অন্যান্য
পরীমণি-কাণ্ড: বাধ্যতামূলক অবসরে যাচ্ছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাকলায়েন
২৬ বাংলা টিভি 16-Jun-2026 23
পরীমণি-কাণ্ড: বাধ্যতামূলক অবসরে যাচ্ছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাকলায়েন
**নিজস্ব প্রতিবেদক**
**ঢাকা:** বহুল আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণির সাথে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে অবশেষে চাকরি হারাচ্ছেন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাবেক ডিবি এডিসি) মো. গোলাম সাকলায়েন। তাকে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে 'বাধ্যতামূলক অবসর' দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের সারসংক্ষেপে ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্বাক্ষর করেছেন।
বর্তমানে এই ফাইলটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হয়ে রাষ্ট্রপতির দপ্তরে প্রেরণের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। রাষ্ট্রপতির আনুষ্ঠানিক আদেশের পর শিগগিরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
ঘটনার সূত্রপাত ও তদন্তের পটভূমি
২০২১ সালের জুনে ঢাকার বোট ক্লাবে একটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় চিত্রনায়িকা পরীমণির সাথে যোগাযোগ তৈরি হয় তৎকালীন ডিবি গুলশান বিভাগের এডিসি গোলাম সাকলায়েনের। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে পেশাগত সীমানা ছাড়িয়ে বিবাহবহির্ভূত অনৈতিক ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ২০২১ সালের ১ আগস্ট পরীমণি সাকলায়েনের সরকারি বাসভবনে প্রবেশ করেন এবং প্রায় ১৭ ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করেন। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর সাকলায়েনকে ডিবি থেকে তাৎক্ষণিক বদলি করা হয় এবং একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
সিডিআর ও ফরেনসিক রিপোর্টে প্রমাণিত সত্যতা
তদন্ত কমিটির সংগৃহীত তথ্য ও সিআইডির ফরেনসিক রিপোর্টে সাকলায়েনের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বেরিয়ে আসে:
* **মোবাইল সিডিআর বিশ্লেষণ:** ২০২১ সালের ৪ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত সাকলায়েন নিয়মিত পরীমণির বাসায় যাতায়াত ও রাত্রিযাপন করেছেন বলে কল ডিটেইলস রেকর্ডে প্রমাণিত হয়।
* **ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ:** পরীমণির মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফরেনসিক রিপোর্টে দেখা যায়, তাদের মধ্যকার মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপের কথোপকথন কোনো পেশাদারি বিষয়ের ছিল না, বরং তা ছিল গভীর অনৈতিক সম্পর্কের।
* **সরকারি বাসভবনের অপব্যবহার:** ২০২১ সালের ১ আগস্ট নিজের স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে পরীমণিকে রাজারবাগের সরকারি কোয়ার্টারে নিয়ে যান এবং দীর্ঘ সময় কাটান, যা একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার জন্য চরম অসদাচরণ।
চূড়ান্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মেলার পর সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) বিধি অনুযায়ী সাকলায়েনের বিরুদ্ধে 'অসদাচরণ'-এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের জুনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে গুরুদণ্ড দেওয়ার বিষয়ে সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) মতামত চায়।
পিএসসির আইনি পরামর্শ ও যাবতীয় শুনানি শেষে তার দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায়, তাকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপরাধে তাকে এই 'গুরুদণ্ড' দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
news@26banglatv.com