সারা বাংলা খুলনা ঝিনাইদহ
মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফেরা দুই সন্তানের জননী: বাঁচার আকুতিতে এক অসহায় মায়ের আর্তনাদ
২৬ বাংলা টিভি 21-Dec-2025 51
মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফেরা দুই সন্তানের জননী: বাঁচার আকুতিতে এক অসহায় মায়ের আর্তনাদ
ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
গলাকাটা ক্ষত নিয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন এক মা। পাশে বসে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে অবুঝ দুটি শিশু। যাদের এখনো বোঝার বয়স হয়নি যে, তাদের জন্মদাতা পিতাই তাদের মায়ের টুঁটি চেপে ধরেছিল চিরতরে স্তব্ধ করে দিতে।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে পাষণ্ড স্বামীর ধারালো অস্ত্রের আঘাত থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরলেও, এখন দারিদ্র্য আর চিকিৎসার খরচের কাছে হার মানতে বসেছেন এই অসহায় নারী। মৃত্যুর থাবা থেকে ফিরে আসা এই জননী এখন কেবল নিজের জন্য নয়, তার দুই এতিমপ্রায় সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য বাঁচতে চান।
সেই বিভীষিকাময় মুহূর্ত
পারিবারিক কলহের জেরে নিজ ঘরেই স্বামীর হাতে নৃশংসভাবে আক্রান্ত হন তিনি। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শ্বাসনালী প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। রক্তে ভিজে গিয়েছিল ঘরের মেঝে। প্রতিবেশীদের সহায়তায় দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ায় প্রাণ রক্ষা পেলেও শরীরের সেই গভীর ক্ষত এখনো শুকায়নি, আর মনের ক্ষত হয়তো কোনোদিন শুকাবেও না।
এখন বড় বাধা অভাব
বর্তমানে তিনি কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। নিয়মিত ওষুধ, পুষ্টিকর খাবার এবং পরবর্তী উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন মোটা অংকের টাকা। দিনমজুর পরিবারের এই মেয়ের পক্ষে সেই ব্যয়ভার বহন করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘরে খাবার নেই, তার ওপর চিকিৎসার খরচ—সব মিলিয়ে দুই সন্তান নিয়ে তিনি এখন দিশেহারা।
আপনার একটু সহযোগিতাই পারে জীবন বাঁচাতে
আমাদের সামান্য সহানুভূতি আর সহযোগিতার হাত এই অসহায় মাকে নতুন জীবন দিতে পারে। যে হাতুড়ি বা ধারালো অস্ত্রের আঘাত সমাজকে কলঙ্কিত করে, সেই সমাজেই আবার ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার মানুষ আছে—এই বিশ্বাসটুকু আজ বড় প্রয়োজন।
বিবেকের কাছে প্রশ্ন: ওই ছোট দুটি শিশুর কী দোষ? তারা কি তাদের মায়ের আদর মাখা ছায়াটা হারিয়ে ফেলবে কেবল টাকার অভাবে?
আবেদন: আসুন, আমরা যার যার সাধ্যমতো এই অসহায় বোনের পাশে দাঁড়াই। আপনার দেওয়া সামান্য অনুদান একটি ভাঙা সংসারকে জোড়া দিতে পারে এবং একজন মাকে তার সন্তানদের কাছে ফিরিয়ে দিতে পারে।
"মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য।" আজ আপনার বাড়িয়ে দেওয়া ক্ষুদ্র সাহায্যই হতে পারে এই অসহায় পরিবারের শেষ আশ্রয়।
news@26banglatv.com