Logo
শনিবার | ৩ অক্টোবর ২০২৬ ইং | বাংলা
ব্রেকিং নিউজঃ

সারা বাংলা খুলনা যশোর

শার্শায় বোরোর বাম্পার ফলন, তবুও লোকসানে দিশেহারা কৃষক

২৬ বাংলা টিভি   27-Apr-2026   37

Photo

শার্শায় বোরোর বাম্পার ফলন, তবুও লোকসানে দিশেহারা কৃষক


​আজিজুল ইসলাম,বাগআঁচড়া (যশোর) :  

যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া ও রুদ্রপুরসহ বিভিন্ন মাঠে পুরোদমে শুরু হয়েছে বোরো ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ। সোনালী ধানের ভারে মাঠ নুয়ে পড়লেও কৃষকের চোখেমুখে এখন দুশ্চিন্তার ছাপ। বিঘা প্রতি ২২ থেকে ৩০ মণ পর্যন্ত ফলন হলেও ধানের বর্তমান বাজারমূল্যে উৎপাদন খরচই উঠছে না অনেক কৃষকের। বিশেষ করে যারা জমি লিজ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন, তাদের লোকসানের পাল্লা বেশ ভারী।

​সরেজমিনে রুদ্রপুর গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, কৃষকরা ধান কাটা ও মাড়াই নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনুকূল আবহাওয়ায় এবার ধানের দানার পুষ্টতা ও রঙ বেশ ভালো হয়েছে। তবে এই ভালো ফলনও কৃষকের পকেটে স্বস্তি ফেরাতে পারছে না।

​রুদ্রপুর গ্রামের কৃষক আইউব হোসেন জানান তার কষ্টের কথা। এ বছর তিনি বিঘা প্রতি ১২ হাজার টাকা দরে জমি লিজ নিয়ে ধান চাষ করেছেন। তার জমিতে সর্বোচ্চ ২৮ মণ পর্যন্ত ফলন হয়েছে। বর্তমান বাজারে প্রতি মণ ধান ১১২০ টাকা দরে বিক্রি করে তিনি দেখছেন, খরচ বাদে বিঘা প্রতি তার প্রায় ১০ হাজার টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে।

​একই গ্রামের আরেক চাষি এরশাদ আলীর হিসাব আরও করুণ। তিনি ৯ হাজার টাকা বিঘা দরে জমি লিজ নিয়েছিলেন। তার জমির সেচ খরচ: ৩,০০০ টাকা লাঙ্গল, মজুরি ও সার-কীটনাশক: ৭,০০০ টাকা ধান কাটা, বাঁধা ও মাড়াই: ৬,০০০ টাকা ​জমি লিজ: ৯,০০০ টাকা ​মোট খরচ: ২৫,০০০ টাকা

​বিপরীতে তিনি ধান পেয়েছেন ২২/২৪ মণ। বর্তমান বাজারে ১১০০ টাকা মণ দরে ধান বিক্রি করে তার প্রাপ্ত আয় মাত্র ২৪,২০০ টাকা। সব মিলিয়ে হাড়ভাঙা খাটুনির পর লাভের বদলে তাকেও লোকসান গুণতে হচ্ছে।

রুদ্রপুর বাজারের ধান ব্যাবসায়ী আব্দুল লতিফ জানান, তিনি ১১৩০ টাকা দরে প্রতিমন ধান কিনছেন। আড়ত পর্যন্ত ধান পৌছাতে ৪০/৫০ টাকা অতিরিক্ত খরচ পড়ছে। ব্যাবসায়ী মোশারফ হোসেন জানা, তিনি ১১৪০/- টাকা মন দরে ধান কিনছেন। অন্যদিকে একই বাজারের বীজ ব্যাবসায়ী ইমানুর রহমান ধান কিনছেন ১১৬০/- টাকা মন দরে।

​চাষিদের মতে, ডিজেল, সার এবং দিনমজুরের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ কয়েকগুণ বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় ধানের সরকারি সংগ্রহ মূল্য বা বর্তমান খোলাবাজারের দাম কৃষকদের অনুকূলে নেই।

​হতাশ কণ্ঠে এক চাষি বললেন, সব জিনিসের দাম চড়া, কিন্তু আমরা হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে ফসল ফলাইয়াও পকেটে টাকা নিতে পারছি না। এভাবে লস হলে সামনের মৌসুমে চাষ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

এলাকার সাধারণ কৃষকদের দাবি, সরকারিভাবে ধান কেনা বৃদ্ধি এবং বাজার মনিটরিং জোরদার না করলে প্রান্তিক চাষিরা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা জানান, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় মোট ২৩ হাজার ৪৩৫ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার (২৩ হাজার ৪৩০ হেক্টর) চেয়ে কিছুটা বেশি। গত মৌসুমে ২৩ হাজার ৪১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছিল। সে তুলনায় এবার ২৪ হেক্টর বেশি জমিতে চাষ হয়েছে। সময়মতো সার সরবরাহ ও কৃষকদের নিবিড় পরিচর্যার কারণে এ বছর বোরো ধানের ভালো ফলন হয়েছে।


news@26banglatv.com


Photo

অসুস্থ শ্রমিককে আর্থিক সহায়তা প্রদান করলো কালীগঞ্জ উপজেলা অলংকার প্রস্তুতকারী শ্রমিক ইউনিয়ন

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ কালীগঞ্জ উপজেলা অলংকার প্রস্তুতকারী শ্রমিক...

Photo

প্রায় ৮ ঘণ্টা আগুনে পুড়ল ফিলিপাইনের বিশাল ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা

ফিলিপাইনের রাজধানীতে একটি উপকূলীয় শহরের সবচেয়ে বড় বস্তি এলাকায়...

Photo

তিন কলেজের সংঘাত : গুলিবিদ্ধসহ আহত ৩৫ জন ঢামেকে

সোমবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তাদের আহত অবস্থায় হাসপাতালের...

Photo

ছাত্র সংগঠনগুলোকে নিয়ে বৈঠকের ডাক বৈষম্যবিরোধীদের

সোমবার (২৫ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে...

© 2026 ২৬ বাংলা টিভি কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত