সারা বাংলা খুলনা যশোর
সরকারি ক্যালেন্ডার উপেক্ষা করে শার্শায় অপরিপক্ক হিমসাগর আমে সয়লাব বাজার
২৬ বাংলা টিভি 12-May-2026 17
সরকারি ক্যালেন্ডার উপেক্ষা করে শার্শায় অপরিপক্ক হিমসাগর আমে সয়লাব বাজার
বাগআঁচড়া (যশোর) সংবাদদাতা :
যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া বেলতলা আমবাজারে প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া ‘আম ক্যালেন্ডার’ বা সময়সূচি তোয়াক্কা না করেই বাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে অপরিপক্ক হিমসাগর আম। অধিক মুনাফার আশায় একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও চাষি সময়ের আগেই এসব আম বাজারজাত করছেন। গাছ থেকে নামানো এসব কাঁচা আম দ্রুত পাকাতে ব্যবহার করা হচ্ছে ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য (ক্যামিকেল), যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাগুড়ি বেলতলা আম বাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শত শত মণ হিমসাগর আমে বাজার সয়লাব। অথচ উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, হিমসাগর আম বাজারজাত করার নির্ধারিত তারিখ আগামী ১৭ মে। প্রশাসনের এই নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ৫ দিন আগেই ট্রাক, পিকআপ ও ভ্যানে করে এসব আম দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ ও প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আমের গুণগত মান ও সুনাম ধরে রাখতে প্রতিবছর আম পাড়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। চলতি বছর ৬ মে থেকে গোবিন্দভোগ ও দেশি জাতের আম নামানোর অনুমতি থাকলেও হিমসাগর আমের জন্য সময় দেওয়া হয়েছিল ১৭ মে। কিন্তু বাস্তবে বাগুড়ি বেলতলা বাজারে চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাজারে আসা অধিকাংশ আমই এখনো পরিপক্ক হয়নি। অথচ রাসায়নিকের প্রভাবে বাইরে থেকে সেগুলো হলুদ ও আকর্ষণীয় দেখাচ্ছে।
বাজারে আসা সাধারণ ক্রেতারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, চড়া দামে আম কিনলেও তারা প্রতারিত হচ্ছেন। ক্রেতাদের অভিযোগ, "আমগুলো বাইরে থেকে সুন্দর দেখালেও ভেতরে এখনো শক্ত এবং টক। আমের প্রকৃত স্বাদ নেই। প্রশাসনের তদারকি না থাকায় এসব আম দেদারসে বিক্রি হচ্ছে।"
বেলতলা আম বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী অজুহাত খাড়া করে বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা আগেই আম নিতে আসায় তারা আগাম আম সংগ্রহ করছেন। বেশি লাভের আসায় তারা প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে আগেভাগেই বাগান থেকে আম সংগ্রহ করে বাজারে আনছেন।
এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, "আম ক্যালেন্ডারের নির্দেশনা উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। তবে কোনো গাছের আম যদি বিশেষ কারণে আগে পাকে, সেক্ষেত্রে উপ-কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রত্যয়ন নিয়ে বাজারজাত করা যাবে।" তবে বেলতলা বাজারে নির্ধারিত সময়ের আগে বিপুল পরিমাণ আম আসার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে এড়িয়ে যান।
অন্যদিকে, শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, অসাধু চক্রের এমন কর্মকাণ্ডে শার্শার বিখ্যাত আমের দীর্ঘদিনের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। অবিলম্বে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও বাজার অভিযান পরিচালনা না করলে ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি শার্শার আমের বাজার বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।
news@26banglatv.com