সারা বাংলা খুলনা ঝিনাইদহ
ঝুঁকিপূর্ণ ছাদ টিকিয়ে রেখেছে বাঁশের চটা: মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ হাট চাঁদনী
২৬ বাংলা টিভি 03-Sep-2026 21
ঝুঁকিপূর্ণ ছাদ টিকিয়ে রেখেছে বাঁশের চটা: মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ হাট চাঁদনী
শিপলু জামান ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসা আর কেনাকাটা—এটিই এখন ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ শহরের প্রধান হাট চাঁদনীর নিত্যদিনের চিত্র। জানা যায়, ১৯৮৮ সালে নির্মিত এই কাঁচাবাজার ভবনটি এক যুগ ধরে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও থামেনি এর কার্যক্রম। প্রতিদিন শত শত ক্রেতা-বিক্রেতা এবং নারী-শিশুদের পদচারণায় মুখর থাকে এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি। বড় কোনো দুর্ঘটনার শঙ্কা মাথায় নিয়ে জীবন বাজি রেখে এখানে চলছে বেচাকেনা।
২০১০ সালে এই হাটের ছাদের একটি অংশ ধসে অজয় কুমার নামে এক চাল ব্যবসায়ীর মর্মান্তিক মৃত্যুর পর নড়েচড়ে বসেছিল প্রশাসন। এরপর ২০১৩ সালে ভবনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয় কিন্তু দীর্ঘ ১৩ বছরেও বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় জীবনের তাগিদে ব্যবসায়ীরা সেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, ভবনের বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় ফাটল ধরেছে এবং ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে রড বেরিয়ে গেছে। নিজেদের সুরক্ষায় ব্যবসায়ীরা নিজ উদ্যোগে ছাদের নিচে বাঁশের চাটাই ও খুঁটি (প্যালা) দিয়ে কোনোমতে ভবনটি টিকিয়ে রেখেছেন। চাল, ডাল, মুদি দোকান থেকে শুরু করে কাঁচাবাজারের এই ব্যস্ত হাট চাঁদনীতে
প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। অচেনা অনেক ক্রেতা ও সাধারণ মানুষ ভবনের এই করুণ দশা না জেনেই নিচে দাঁড়িয়ে কেনাকাটা করেন।
স্থানীয় প্রবীণ চাল ব্যবসায়ী অসিত কুমার হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “প্রতিদিন সকালে ঘর থেকে বের হই, কিন্তু রাতে জীবিত ফিরতে পারব কি না জানি না। জীবন হাতের মুঠোয় নিয়ে ব্যবসা করছি। বড় কোনো প্রাণহানি না ঘটা পর্যন্ত কি কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে না?”
ব্যবসায়ী জালাল উদ্দিন বলেন বহুবার জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা এলাকা পরিদর্শন করে গেছেন, আশ্বাসও মিলেছে অনেক; কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। আশ্বাস আর প্রতিশ্রুতির বেড়াজালেই আটকে রয়েছে এই জনবহুল বাজারের সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ কাজ।
ঝুঁকিপূর্ণ এই হাট চাঁদনীতে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের ধস নামলে প্রাণ হারাতে পারেন বহু মানুষ। বড় কোনো বিপর্যয় ঘটার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে এই জরাজীর্ণ ভবনটি ভেঙে হকার্স মার্কেট আধুনিক ও নিরাপদ বাণিজ্যিক অবকাঠামো নির্মাণ করবে—এমনটাই এখন কালীগঞ্জবাসীর প্রাণের দাবি।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ পৌর ব্যবসায়ী সমিতি আহবায়ক ইমদাদুল হক বলেন, এটা ব্যবহারের অনুপোযোগী হয়ে গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে, যেকোনো সময় একটা বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এজন্য আমি সরকার বা প্রশাসনের কাছে এটার পূর্ণনির্মাণের জন্য আহবান জানাচ্ছি।
তিনি আরো বলেন, একটা হকার্স মার্কেট বা এ জাতীয় কনো মার্কেট দেওয়া যায়, তাহলে আরো কিছু লোকের অন্ন্যর যোগান হয় এবং এলাকায় যাতে উন্নয়ন হয় সে দিকটা দেখার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজওয়ানা নাহিদ বলেন এটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন হিসেবে চিহ্নিত করা আছে নতুন ভবন তৈরি করার পরিকল্পনা আছে
news@26banglatv.com