Logo
বুধবার | ১৩ মে ২০২৬ ইং | বাংলা
ব্রেকিং নিউজঃ

সারা বাংলা ঢাকা গাজীপুর

স্বেচ্ছায় নিখোঁজের কথা আদালতে স্বীকার করলেন মুফতি মোহেববুল্লাহ

২৬ বাংলা টিভি   28-Oct-2025   52

Photo

স্বেচ্ছায় নিখোঁজের কথা আদালতে স্বীকার করলেন মুফতি মোহেববুল্লাহ


গাজীপুর প্রতিনিধিঃ

পঞ্চগড়ে উদ্ধার গাজীপুরের একটি মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ মোহেববুল্লাহ মিয়াজী (৬০) স্বেচ্ছায় নিখোঁজ হওয়ার কথা আদালতে স্বীকার করেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪-এর বিচারক যুবায়ের রশীদের কাছে তিনি জবানবন্দি দেন। পরে বিচারক তাকে পুলিশের মাধ্যমে পরিবারের জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ দেন। মোহেববুল্লাহ গাজীপুরের টঙ্গীর টিঅ্যান্ডটি কলোনি জামে মসজিদের খতিব।

 

টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহেদুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, মোহেববুল্লাহ আদালতের কাছে প্রকৃত ঘটনা উল্লেখ করে স্বেচ্ছায় নিখোঁজ হওয়ার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে তাকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এর আগে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, মুফতি মোহেববুল্লাহ পায়ে শিকল লাগিয়ে নিজেই অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন। নিজেদের সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান।

 

মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান বলেন, মোহেববুল্লাহ অপহরণের যে বর্ণনা দিয়েছেন এবং যে সময় ও স্থান থেকে তাকে তুলে নেওয়ার কথা বলেছেন, সেই সময়ের ওই সব এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ অপহরণের কোনো প্রমাণ পায়নি। তিনি নিজেই নিজের পায়ে শিকল লাগিয়ে শুয়ে ছিলেন। তাকে উদ্ধারের পর মামলায় যা বলেছেন, তার পুরোটাই সাজানো গল্প।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মুফতি মোহেববুল্লাহ তাকে অপহরণ করা হয়েছিল—এমন অভিযোগে ২৪ অক্টোবর টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি মামলা করেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মামলার তদন্তকারী দল বাদীর বাসা থেকে ঘটনাস্থল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নেয়। তদন্তকালে দেখা যায়, এজাহারে চার থেকে পাঁচজন বাদীকে জোর করে অ্যাম্বুলেন্স তোলার কথা বলা হলেও তিন ঘণ্টার মধ্যে যেখানে কোনো অ্যাম্বুলেন্সের চলাচলের দৃশ্য সিসি ক্যামেরায় দেখা যায়নি। আর যেসব স্থানের কথা বাদী উল্লেখ করেছেন, সেগুলোও যাচাই-বাছাই করা হয়।

মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গত ২২ অক্টোবর সকালে টঙ্গীর টিঅ্যান্ডটি কলোনি এলাকা থেকে হাঁটতে বেরিয়ে খতিব মোহেববুল্লাহ (৬০) অপহৃত হন বলে অভিযোগ করা হয়। এজাহারে বলা হয়, একটি অ্যাম্বুলেন্সে ৪-৫ জন লোক তাকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। এরপর প্রায় একদিন ও একরাত নির্যাতনের পর তার দাড়ি কেটে দেওয়া হয় এবং কাঁচের বোতল দিয়ে শরীরে আঘাত করা হয়। শেষে পঞ্চগড়ে একটি গাছের সঙ্গে শিকল দিয়ে পা বেঁধে তাকে বিবস্ত্র অবস্থায় ফেলে রেখে যাওয়া হয়। তার মোবাইল ফোন ও সিম কার্ডও ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। পরে স্থানীয়রা ‘৯৯৯’-এ ফোন দিলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

গত ২৪ অক্টোবর মুফতি মোহেববুল্লাহ নিজেই টঙ্গী পূর্ব থানায় এই এজাহার দায়ের করেন।

তবে মামলাটির তদন্তে নেমে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। জিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার তাহেরুল হক চৌহান জানান, তদন্তে দেখা যায়, ভুক্তভোগী তার বাসা থেকে একা হেঁটে বের হন এবং কোথাও কোনো অ্যাম্বুলেন্সের চলাচল দেখা যায়নি। বাদী তার এজাহারে ৪-৫ জন ব্যক্তি তাকে অ্যাম্বুলেন্স তুলে নিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করলেও ওই সময়ের তিন ঘণ্টার মধ্যে সেখানে সিসি ক্যামেরায় কোনো অ্যাম্বুলেন্স চলাচল করতে দেখা যায়নি। প্রযুক্তির সহায়তায় ২২ অক্টোবর সকাল ১১টা ৩৬ মিনিটে তার অবস্থান ঢাকার সোবহানবাগ এলাকায় শনাক্ত করা হয়।

পুলিশ জানায়, মোহেববুল্লাহ মিয়াজী এরপর গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসের টিকিট কেটে দুপুর ২টায় পঞ্চগড়ের উদ্দেশে রওনা হন। যাত্রাপথে বগুড়ার শেরপুরে পেন্টাগন হোটেলে বাস বিরতি দিলে তিনি নেমে নামাজ পড়ে আবার বাসে ওঠেন, যার সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশের হাতে এসেছে।

পুলিশের ভাষ্যমতে, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ মোহেববুল্লাহর সামনে উপস্থাপন করা হলে তিনি জানান, ঘটনার দিন সকালে বাসা থেকে বেরিয়ে হাঁটার সময় তার আরও সামনে এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা হয়। এরপর তিনি অটোরিকশা ও সিএনজি পরিবর্তন করে ঢাকার গাবতলীতে পৌঁছান এবং সেখান থেকে পঞ্চগড় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পঞ্চগড়ে বাস থেকে নেমে গভীর রাতে অন্ধকারে প্রস্রাব করার সময় ‘প্রস্টেট গ্রন্থির রোগের কারণে’ তার পায়জামা ও পাঞ্জাবি ভিজে যায়, ফলে তিনি সেগুলো খুলে ফেলেন। এরপর ঠাণ্ডা ও ক্লান্তির কারণে তিনি আর পোশাক পরতে পারেননি। এ সময় রাস্তায় পড়ে থাকা একটি ছোট তালাসহ শিকল তিনি নিজের পায়ে জড়িয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। ঘুম থেকে উঠে নিজেকে তিনি পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে দেখতে পান।

তার ভাষ্য, ‘আশেপাশের উলামায়ে কেরামগণ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অবচেতন মনে তিনি বিভিন্ন ধরনের কথাবার্তা বলেন।’

এই ঘটনায় অন্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা আছে কি না, কিংবা কী উদ্দেশে বা কার প্ররোচনায় তিনি এমন কাজ করেছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। বিষয়টি আরও গভীরভাবে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান  বলেন, মোহেববুল্লাহর স্বীকারোক্তির কোনো ভিডিও ভাইরালের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। আজ জিএমপির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে যা বলা হয়েছে, সেটাই আনুষ্ঠানিক বক্তব্য।


news@26banglatv.com


Photo

শ্বাসকষ্ট বাড়ায় আইসিইউতে খালেদা জিয়া

নিউজ ডেস্কঃ রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির...

Photo

৪৯ বাংলাদেশিসহ ১১১ অভিবাসীকে ফেরত পাঠাল মালয়েশিয়া

নিউজ ডেস্কঃ ৪৯ বাংলাদেশিসহ মোট ১১১ জন বিদেশি অভিবাসীকে ফেরত...

Photo

আবারও বিয়ের পিঁড়িতে হিরো আলম, পাত্রী কে

বিনোদন ডেস্ক : জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম ওরফে হিরো...

Photo

শ্রীলঙ্কায় মেয়াদোত্তীর্ণ ত্রাণ পাঠিয়ে সমালোচনার মুখে পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের বিপর্যস্ত শ্রীলঙ্কায়...

© 2026 ২৬ বাংলা টিভি কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত