সারা বাংলা খুলনা নড়াইল
চোরের গ্রাসে শেষ সম্বল, জিয়া-স্বপ্না দম্পতির স্বপ্ন ভেঙে চুরমার
২৬ বাংলা টিভি 02-Jun-2026 26
চোরের গ্রাসে শেষ সম্বল, জিয়া-স্বপ্না দম্পতির স্বপ্ন ভেঙে চুরমার
নড়াইল প্রতিনিধি:
স্বপ্ন ছিল কোরবানির ঈদে যত্নে লালন-পালন করা ষাঁড়টি বিক্রি করে এক ফালি মাথা গোঁজার ঠাঁই (টিনের ঘর) তৈরি করবেন। কিন্তু এক রাতের ব্যবধানে সেই স্বপ্ন ক্রুর ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে পরিণত হয়েছে। চোরের দল শুধু তাদের একমাত্র গরুটিই চুরি করেনি, চুরি করে নিয়ে গেছে একটি সহায়-সম্বলহীন পরিবারের বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বনও।
মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়নের বাঁকা গ্রামে। ভুক্তভোগী জিয়া শেখ ও স্বপ্না বেগম দম্পতির এই চরম বিপদে পরিবারজুড়ে এখন শুধুই কান্নার রোল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নড়াইলের বাঁকা গ্রামের দরিদ্র দিনমজুর জিয়া শেখের ভিটেমাটি থাকলেও নেই কোনো বাসযোগ্য ঘর। দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে একটি জরাজীর্ণ ঘরে রোদ-বৃষ্টি আর ঝড়ের সাথে লড়াই করে দিনাতিপাত করছেন তারা। শারীরিক অসুস্থতার কারণে জিয়া শেখ ভারী কোনো কাজ করতে পারেন না। ধার-দেনা ও কিস্তির টাকা শোধ করতে এবং সংসার চালাতে ভ্যান চালানো শুরু করেছিলেন। কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাস, গত এক বছরে তার উপার্জনের মাধ্যম দুটি ভ্যান একে একে চুরি হয়ে যায়।
পরপর দুটি ভ্যান হারিয়ে চরম সংকটে পড়া পরিবারটি ঘুরে দাঁড়াতে ধার-দেনা করে একটি গরু পালন শুরু করেন। এবারের কোরবানির ঈদে গরুটির দাম উঠেছিল প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। জিয়া শেখ ও স্বপ্নার আশা ছিল, এই টাকা দিয়ে এবার অন্তত সন্তানদের জন্য একটি শক্তপোক্ত টিনের ঘর তুলবেন। কিন্তু ঈদের মাত্র পাঁচ দিন আগে, গত ২৪ মে রাতের কোনো এক সময় গোয়ালঘরের দরজার শিকল কেটে চোরের দল তাদের একমাত্র ষাঁড়টি নিয়ে যায়। পরদিন সকালে বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে শুধু গরুটির চামড়া পড়ে থাকতে দেখেন ভুক্তভোগীরা। জবাই করে মাংস নিয়ে চামড়া ফেলে রেখে যায় চোরেরা।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে স্বপ্না বেগম বলেন,
"রাতে গোয়ালে গরু দেখে ঘুমাতে গিয়েছিলাম। ভোরে উঠে দেখি সব শেষ। কিস্তির টাকায় কেনা গরুটাও চোরেরা নিয়ে গেল। আমাদের আর কিছুই রইল না।"
কান্না চেপে অসহায় বাবা জিয়া শেখ বলেন,
"আমার তিন সন্তান। বড় মেয়েটা একাদশ শ্রেণিতে পড়ে। কোমরের ব্যথার কারণে ঠিকমতো কাজ করতে পারি না। ভেবেছিলাম গরুটা বেচে একটা ঘর তুলব, মেয়েটার বিয়ের ব্যবস্থা করব। কিন্তু সকালে পুকুরপাড়ে চামড়াটা দেখে আমার কলিজা ফেটে গেছে।"
এই চুরির ঘটনায় এলাকা জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম নূর মোহাম্মদ বলেন, "পরিবারটির একমাত্র সম্বল ছিল এই গরুটি। চুরির ঘটনায় তারা সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। প্রশাসনের কাছে দাবি, দ্রুত এই চক্রটিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক।"
এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিজন কুমার সরকার জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটির তদন্ত চলছে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনতে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
news@26banglatv.com