সারা বাংলা রাজশাহী সিরাজগঞ্জ
ইছামতীতে যুবকের লাশ: প্রকৃত হত্যাকারী নয়, নির্দোষ মেয়েকে ফাঁসানোর অভিযোগে বাবার সংবাদ সম্মেলন
২৬ বাংলা টিভি 22-Oct-2025 39
ইছামতীতে যুবকের লাশ: প্রকৃত হত্যাকারী নয়, নির্দোষ মেয়েকে ফাঁসানোর অভিযোগে বাবার সংবাদ সম্মেলন
ইউসুফউজ্জামান ইমরান, সিরাজগঞ্জ থেকে :
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে ইছামতী নদী থেকে উদ্ধার হওয়া মো. শামীম শেখের (২৫) মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবার দাবি করেছে, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হলেও প্রকৃত আসামিদের আড়াল করতে পুলিশ নির্দোষ এক নারীকে ফাঁসিয়ে দিচ্ছে।
নিহত শামীম শেখ কামারখন্দ উপজেলার কুটিরচর শাটিবাড়ী গ্রামের মো. ছাইফুল ইসলামের ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২ জুলাই ২০২৫ তারিখে দুপুরে শামীম গোসলের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। টানা দুই দিন খোঁজাখুঁজির পর ৪ জুলাই কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট এলাকায় এসিআই ফুড লিমিটেডের উত্তর পাশে একটি ডোবা থেকে কচুরিপানায় ঢাকা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরিবারের অভিযোগ—শামীমকে হত্যা করে লাশ গোপন করার জন্য ডোবায় ফেলে রাখা হয়েছিল।
নিহতের বাবা মো. ছাইফুল ইসলাম আজ বুধবার (২২ অক্টোবর) বেলা ১১ টায় সংবাদ সম্মেলনে জানান, ছেলের খোঁজ না পেয়ে আমি সেদিনই কামারখন্দ থানায় গিয়ে মামলা করতে চাই। পুলিশ যখন সন্দেহভাজনের নাম জানতে চায়, আমি এসিআই ফুড লিমিটেডের সিকিউরিটি গার্ড রফিক, তার বস জাবেদ, অ্যাডমিন আয়ুব, লেবার সাপ্লায়ার মালেক, সোলাইমান ও জাকিরের নাম বলি। কিন্তু পুলিশ তাদের বাদ দিয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা নেয়।
পরে মামলার তদন্তভার ডিবি পুলিশের হাতে গেলে প্রথমে তারা শ্রী তপু সরকার, শ্রী সুজন চন্দ্র ভৌমিক ও গোলাম মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু ঘটনার তিন মাস পর, গত ৩০ সেপ্টেম্বর হঠাৎই নিহতের বোন রেশমা খাতুন ও আত্মীয় হাবিজা খাতুনকে গ্রেপ্তার করে মামলাটিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে দাবি পরিবারের।
ছাইফুল ইসলাম আরও বলেন, আমার মেয়ে রেশমা তার ভাইকে হত্যা করতে পারে না। এসিআই ফুড লিমিটেডের প্রভাবশালীদের বাঁচাতেই তাকে ফাঁসানো হয়েছে। রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের পর জোর করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, রেশমার চার বছরের ছেলে স্বাধীন ও পাঁচ বছরের মেয়ে নুসরাত মায়ের অনুপস্থিতিতে চরম মানসিক কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।
ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ তুলে ছাইফুল ইসলাম বলেন, ডিবি এখন আমার অন্য মেয়েদের, নাতি তানভীর ও বড় ছেলেকেও গ্রেপ্তারের হুমকি দিচ্ছে। আমরা ভয়ে দিন কাটাচ্ছি।
ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করেছে, এসিআই ফুড লিমিটেডের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও পুলিশের কয়েকজন সদস্য অনৈতিক সুবিধা নিয়ে তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করছেন।
শেষে নিহতের বাবা প্রশাসনের কাছে আকুতি জানিয়ে বলেন,আমি আমার ছেলের হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করুন, কিন্তু আমার নির্দোষ মেয়েকে মুক্তি দিন।
news@26banglatv.com