সারা বাংলা খুলনা যশোর
শার্শার বাগআঁচড়ায় কৃত্রিম আলোয় দিন বদলের গল্প: শীত মৌসুমেও ড্রাগনের বাম্পার ফলন
২৬ বাংলা টিভি 11-Jan-2026 35
শার্শার বাগআঁচড়ায় কৃত্রিম আলোয় দিন বদলের গল্প: শীত মৌসুমেও ড্রাগনের বাম্পার ফলন
আজিজুল ইসলাম, বাগআঁচড়া যশোর সংবাদদাতা :
প্রকৃতির নিয়মকে উপেক্ষা করে রাতের আঁধারেও এখন দিনের আলো জ্বলছে যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া ইউনিয়নের বসতপুর গ্রামের মাঠে। আধুনিক ‘লাইট ইনডোর্স’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ড্রাগন চাষে রীতিমতো বিপ্লব ঘটিয়েছেন স্থানীয় তরুণ উদ্যোক্তা মনিরুজ্জামান মনির। শীতের ছোট দিনে কৃত্রিম আলোর ব্যবহার করে তিনি শীত মৌসুমেও ড্রাগনের ফলন বাড়িয়েছেন প্রায় তিন গুণ। তাঁর এই উদ্ভাবনী উদ্যোগ এখন শার্শার কৃষি খাতে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে।
সাধারণত শীতকালে দিন ছোট হওয়ায় সূর্যের আলোর অভাবে ড্রাগন গাছে ফুল ও ফল আসা কমে যায়। এই প্রতিকূলতাকে কাটিয়ে তুলতে মনিরুজ্জামান তাঁর ২০ বিঘার ড্রগন বাগানে স্থাপন করেছেন বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী শত শত এলইডি বাল্ব। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা এবং শেষ রাত ৩টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত দুই দফায় এই কৃত্রিম আলো জ্বালিয়ে রাখা হয়। এতে গাছের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সচল থাকে এবং শীতের আমেজেও গাছগুলো ফুল দিতে শুরু করে।
সন্ধ্যা নামলেই আলোকসজ্জায় সেজে ওঠে মনিরের ড্রাগন বাগান। সারিবদ্ধ ড্রাগন গাছ আর মাথার ওপর টিমটিমে এলইডি আলোর ঝলকানি মাঠজুড়ে তৈরি করে এক নান্দনিক দৃশ্য। স্থানীয়রা বলছেন, রাতের এই দৃশ্য দূর থেকে দেখলে মনে হয় কোনো আধুনিক ইউরোপীয় শহর কিংবা বিদেশের উন্নত কৃষি খামার। এই অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে ভিড় করছেন শত শত দর্শনার্থী।
শুরুতে মাত্র ৭ বিঘা জমিতে চাষ শুরু করলেও সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এখন মনিরের খামার ২৪ বিঘায় ঠেকেছে। এর মধ্যে ২০ বিঘা জমিতে তিনি লাইটিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। মনিরের মতে, সাধারণত ভরা মৌসুমে ড্রাগনের যে দাম পাওয়া যায়, অমৌসুমে ফলন ধরাতে পারলে তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি লাভে বিক্রি করা সম্ভব।
সাফল্যের পাশাপাশি এই প্রযুক্তিতে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে উচ্চ ব্যয়। ২০ বিঘা জমিতে প্রতি মাসে বিদ্যুতের বিল ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বাবদ খরচ হচ্ছে প্রায় আড়াই লাখ টাকা। উদ্যোক্তা মনিরুজ্জামান জানান, "বিদ্যুৎ বিল যদি বাণিজ্যিক হারে না ধরে কৃষি হারে নির্ধারণ করা হতো, তবে দেশের সাধারণ কৃষকরাও এই প্রযুক্তিতে উদ্বুদ্ধ হতো।"
শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা জানান, উপজেলায় বর্তমানে ৮৫ হেক্টর জমিতে ড্রাগন চাষ হচ্ছে। অমৌসুমে উৎপাদিত ড্রাগনের বাজারমূল্য অনেক বেশি হওয়ায় চাষিরা লাভবান হচ্ছেন। তিনি মনে করেন, সরকারিভাবে বিশেষ বিদ্যুৎ সুবিধা বা ভর্তুকি পেলে এই লাইট ইনডোর্স পদ্ধতি সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।
news@26banglatv.com