সারা বাংলা খুলনা ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহে বাম আন্দোলনের পুরোধা কমরেড আব্দুল হকের ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত
২৬ বাংলা টিভি 22-Dec-2025 37
ঝিনাইদহে বাম আন্দোলনের পুরোধা কমরেড আব্দুল হকের ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি :
উপমহাদেশের বাম আন্দোলনের পুরোধা ও বিপ্লবী কমিউনিষ্ট পার্টির তাত্বিক নেতা কমরেড আব্দুল হকের ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকী ঝিনাইদহে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সোমবার বিকালে ঝিনাইদহ শহরের প্রাণকেন্দ্র পায়রা চত্বরে এক স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।
জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ)-এর ঝিনাইদহ জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এই স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের জেলা সভাপতি তোজাম্মেল হোসেন।
স্মরণসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, কমরেড শাখাওয়াত হোসেন, ইমরান হোসেন ফারুক, সালাম শাহ, মানবেন্দ দাশ মিন্টু ও ওলিয়ার রহমান।
কমরেড তোজোম্মেল হোসেন তার বক্তব্যে তোজাম্মেল হোসেন বলেন, “শোষিত ও মেহনতি মানুষের মুক্তির লক্ষে আমৃত্যু লড়াই করে গেছেন কমরেড আব্দুল হক। বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে তার আদর্শ এবং দিকনির্দেশনা আগের চেয়েও বেশি প্রাসঙ্গিক।”
কমরেড আবদুল হক ১৯২০ সালের ২৩ ডিসেম্বর যশোর জেলার সদর থানার খড়কিতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ছিল শাহ মুহম্মদ আবুল খায়ের ও মায়ের নাম আমেনা খাতুন। আবদুল হক ছিলেন সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। অথচ সেই সম্ভ্রান্ত ব্যবস্থার বিরুদ্ধেই তিনি লড়াইয়ে নেমেছিলেন।
অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন কমরেড আব্দুল হক। ভাল ফল করেছিলেন প্রবেশিকা পরীক্ষায়। কলকাতার ইসলামিয়া কলেজ (মৌলানা আজাদ কলেজ), প্রেডিডেন্সি কলেজ সর্বএই তিনি তার মেধার স্বাক্ষর রাখেন। বি.এ অনার্স পাশের পর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন এম.এ ক্লাসে। অত্যন্ত সচেতনভাবেই তিনি সেদিন লেখাপড়া ত্যাগ করেছিলেন সাধারণ মানুষের প্রতি তার দায়বদ্ধতা থেকে।
সামন্তবাদী পীর পরিবার থেকে আগত হলেও তিনি যখন কলকাতায় পড়াশুনা করতেন সেই ছাত্রাবস্থায় তিনি ভারতের কমিউনিষ্ট পার্টির সংস্পর্শে আসেন এবং শ্রমিক ও শ্রমিকশ্রেণীর মার্কসবাদী-লেনিনবাদী আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে বৈপ্লবিক কর্মকান্ড শুরু করেন।
কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে অর্থনীতিতে বি.এ অনার্স পড়ার সময় তিনি ১৯৪১ সালে ভারতের কমিউনিষ্ট পার্টির প্রার্থী সভ্যপদ লাভ করেন। ছাত্রাবস্থায় তিনি পার্টির রাজনৈতিক নেতৃত্বে পরিচালিত ছাত্র সংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্ট ফেডারেশনের বঙ্গীয় প্রাদেশিক কমিটির দায়িত্ব পালন করেন।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এম.এ ভর্তি হলে তিনি পার্টির ডাকে সার্বক্ষণিক কর্মী হিসেবে কৃষক আন্দোলন গড়ে তোলার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। ১৯৪১ সালে যশোর জেলার বনগাঁয়ে তৃতীয় কৃষক সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
পাকিন্তান আমলে তিনি ১৯৫৮ সাল থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত পুর্ব পাকিস্তান কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৩৯ সালে হলওয়ের মনুমেন্ট ভাঙ্গার আন্দোলন, ১৯৪২ সালে দুর্ভিক্ষ প্রতিরোধ আন্দোলন, হাটের তোলা আদায় বন্ধ আন্দোলন, ১৯৫০ সালে রাজশাহী জেলে খাপড়া ওয়ার্ড আন্দোলন, বিভিন্ন কৃষক আন্দোলনসহ ১৯৬৯ সালে গণআন্দোলন ও গণঅভ্যূত্থান, ১৯৭১ এ যুদ্ধ ও পরবর্তীকালে বাংলাদেশের বিপ্লবী আন্দোলনে তিনি সক্রিয় অংশ গ্রহন করেন। এই সাম্রগ্রিক সময়কালে তিনি কমিউনিস্ট আন্দোলনে অগ্রণী বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন।
১৯৫৩ সালে কমরেড স্টালিনের মৃত্যুর পর সংশোধনবাদী ক্রুশ্চেভ চক্র সমাজতান্ত্রিক রাশিয়ার পার্টি ও রাষ্ট্র ক্ষমতা ১৯৭০ সালের ২০ জানুয়ারী আসাদ দিবসে ভাসানী ন্যাপ আয়োজিত ঢাকার পল্টন ময়দানে লক্ষাধিক লোকের জনসভায় তাঁর অসাধারণ বক্তৃতা আজও স্মরণীয় হয়ে আছে।
সম্ভবত এটাই ছিল তাঁর জীবনে প্রকাশ্যে শেষ জনসভা। লেখক হিসেবে কমরেড আবদুল হক ক্ষুরধার লেখনির অধিকারী ছিলেন। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা দশ।
সুদীর্ঘ ষাট বছরের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে পঁচিশ বছরই তাকে আত্মগোপনে কাটাতে হয়। ১৯৯৫ সালের ২২ ডিসেম্বর শুক্রবার রাত ১০টা ৫ মিনিটে বার্ধক্যজনিত অসুস্থ্যতায় কমরেড আবদুল হক ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। জানাজা শেষে তাঁকে মিরপুর বুদ্ধিজীবী গোরস্থানে দাফন করা হয়।
news@26banglatv.com