সারা বাংলা খুলনা খুলনা
খুলনা খাদ্য পরিবহন ঠিকাদার সমিতি দখল নিতে দুগ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে ঠিকাদার গুলিবিদ্ধ
২৬ বাংলা টিভি 19-May-2026 27
খুলনা খাদ্য পরিবহন ঠিকাদার সমিতি দখল নিতে দুগ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে ঠিকাদার গুলিবিদ্ধ
খুলনা প্রতিনিধি:
খুলনা খাদ্য পরিবহন (সড়ক পথ) ঠিকাদার সমিতি দখল নিতে দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় শেখ হারুনুর রাশিদ (৬২) নামে এক ঠিকাদার গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার দুপুর ১ টার দিকে নগরীর খানজাহান আলী রোডস্থ আল হেরা জামে মসজিদের তৃতীয় তলায় অফিস ভবনে ঘটনাটি ঘটে। আহত ঠিকাদার খালিশপুর থানার নয়াবাটি এলাকার বাসিন্দা শেখ আব্দুর রউফের ছেলে। তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
খানজাহান আলী সড়কের আল হেরা জামে মসজিদের আশপাশের কয়েকজ ব্যক্তি জানান, দুপুরের কিছুক্ষণ আগে খুলনা খাদ্য পরিবহন (সড়ক পথ) অফিস কার্যালয়ে সভা চলছিল। এ সময়ে কয়েকজন দুর্বত্ত ওই সভার মধ্য গিয়ে বাকবিতান্ডা এবং পরে গুলি করে। গুলিটি ওই সমিতির সাবেক সহ-সভাপতি হারুনুর রশিদের ডান পায়ের উুরুতে বিদ্ধ হয়। উপস্থিত অন্যান্য সদস্যরা তাকে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।
পরস্পর বিরোধী বক্তব্য
সমিতির কার্যালয় দখলকে কেন্দ্র করে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। সমিতির বর্তমান আহবায় এস এম আজিজুর রহমান স্বপন জানান, আমার এলাকার এক বন্ধু মারা গেছে। আমি সেখানে ছিলাম। হঠাৎ অফিস স্টাফ শাহাদাত হোসেন ফোন করে জানান, সাবেক কমিটির সাধারণ সম্পাদক কেএম রেজাউল আলম ও হারুনুর রাশিদসহ কয়েকজন অফিস দখল করতে আসছে।
তারা সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে দেয়। সমিতির থেকে ফোন আসলে আমি ঘটনাস্থলে আসি। অফিসে এসে দেখি তারা আহবায়ক ও সদস্য সচিবের চেয়ার দখল করে বসে আছে। তখন তাদের কাছে আমি বলি ‘আপনাদের কোনো দাবি দাওয়া থাকলে আমার কাছে লিখিত দেন’। এসময়ে সাধারণ সদস্যরা বলেন যে, ‘এটা কি গরুর হাট যে আপনার দখল করছেন’।
তিনি আরো বলেন, তাদের উদ্দেশ্যে ছিল অফিস দখল করা। তারা অফিস না ছেড়ে একটা দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে। যেটা আমি মনে করি আমার ওপর আক্রমনের পরিকল্পনা ছিল। আমার জীবন নাশের শঙ্কা নিয়ে ওখানে ছিলাম। তারা পরিকল্পিতভাবে হামলা করছে। কাকে গুলি করছে জানিনা। তবে সাবেক কমিটির সহ সভাপতি হারুনুর রশিদের গায়ে গুলি লেগেছে। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তারা অফিস দখল করতে এসেছিল। তবে তাদের পেছনে আরও লোক আছে।
এদিকে নিজেকে খাদ্য পরিবহন ঠিকাদার সমিতি নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক দাবি করে খান মো: রেজাউল আলম বলেন, গুলিবিদ্ধ হওয়া হারুনুর রাশিদ নির্বাচিত সহ-সভাপতি। জামায়াত নেতা এস এম আজিজুর রহমান স্বপন নিজেকে আহবায়ক দাবি করে মব সৃষ্টি করে জায়াগাটা (অফিস) দখল করে নেয়। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে আমরা হাইকোর্টে মামলা করি। মামলাটি আমাদের পক্ষে।
সেই মামলার আদেশে আমরা আজ অফিসে গিয়ে আসন গ্রহণ করি। তখন তারা এসে আমাদের আসন ছেড়ে দিতে বলে। তারা কোর্ট বা কোনো কিছু মানে না। ঠিকাদার স্বপন কাকে যেন ফোন করে বলে গোলাগুলি করতে। ওরা আমাকে উদ্দেশ্যে করে গুলি করে। আসলে আমার ছেলে বাঁধা দেওয়াতে গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট্র হয়ে হারুনুর রশীদের পায়ে বিদ্ধ হয়। তারা শর্টগান দিয়ে গুলি করে। এ সময় অনেক দুর্বৃত্ত ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। তিনি এ ঘটনার জন্য স্বপন, ওয়াহিদুল ইসলাম, তকিবর রহমান ও হাফিজসহ অনেকেই উপস্থিত ছিল।
জানতে চাইলে খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, নিজেদের মধ্যে কথাকাটাকাটির জেরে দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে প্রতিপক্ষ হারুনুর রশিদকে গুলি করে। কারা গুলির ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
news@26banglatv.com