সারা বাংলা রাজশাহী সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জে অতিথি পাখির কলরবে মুখর চলনবিলের নদী-খাল-বিল
২৬ বাংলা টিভি 03-Jan-2026 40
সিরাজগঞ্জে অতিথি পাখির কলরবে মুখর চলনবিলের নদী-খাল-বিল
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
শীতের আগমন বার্তা নিয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখির ডানার শব্দে মুখর হয়ে উঠছে সিরাজগঞ্জের চলনবিল। নদী-নালা, খাল-বিল, জলাশয়, পুকুর আর বিস্তীর্ণ ধানের ক্ষেতজুড়ে এখন প্রকৃতির এক অপার সৌন্দর্য। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থাকলেও নিরাপদ পরিবেশ ও পর্যাপ্ত খাদ্যের কারণে চলনবিল পরিণত হয়েছে অতিথি পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবছরের মতো এবারও শীতের শুরুতেই তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিযায়ী পাখির আগমন শুরু হয়েছে। বস্তুল, উলিপুর, পঁওতা, সোলাপাড়া, দিঘীসগুনা, কুন্দইল, সগুনা, লালুয়া মাঝিরা, মালশিনসহ প্রায় ২০ থেকে ২৫টি গ্রামের জলাভূমিতে দেখা মিলছে নানা প্রজাতির পাখির। কিচিরমিচির শব্দ আর উড়াউড়ির দৃশ্যে পুরো এলাকা যেন নতুন রূপে সাজছে।
চলনবিলে এখন দেখা যাচ্ছে বালিহাঁস, নীলশির, শামুকখোল, ত্রিশূল বক, রাতচরা, কোড়া, লালশির, বড় ও ছোট সরালি প্রজাতির পাখি। এছাড়া ডাহুক, গাঙচিল, বক, ছোট ও বড় পানকৌড়ি, কাদাখোঁচা, মাছরাঙাসহ আরও অনেক পরিচিত-অপরিচিত পাখি মাঠ আর জলাশয়জুড়ে বিচরণ করছে। গাছের ডালে ডালে তাদের বাসা বাঁধার দৃশ্যও চোখে পড়ছে।
উলিপুর গ্রামের বাসিন্দা শাহদত জানান, আগের কয়েক বছরের তুলনায় এবার পাখির সংখ্যা চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। তাঁর ভাষায়, “খাবারের অভাব নেই, পরিবেশও আগের চেয়ে নিরাপদ। তাই শীত পুরোপুরি আসার আগেই এত পাখি চলে এসেছে—যা কয়েক বছর আগে দেখা যেত না।”
একসময় চলনবিলে পাখি শিকার ছিল নিত্যদিনের চিত্র। তবে মানুষের সচেতনতা বাড়ায় এখন শিকারির উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কমেছে। এতে করে ধীরে ধীরে ফিরে আসছে হারিয়ে যাওয়া পাখিরা।
চলনবিল রক্ষা আন্দোলন কমিটির তাড়াশ উপজেলা শাখার আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক রাজু বলেন, পাখি শিকার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও অনেক শিকারি ও ক্রেতার মধ্যে এখনও তেমন ভয় নেই। তাঁর মতে, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো জরুরি। তাহলেই চলনবিলের জীববৈচিত্র্য টেকসইভাবে রক্ষা করা সম্ভব।
তাড়াশ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, শীত মৌসুম শুরু হওয়ায় বিভিন্ন জাতের পাখির আগমন স্বাভাবিক। তবে রাতের আঁধারে কিছু অসাধু ব্যক্তি পাখি শিকারে জড়াচ্ছে। বিশাল বিল এলাকায় তাদের শনাক্ত করা কঠিন হলেও নজরদারি ও সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এম নজরুল ইসলাম বলেন, এ বছর চলনবিলে স্বাভাবিক মাত্রার বন্যা হওয়ায় জলাশয়ে খাদ্যের প্রাচুর্য তৈরি হয়েছে। এই খাদ্যসমৃদ্ধ পরিবেশই বালিহাঁস, শামুকখোলসহ নানা পরিযায়ী পাখিকে চলনবিলে আসতে আকৃষ্ট করছে। ফলে অন্য বছরের তুলনায় এবার পাখির আনাগোনা বেশি।
তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান বলেন, মানুষের সচেতনতা ও প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ একসঙ্গে চললে শুধু চলনবিল নয়, সারাদেশেই অতিথি পাখির নিরাপদ আবাস গড়ে উঠবে। পাখি শিকারিদের অবস্থান শনাক্ত করা গেলে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
news@26banglatv.com