সারা বাংলা ঢাকা ঢাকা
কবির পাশে চিরনিদ্রায় বিপ্লবী ওসমান হাদি: অশ্রুসিক্ত বিদায় জানালো দেশ
২৬ বাংলা টিভি 20-Dec-2025 55
কবির পাশে চিরনিদ্রায় বিপ্লবী ওসমান হাদি: অশ্রুসিক্ত বিদায় জানালো দেশ
ঢাকা প্রতিনিধিঃ
বাংলার বিদ্রোহী চেতনার ধারক জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের চিরচেনা সেই গান— ‘মসজিদেরই পাশে আমায় কবর দিও ভাই’— আজ যেন এক নতুন শোকগাঁথার সাক্ষী হলো। কবির সেই পবিত্র সান্নিধ্যেই চিরতরের জন্য ঠাঁই নিলেন গুলিতে অকালে ঝরে যাওয়া তরুণ প্রাণ, শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি। আজ শনিবার বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
শেষ বিদায়ের মুহূর্ত
দুপুর আড়াইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয় শহীদ ওসমানের জানাজা। প্রিয় মুখটিকে শেষবারের মতো দেখতে জানাজাস্থলে ঢল নামে হাজারো মানুষের। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে শুরু করে সংসদ ভবনের সংলগ্ন মাঠগুলো পরিণত হয়েছিল জনসমুদ্রে। রাজনৈতিক সহযোদ্ধা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ— সবার চোখে ছিল জল, আর কণ্ঠে ছিল শোকের আবহ।
জানাজা শেষে বিকেল ৩টার দিকে মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বরে প্রবেশ করে, তখন এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। উপস্থিত জনতা আর সহপাঠীদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে বাতাসের স্তব্ধতা। কবির কবরের পাশেই পরম মমতায় শায়িত করা হয় এই বীরকে।
জীবন ও মৃত্যুর লড়াই
গত ১২ ডিসেম্বর, এক রক্তঝরা শুক্রবারের জুমার নামাজ শেষে পল্টনে আন্দোলনের উত্তাল মুহূর্তে বুলেটের আঘাতে লুটিয়ে পড়েন ওসমান হাদি। এরপর থেকেই শুরু হয় যমে-মানুষে লড়াই। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এভারকেয়ার, এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সিঙ্গাপুরে। কিন্তু নিয়তি তাকে ফেরাতে দেয়নি। দীর্ঘ লড়াই শেষে গত বৃহস্পতিবার রাতে দূর পরবাসে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
গতকাল শুক্রবার তার মরদেহ দেশে পৌঁছালে এক শোকাতুর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। রাতভর রাখা হয়েছিল হৃদরোগ হাসপাতালের হিমঘরে, যেন হিমশীতল পাথর হয়ে রইল একটি তাজা প্রাণ।
শোকাতুর জনপদ
ওসমান হাদির প্রস্থান কেবল একটি মৃত্যু নয়, বরং একটি আদর্শের ত্যাগ হিসেবে দেখছেন উপস্থিত সাধারণ মানুষ। জানাজায় আসা এক শোকার্ত তরুণ বলেন, "ওসমান চেয়েছিলেন মুক্ত বাতাসে শ্বাস নিতে, আজ সে মুক্ত হলো ঠিকই, কিন্তু আমাদের রেখে গেল এক গভীর শূণ্যতায়।"
এখন থেকে জাতীয় কবির কবরের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পথচারীরা কেবল বিদ্রোহী কবির কথা নয়, মনে করবেন সেই তরুণকেও, যিনি কবির আদর্শ বুকে নিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক পেতে দিয়েছিলেন।
news@26banglatv.com