাগড়ায় বাতিল ও ভুয়া সমবায় কমিটি বহালের চেষ্টা, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা
নড়াইল প্রতিনিধি:
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়নের আমাদা গ্রামে ‘হাজরাখালী খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি’র বাতিলকৃত কমিটি পুনর্বহালের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দিয়ে গঠিত এই "ভুয়া" কমিটিটি বহাল হলে যেকোনো মুহূর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সমিতির সাধারণ সদস্যরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও আইনি ব্যবস্থার দাবিতে লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদন জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১/১২/২০২৫ ইং তারিখে ওই সমিতির একটি ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তবে কমিটির ১২ জন সদস্যের মধ্যে মাত্র দুই-একজন বাদে বাকি কেউই সমিতির প্রকৃত সদস্য নন বলে অভিযোগ ওঠে। ব্যাপক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় গত ২৬/০৪/২০২৬ ইং তারিখে জেলা সমবায় অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্বে) আব্দুর রহমান ওই কমিটিটি বাতিল ঘোষণা করেন।

সমিতির সাধারণ সদস্য ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও তাদের স্বজনদের দিয়ে এই ভুয়া কমিটি গঠন করা হয়েছিল। বাতিল হওয়া ওই কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন,সাধারণ সম্পাদক: আল ইমরান শেখ (লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিরু কাজীর আপন শ্যালক।
কোষাধ্যক্ষ: ফাতেমা বেগম (ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিরু কাজীর স্ত্রী)।
সদস্য: মোঃ জিরু কাজী (স্বয়ং লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক)।
সদস্য: মোঃ হাদিয়া রহমান (লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক)।
সদস্য: রুমা বেগম (সাংগঠনিক সম্পাদক হাদিয়া রহমানের স্ত্রী)।
সদস্য: মোহাম্মদ ওমর মোল্লা (লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক)।
সদস্য: মোহাম্মদ এবাদুল রেজা (আওয়ামী লীগ কর্মী ও নাশকতা মামলার আসামি)।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, উপজেলা সমবায় অফিসার আব্দুর রহমানের পরোক্ষ মদদ ও ইন্ধনেই বাতিলকৃত কমিটির সদস্যরা খুলনা বিভাগীয় সমবায় দপ্তরে এটি পুনর্বহালের জন্য আবেদন করেছেন। এর ফলে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে স্থানীয়রা ইউএনও বরাবর দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করেন, "ভুয়া কমিটি বহাল করা হলে এলাকায় রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা সাধারণ মানুষ এলাকায় শান্তি চাই। ঘটনার সত্যতা উদঘাটন করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের শরণাপন্ন হয়েছি।"
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা সমবায় অফিসার আব্দুর রহমান বলেন, "বাতিলকৃত কমিটি খুলনা বিভাগীয় সমবায় দপ্তরে আমাকে বিবাদী করেই একটি আপিল দায়ের করেছে। বিষয়টি এখন বিভাগীয় পর্যায়ে রয়েছে।"
লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী কায়সার আবেদন প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এলাকায় যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, সেদিকে আমাদের তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে।"
ইউএনও আরও স্পষ্ট করে জানান, "সমবায় আইন ২০০১ অনুযায়ী, একবার কমিটি বাতিল হলে তা পুনর্বহালের কোনো সুযোগ নেই। নিয়মানুযায়ী নতুন নির্বাচনের মাধ্যমেই পরবর্তী কমিটি গঠন করতে হবে।
news@26banglatv.com