সারা বাংলা খুলনা নড়াইল
কালিয়ায় সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ: জড়িত ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা
২৬ বাংলা টিভি 08-Jul-2026 11
কালিয়ায় সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ: জড়িত ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা
নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইলের কালিয়া উপজেলার চাঁচড়ী ইউনিয়নে গ্রামীণ সড়কের পাশ থেকে অবৈধভাবে সরকারি গাছ কাটার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। উপজেলার হাড়িয়ারঘোপ গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তরা হলেন চাঁচড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মাহফুজ ফকির এবং একই ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শিহাব ফকির।
ইতিমধ্যে খবর পেয়ে প্রশাসন ঘটনাস্থল থেকে কাটা গাছগুলো উদ্ধার করে উপজেলা ভূমি অফিসে জব্দ করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, এই ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার দুপুরে হাড়িয়ারঘোপ গ্রামের সড়কের পাশে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন ৪টি বড় গাছ কাটা শুরু করেন ইউপি সদস্য মাহফুজ ফকির ও বিএনপি নেতা শিহাব ফকির। দিনের আলোতে সরকারি গাছ কাটার বিষয়টি নজরে এলে স্থানীয় সচেতন বাসিন্দারা তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন।
খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে চাঁচড়ী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পান। পরে তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালে, কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নির্দেশে কাটা গাছগুলো উদ্ধার করে কালিয়া ভূমি অফিসে জমা নেওয়া হয়। তবে ঘটনার বেশ কিছু সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।
গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মাহফুজ ফকির বিষয়টি স্বীকার করে ভিন্ন যুক্তি দেখান। তিনি বলেন:"হাড়িয়ারঘোপ গ্রামীণ সড়কের গাছ লাগানো ও পরিচর্যা সমিতির সভাপতি আমি। গাছগুলো ঝড়ে ভেঙে যাওয়ায় এবং অধিকাংশ মরা হওয়ায় পথচারীদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছিল। মূলত লোকজনের যাতায়াত সুবিধার জন্যই গাছগুলো কাটা হয়েছিল। পরে ভূমি কর্মকর্তা ফোন দিলে কাটা গাছগুলো আমি অফিসে জমা দিয়ে আসি।"
অন্যদিকে, অপর অভিযুক্ত ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শিহাব ফকির গাছ কাটার সাথে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে বলেন:"আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ। কারা গাছ কেটেছে তা আমার জানা নেই। ফেসবুকে আমার নামে রাজনৈতিক ইমেজ নষ্ট করার জন্য একটি মহল মিথ্যা কুৎসা রটাচ্ছে। আমি এর সাথে জড়িত নই।"
সরকারি সম্পদ এভাবে না জানিয়ে কাটার কোনো সুযোগ নেই বলে সাফ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কালিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড শ্রাবনী বিশ্বাস বলেন:
"কেটে ফেলা গাছগুলো মূলত পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো)। আমি নড়াইল পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মহোদয়ের সাথে কথা বলেছি। না জানিয়ে সরকারি গাছ কাটার অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। মামলার আলামত হিসেবেই গাছগুলো আপাতত আমাদের জিম্মায় রাখা হয়েছে।"
একই বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কালিয়া উপজেলার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শফিউল্লাহ জানান, গাছ কাটার বিষয়টি তারা অবগত হয়েছেন এবং কাটা অংশগুলো আলামত হিসেবে জব্দ রয়েছে। এই বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন।
news@26banglatv.com