সারা বাংলা খুলনা ঝিনাইদহ
কালীগঞ্জ সাব রেজিস্ট্রারের ঘুষ বাণিজ্যের প্রধান সাহেব আলী।
২৬ বাংলা টিভি 24-Feb-2026 48
কালীগঞ্জ সাব রেজিস্ট্রারের ঘুষ বাণিজ্যের প্রধান সাহেব আলী।
কালীগঞ্জ,ঝিনাইদহ প্রতিনিধি :
নাম তার সাহেব আলী। কাজ করেন কালীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নকল নবিস পদে। সাব রেজিস্টার হিসেবে রিপন মুন্সির যোগদানের পর থেকে কপাল খুলে যায় সাহেব আলীর। স্যারের ঘুষ-বানিজ্যের সিন্ডিকেটের মূল হোতা হিসেবে কাজ শুরু করেন সাহেব আলী। লেখকদের নিকট থেকে ঘুষের মোটা অংকের টাকা আদায় করে স্যারকে বুঝিয়ে দেওয়াই তার মূল দায়িত্ব। আর এ দায়িত্ব পালনকালে অফিস চলাকালীন দিনে সাহেব আলীকে অফিসের বিভিন্ন স্থানে কিংবা অফিসের বাইরে লেখকদের নিকট থেকে মোটা অংকের ঘুষের টাকা আদায় করতে দেখা যায়। এই সাহেব আলী কালীগঞ্জ উপজেলার রায়গ্রাম ইউনিয়নের একতারপুর গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে। হঠাৎ সাহেব আলীর ফুলে ফেপে ওঠায় তার গ্রামের বসবাস করা মানুষের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। পূর্ব থেকেই সাহেব আলী আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। আওয়ামী লীগের হয়ে করেছেন ইউপি সদস্য নির্বাচনও। পলাতক আওয়ামী লীগের সাবেক চেয়ারম্যান আলী হোসেন অপু এবং এক সময় কার রেস্ট্রি অফিসের আতঙ্ক নাসির চৌধুরীর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে দাপটের সাথে অফিস করতেন। সেই ধারাবাহিকতায় দুর্নীতি পরায়ন সাব রেজিস্টার রিপন মুন্সি যোগদানের পর থেকে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সাহেব আলী বেপরোয়া প্রভাব বিস্তার করতে থাকে রেস্ট্রি অফিসে। নামে মাত্র পিয়ন থাকলেও রেকর্ডরুমের চাবি রাখা সহ পিয়নের যাবতীয় কাজ সাহেব আলি কে করতে দেখা যায়। অফিস চলাকালীন সময়ে এবং অফিস সময় এর পরেও রেজিস্ট্রি অফিসের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডরুমে অবাধ বিচরণ করেন সাহেব আলী।রেকর্ড রুমে থাকা জমির দলিলসমমূহের দাগ নং খতিয়ান নম্বর উলোটপালোট করা, দলিল টেম্পার করাসহ নানা জালিয়াতি করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন তিনি । স্যারের নাম করে দলিল রেজিস্ট্রির ব্যাপারে লেখকদের নিকট থেকে বিভিন্ন অসংগতি দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা জোরপূর্বক আদায় করেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক লেখক জানন। আর এ ভাবে রাতারাতি সাহেব আলী লাখ লাখ টাকা ও সম্পদের মালিক বনে যাই।এমনকি সাব রেজিস্টারের অঘোষিত ক্ষমতাবলে অফিসের স্থায়ী কর্মচারীদেরকেও তোয়াক্কা করেন না এই সাহেব আলী। সাব রেজিস্টার রিপন মুন্সির ঘুষ বাণিজ্য বাধাহীনভাবে চালাতে বিভিন্ন মহলকে এই সাহেব আলী টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে থাকেন। ইতিপূর্বে সাহেব আলীকে নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ হলেও তিনি বহুলতবিয়াতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। কালীগঞ্জের সুধী সমাজ মনে করে সাব রেজিস্ট্রি অফিসের বেপরোয়া অনিয়ম দুর্নীতির ব্যাপারে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ অতিব জরুরী হয়ে দাড়িয়েছে ।
এ ব্যাপারে নকল নবিস সাহেব আলীর মুঠোফোনে কথা বললে তিনি জানান, সে শুধু সাব রেজিস্টার রিপন মুন্সির আদেশে কাজ করেন মাত্র। তার আদেশের বাইরে সে কোনো কাজ করে না। রিপন মুন্সির যার কাছ থেকে যা নিতে বলে সে সেটাই করে। সে তার হুকুম পালন করে মাত্র।
এ ব্যাপারে সাব রেজিস্টার রিপন মুন্সির সাথে কথা বলতে একাধিকবার মুঠোফোনে কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
news@26banglatv.com