সারা বাংলা খুলনা ঝিনাইদহ
ভোটের মাঠে ধানের শীষের মহাবিপর্যয়: ঝিনাইদহে বিএনপির দুর্গ গুঁড়িয়ে জামায়াতের জয়জয়কার! তৃণমূলে চরম ক্ষোভ ও বিষাদ
২৬ বাংলা টিভি 28-Feb-2026 33
ভোটের মাঠে ধানের শীষের মহাবিপর্যয়: ঝিনাইদহে বিএনপির দুর্গ গুঁড়িয়ে জামায়াতের জয়জয়কার! তৃণমূলে চরম ক্ষোভ ও বিষাদ: নেপথ্যে কি আওয়ামী কানেকশন ও অভ্যন্তরীণ বিশ্বাসঘাতকতা?
রফিক মন্ডল, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) থেকেঃ
একসময়ের অজেয় ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ঝিনাইদহের সংসদীয় আসনগুলোতে বিএনপির নজিরবিহীন ভরাডুবিতে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে দলটির তৃণমূল। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত টানা চারবার যে মাটি ছিল ধানের শীষের অতন্দ্র প্রহরী, সেখানে আজ আসন হারানোর শোকে মুহ্যমান কর্মীরা। নির্বাচনের দুই সপ্তাহ পার হলেও শহর থেকে গ্রামের চায়ের দোকান—সর্বত্রই আলোচনার ঝড়: কীভাবে তৃতীয় শক্তির কাছে ধরাশায়ী হলো দীর্ঘদিনের এই রাজনৈতিক পরাশক্তি?
অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, এই বিপর্যয় কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং কৌশলগত ভুল এবং অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলার এক করুণ আখ্যান।
নির্বাচনের আগে বিএনপির অনেক বিতর্কিত কর্মকাণ্ড সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের মনে ক্ষোভের আগুন জ্বালিয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে, কোটচাঁদপুর ও মহেশপুরে বিএনপির চিহ্নিত নির্যাতনকারী ও আওয়ামী লীগের বিতর্কিত নেতাদের ধানের শীষের প্রচারে নামানো হয়েছিল। নির্যাতিত বিএনপি পরিবারগুলো এই দৃশ্য মেনে নিতে পারেনি। ফলে অভিমানী কর্মীরা গোপনে জামায়াতের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ধানের শীষের পরাজয় ত্বরান্বিত করেন।
৫ আগস্টের পর এলাকায় গজিয়ে ওঠা তথাকথিত বিএনপি নেতাদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড এই পরাজয়ের বড় কারণ বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা। পাড়া-মহল্লায় চাঁদাবাজি, পরিবহন স্ট্যান্ড ও জমি দখল, হাট-বাজার ও বিল বাঁওড় দখলের মহোৎসব এবং কতিপয় নেতার অস্বাভাবিক সম্পদ বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের মধ্যে বিএনপির ভাবমূর্তি ধূলিসাৎ করে দেয়। ত্যাগী কর্মীদের অবমূল্যায়ন করে বিতর্কিতদের নেতৃত্বে বসানোয় প্রচারযুদ্ধে প্রয়োজনীয় উদ্যম হারিয়ে ফেলেছিল দলটি।
তৃণমূলের তথ্য অনুযায়ী, বিএনপি যখন দখলদারি আর অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ব্যস্ত, জামায়াত তখন গ্রামগঞ্জে ‘নীরব সংগঠন’ গড়ে তুলেছে। নেপা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমিনুর রহমান জানান, জামায়াতের নারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ ভোটারদের মনস্তাত্ত্বিক বলয়ে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। এমনকি দেখা গেছে, স্বামী বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতি হলেও স্ত্রী জামায়াতের রুকন হিসেবে ভোট দিয়েছেন দাঁড়ি পাল্লায়।
ঝিনাইদহ-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী মেহেদী হাসান রণির পরাজয়ের নেপথ্যে দুর্বল সাংগঠনিক সমন্বয়কে দায়ী করা হচ্ছে। অন্যদিকে, জামায়াত ছিল সুসংগঠিত এবং লক্ষ্যভিত্তিক। ভোটের দিন ভোরেই কেন্দ্র দখল ও ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে জামায়াতের কৌশলের কাছে অসহায় হয়ে পড়ে বিএনপি।
পরাজয় প্রসঙ্গে ঝিনাইদহ-৩ আসনের প্রার্থী মেহেদী হাসান রণি বলেন, "জামায়াত কালো টাকা এবং ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে নারী ভোটারদের বিভ্রান্ত করেছে। এছাড়া দলের কিছু কেন্দ্রীয় নেতা মাঠে না নামায় আমরা কাঙ্ক্ষিত ফল পাইনি। অথচ এর আগে এই আসনে জামায়াত এককভাবে লড়ে কখনোই বিএনপির ধারেকাছে আসতে পারেনি।"
ঝিনাইদহের এই রাজনৈতিক ভূমিকম্প বিএনপির আগামীর অস্তিত্বের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা। তৃণমূল কর্মীরা মনে করছেন, এখনই শুদ্ধি অভিযান ও আমূল পরিবর্তন না আনলে এই হৃত গৌরব উদ্ধার করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
news@26banglatv.com