সারা বাংলা খুলনা নড়াইল
নড়াইলে স্কুলছাত্রী নিখোঁজের ১০ দিন পার, বিচার চেয়ে আদালত চত্বরে ভাইয়ের অভিনব প্রতিবাদ
২৬ বাংলা টিভি 24-Sep-2026 20
নড়াইলে স্কুলছাত্রী নিখোঁজের ১০ দিন পার, বিচার চেয়ে আদালত চত্বরে ভাইয়ের অভিনব প্রতিবাদ
নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইল সদর উপজেলায় দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী গত ১০ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। বোনকে দ্রুত উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে চোখে কালো কাপড় বেঁধে ও প্ল্যাকার্ড হাতে আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন নিখোঁজ শিক্ষার্থীর বড় ভাই সবুজ দাস।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নড়াইল আদালত চত্বরে এই প্রতিকী প্রতিবাদ জানান তিনি। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল—‘বিচার ব্যবস্থা অন্ধ কেন?’
নিখোঁজ হওয়া ওই ছাত্রীর নাম রুপা দাস (১৫)। সে নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের বোড়ামারা গ্রামের বাসিন্দা এবং বোড়ামারা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ১৩ সেপ্টেম্বর স্কুল থেকে বাড়ি যাওয়ার কথা বলে বের হওয়ার পর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আসামি করে নড়াইল সদর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেছে পরিবার।
প্রতিবাদরত সবুজ দাস জানান, তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। গত ১৩ সেপ্টেম্বর স্কুলে যাওয়ার পর তার বোন আর বাড়ি ফেরেনি। পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। তাদের জোরালো ধারণা, রুপাকে অপহরণ করা হয়েছে।
সবুজ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা সন্দেহভাজন কয়েকজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছি। মামলার পর এক আসামিকে আটক করা হলেও আদালত থেকে তারা জামিন পেয়ে গেছেন। অথচ আমার ছোট বোন এখনো বাড়ি ফেরেনি, পুলিশও তার কোনো সন্ধান দিতে পারেনি।’ ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ বোনের সঙ্গে পরিবারের কারও কোনো যোগাযোগ হয়নি বলেও জানান তিনি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর দুপুর দুইটার দিকে স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে বোড়ামারা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে রুপাকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়া হয়। রুপার বড় ভাই সাগর দাসের করা এজাহারে রবিউল ইসলাম (১৯), আলিফ শিকদার (১৯), আম্বিয়া বেগম (৪০), জান্নাতি খানম (২০) ও রুমন বিশ্বাসকে (৩২) আসামি করা হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, প্রধান আসামি রবিউল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে রুপাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। রুপা তাতে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি সহযোগীদের নিয়ে এই অপহরণের পরিকল্পনা করেন। ঘটনার দিন রবিউল ও আলিফ মোটরসাইকেল নিয়ে মাইজপাড়া-তুলারামপুর সড়কের বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে রুপাকে জোর করে তুলে নিয়ে যান। পরবর্তীতে রুপাকে খুঁজতে গিয়ে পরিবার জানতে পারে যে, স্থানীয়রা রবিউল ও আলিফকে মোটরসাইকেলে করে রুপাকে নিয়ে যেতে দেখেছেন। এছাড়া রবিউলের বাড়িতে খোঁজ নিতে গেলে তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয় এবং আসামিরা রুপাকে অন্যত্র সরিয়ে নিতে সহায়তা করেন। এ ঘটনায় ১৪ সেপ্টেম্বর নড়াইল সদর থানায় মামলা করেন রুপার ভাই সাগর দাস।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রবিউল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি এবং স্থানীয়দের কাছে তাদের মুঠোফোন নম্বর না থাকায় অভিযুক্তদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
মামলার বিষয়ে নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাসেল সরোয়ার জানান, এই মামলায় এক আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছিল এবং অন্য দুইজন আদালতে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। বর্তমানে তারা জামিনে রয়েছেন। মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে এবং তাদের অবস্থান শনাক্ত করা গেলে দ্রুত তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
news@26banglatv.com