সারা বাংলা খুলনা ঝিনাইদহ
টাকা আর নির্মমতার বলি সাগরিকা: ঝিনাইদহে বাবার বাড়ি থেকে ফেরা হলো লাশ হয়ে
২৬ বাংলা টিভি 24-May-2026 36
টাকা আর নির্মমতার বলি সাগরিকা: ঝিনাইদহে বাবার বাড়ি থেকে ফেরা হলো লাশ হয়ে
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
সংসার সুখের হবে, এই আশায় মাত্র তিন দিন আগে বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর হাত ধরে ফিরেছিলেন সাগরিকা আক্তার বুলবুলি (২২)। কিন্তু কে জানত, সেই ফেরাটাই তার জীবনের শেষ ফেরা ছিল? স্বামীর ঘরে ফেরার মাত্র ৭২ ঘণ্টার মাথায় নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হলো এই গৃহবধূকে। যৌতুকের লোভ আর পারিবারিক কলহের জের ধরে গভীর রাতে ঘুমন্ত স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পাষণ্ড স্বামী শিমুল হোসেনের বিরুদ্ধে।
রোববার (২৪ মে) ভোররাতে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামে এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী শিমুল হোসেন পলাতক রয়েছে।
সুখের খোঁজে ফিরে, পেলেন মৃত্যু
নিহত সাগরিকা আক্তার বুলবুলি সদর উপজেলার করিমপুর গ্রামের দিনমজুর ইন্তাজ আলী বিশ্বাসের মেয়ে। কয়েক বছর আগে পারিবারিকভাবেই গোয়ালপাড়া গ্রামের রহিম মিয়ার ছেলে শিমুল মিয়ার সাথে তার বিয়ে হয়।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই সাগরিকার ওপর চলত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন। ইদানীং বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল শিমুল। দিনমজুর বাবার পক্ষে সেই টাকা দেওয়া সম্ভব ছিল না। স্বামীর নির্মম নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে কিছুদিন আগেই সাগরিকা বাবার বাড়িতে চলে যান। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। গত তিন দিন আগে শিমুল নিজে গিয়ে বুঝিয়ে, আবার ভালো হয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাগরিকাকে নিজের বাড়িতে ফিরিয়ে আনে।
"আমার মেয়েটা শান্তিতে সংসার করতে চেয়েছিল। শিমুল এসে হাতজোড় করে নিয়ে গেল, আর তিন দিনের মাথায় আমার কলিজাটা কেটে শেষ করে দিল!" — অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলছিলেন নিহত সাগরিকার বাবা ইন্তাজ আলী।
রাতের আঁধারে বর্বরতা
শনিবার গভীর রাতে যখন পুরো গ্রাম নিঝুম, তখনই শিমুলের ঘরে শুরু হয় নৃশংসতা। টাকার দাবিতে আবারও সাগরিকার ওপর চড়াও হয় শিমুল। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে সাগরিকাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে সে। সাগরিকার আর্তচিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাকে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে রোববার ভোররাতে আইসিইউতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার সাথে সাথেই বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় ঘাতক স্বামী শিমুল।
স্বজনদের একটাই দাবি: "ফাঁসি চাই"
হাসপাতালের মর্গের সামনে সাগরিকার মা ও স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। একটি সাধারণ মেয়ের সাধারণ একটা সংসারের স্বপ্ন এভাবে টাকার লোভে পিষে মরে যাবে, তা কেউ মেনে নিতে পারছেন না। ঘাতক শিমুলকে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।
পুলিশ যা বলছে
ঘটনার পর পরই ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদউজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান:
* **তদন্ত:** পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
অভিযান: ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শিমুল পলাতক। তাকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। দ্রুতই তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
টাকা আর লোভের বলি হয়ে আরও একটি মেয়ের জীবনের আলো নিভে গেল। এই নিষ্ঠুরতার শেষ কোথায়, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।
news@26banglatv.com